মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :

আমার জলশৈশব ।২য় পর্ব। জল ও জালের কাব্য

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

salahuddin

সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর : চকে মাছ ধরতে ঝাকি জালের ব্যবহার করতো কেউ কেউ। তবে চকের মধ্যে ঝাকি জাল ততোটা সুবিধার জিনিস না। ঝাকি জাল দিয়ে মাছ মারতে হয় পুকুরে কিংবা নদীতে। তাছাড়া খালের মুখেও জায়গা সাফ করে ঝাকি জাল ব্যবহার করা হয়। চকে বা বিলে তো বর্ষা মৌসুমে প্রচুর আগাছা জন্মে। আবার পানি আসার আগে চকে যে ধান বা পাট থাকে, সেগুলো কেটে ফেলার পরও ফসলের গোড়াগুলো কিন্তু ক্ষেতেই রয়ে যায়। সেগুলোতে জালে গেঁথে গেলে দু’দিনেই জাল ছিঁড়ে ফেঁড়ে একাকার হয়ে যাবে। নিড়ানি বা নুচি দেয়া ধানক্ষেতের মাটিও সমান থাকে না, মাটি সমান না থাকলে ঝাকি জাল দিয়ে মাছ ধরা অসম্ভব। জালের নিচ দিয়ে মাছ ফুড়ুৎ করে বেরিয়ে যাবে। এ কারণে যারা খালের মুখে ঝাকি জাল ব্যবহার করতো, তারা আগে যেটুকু জায়গায় জাল ফেলবে সেটুকু জায়গা নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধ অনুযায়ী আগে থেকেই সাফ করে মাটি সমান করে নিতো। পানি বেশি হলে ‘দাড়িলা কাস্তে’ (যেগুলো দিয়ে ধান-পাট কাটা হয়) নিয়ে ডুব দিয়ে নিচের আগাছা পরিস্কার করতো।

ঝাকি জালের বুনন সাধারণত কৃষকদের বাড়িতেই হতো। যাদের মাছ মারার বাতিক থাকতো তারা নিজেরাই জাল বুনতো বাড়িতে। ঝাকি জাল বুননের দৃশ্যটি বড় আর্টিফিশিয়াল। ঝাকি জাল সাধারণত হাট থেকে কিনে আনতে হতো না, ঘরের বারান্দায় বসে বসে অভিজ্ঞ বয়স্করা কট সুতা আর বাঁশ দিয়ে বানানো ‘চটা’ ও ‘তফিল’ দিয়ে নিজেরাই বানিয়ে নিতো। একটা জাল বানাতে দিন সাতেকের কারবার। তবে আমার নানা নাকি তিন দিনেই বানাতে পারতেন ওমন দশাসই একেকটা ঝাকি জাল।

ওই বয়সে দেখতাম, মাছের মৌসুম শুরু হওয়ার আগে আগে সকাল হলেই দাদা-দাদী বা বাবা-চাচারা বারান্দায় জলচৌকি পেতে বসে যেতেন। একটানা কাজ চলতো নাস্তার সময় পর্যন্ত। সপ্তাহ-দু’ সপ্তাহ শেষে যখন জাল বুনন শেষ হতো তখন চলতো দ্বিতীয় পর্বের কাজ। ঝাকি জালের নিচের অংশে যেখানে জাল ফেললে মাছ ধরা পড়ে, ওই অংশটাকে বলে ‘কুশ’। ওই কুশের নিচে লোহার ছোট ছোট কাঠি ব্যবহার করা হয়। যাতে জাল ফেললে জালটা তাড়াতাড়ি পানির নিচে চলে যায় এবং মাছেরা জালের বেড়ের মধ্যে আটকা পড়ে। এরপর যখন জাল টানা হয় তখন মাছগুলো ওই কুশের মধ্যে আটকে যায়।

নির্দিষ্ট দূরত্বে কুশের নিচ দিয়ে লোহার কাঠি ঝুলানোর পর জালটাকে গাবের রসে বেশ কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখতে হয়। গাবের রসও আরেক ধুন্ধুমার জিনিস। গাব বলতে দেশি গাব, বিলেতি গাব নয়। দেশি গাব পাকলে খেতেও অনেক সুস্বাদ। তবে কাঁচা গাবের ধারে কাছেও যাওয়া যাবে না। ওগুলোর কষ যদি একবার কাপড়ে লাগে তাহলে আর রক্à¦