সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দেশে ফিরেছেন মালয়েশিয়ায় কুরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হাফেজ হিরা ইউপি নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে ইসির বৈঠক ‘নারী-শিশুর সহিংসতা ও যৌন হয়রানিতে 'জিরো টলারেন্স' কঠোরভাবে বাস্তবায়নের বিকল্প নেই’ আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক যা চাচ্ছে, নতুন সরকারও তাই চাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে ইউনিট প্রতি সাশ্রয় হবে ৫-৬ টাকা ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু আজ, প্রচারণার নির্দেশ আজও রিয়াদগামী ২ ফ্লাইট বাতিল, ৩ দিনে মোট ৯টি সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে ফের হামলা: নিহত ১, আহত ১১ স্ত্রীর মৃত্যুর সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর নামাজরত অবস্থায় প্রাণ হারালেন স্বামী সৌদি বিমানবন্দরে হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির ১৩ জনই ওমরাহযাত্রী

যে কারণে প্রাণ দিতে হলো ইসলামী যুব আন্দোলন নেতাকে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

একটি মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা জাহিদ হাসান বুলবুলকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর তার রিকশার গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা করাই কাল হয়ে দাঁড়ায় বুলবুলের জন্য। মামলা প্রত্যাহারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে তাকে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর বুলবুলের রিকশার গ্যারেজে হামলা ও লুটপাট চালায় সিফাত বাহিনী। এ ঘটনায় শেখ সিফাতকে প্রধান আসামি করে বন্দর থানায় মামলা করেন বুলবুল। মামলা দায়েরের পর থেকেই সেটি তুলে নিতে তাকে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ স্বজনদের।

তাদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাতে সালেহনগর এলাকায় বুলবুলকে একা পেয়ে সিফাত ও তার সহযোগীরা ফের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বুলবুলের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় বুলবুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত বুলবুল ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের বন্দর থানা শাখার নেতা ছিলেন। তার মৃত্যুতে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।

স্বজনদের অভিযোগ, একটি মামলা প্রত্যাহার না করার কারণেই বুলবুলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে এ হত্যাকাণ্ড এড়ানো সম্ভব হতো।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মামলা প্রত্যাহারের চাপ থেকে হত্যাকাণ্ড- স্বজনদের এমন অভিযোগের পর বুলবুল হত্যার ঘটনায় এলাকায় নতুন করে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনার দাবি উঠেছে।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ