বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ ।। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১০ জিলহজ ১৪৪৭


‘আইনের দুর্বলতা ও প্রয়োগহীনতা অপরাধ প্রবণতার পেছনে প্রধান কারণ’ 

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আইনের দুর্বলতা অপরাধ প্রবণতার পেছনে প্রধান কারণ বলে মন্তব্য করেছেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমাদ। তিনি বলেন, অপরাধ যত বড়ই হোক না কেন, ছয়মাসের মধ্যে জামিনে বের হওয়া যায়। আর কোনো অপরাধীর চুড়ান্ত বিচার এবং তা কার্যকর করার হার এতো কম যে, শাস্তির ভয় অপরাধীদের মনে স্থানই পায় না। ফলে অপরাধ করতে অপরাধীরা দ্বিতীয়বার ভাবছে না। এরসাথে রয়েছে আইনের প্রয়োগহীনতা। অপরাধীদের পাকড়াও করতে প্রশাসনের অনিহা, পাকড়াও করলেও নানাভাবে মামলার ইজহার দুর্বল দেখানো, সাক্ষী উপস্থাপন না করা ইত্যাদি কারণে অপরাধীদের প্রকৃত বিচার হয়-ই না। ফলে দেশে খুন,গুম, ছিনতাই, ডাকাতি বেড়েই চলছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে দেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির তথ্য উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন। 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন, গত তিন মাসে সারাদেশে ৮৫৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। গড়ে প্রতি মাসে খুনের ঘটনা ২৮৪টি । প্রতিদিন ৯-এর বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে। গণঅভ্যুত্থানের পরের বছর ২০২৫ সালে এবং তার আগের বছরের খুনের ঘটনাও এর তুলনায় অনেক কম।

মাওলানা ইউনুস আহমাদ আরও বলেন, চলতি বছরের তিন মাসে ডাকাতি হয়েছে ১৩৩টি, ছিনতাই ৪৩৯টি ও চুরির ঘটনা ২ হাজার ৩১৮টি। নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৩ হাজার ৯৪৭টি। তিন মাসে পুলিশের ওপরে হামলার ঘটনা ঘটেছে ১৪৭ বার। এই মাত্রার অপরাধ আসলেই উদ্বেগজনক। এই তিনমাসের দেড়মাস নির্বাচিত সরকারের অধিনে দেশ পরিচালিত হয়েছে। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে আশা করা হয়েছিল, আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু আশাব্যাজ্ঞক কিছু চোখে পড়ছে না। বরং কোন কোন ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, সারাদেশে বিভিন্ন থানা ও পুলিশের স্থাপনা থেকে ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬ লাখ ৫২ হাজার আট রাউন্ড গুলি লুট হয়েছে। এখন পর্যন্ত এক হাজার ৩২৩টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। গুলি উদ্ধার হয়নি দুই লাখ ৫৭ হাজার ১৪৪ রাউন্ড। এসব অস্ত্র অপরাধে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সার্বিকভাবে দেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। জনমনে আশংকা বিরাজ করছে। 

অধ্যক্ষ ইউনুস আহমাদ বলেন, বিদ্যমান আইন ও বিচারব্যবস্থার আমূল সংস্কার দরকার। অপরাধীর দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আইন-শৃংখলা বাহিনীগুলোকে আরো দক্ষতা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ