সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
১৩ মাসে হাফেজ হলো ১০ বছরের নাঈম নিকাব নিয়ে কটূক্তি: ঢাবির সেই শিক্ষিকাকে ‘লাল কার্ড’ দেখালেন শিক্ষার্থীরা আলোর পথের যাত্রী  সিলেট সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিএনপি-জামায়াত আমলে আলিয়া মাদরাসা বাড়ে ১৫৪১টি, আ.লীগ আমলে কমেছে ১৭৯টি আলী মিয়াঁ নদভীকে নিয়ে বই লিখে দিল্লি উর্দু একাডেমির পুরস্কার লাভ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় হেফাজতের শোক, ক্ষতিপূরণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসার দাবি রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা পাকিস্তানসহ ৪ দেশের  বিশ্বজয়ী হাফেজ হিরাকে শুভেচ্ছা জানালেন মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী ২০২৭ সালে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, তারিখ চূড়ান্ত

ভারতে হজরত সাবেরি'র দরবারে কিছুক্ষণ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুনশি মুহাম্মদ উবাইদুল্লাহ
>
ঢোল-বাদ্যের উচ্চ আওয়াজ হচ্ছে ভেতর বারান্দায়৷ স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে গেট থেকেই৷ ঐ তো ‘ভর দো জলি ইয়া মুহাম্মদ' ভেদ করছে কানের পর্দা৷ এগোলাম ভিড়ভাট্টা ঠেলে৷
দ্বিতীয় দফায় আজ এলাম এই দরগাহে৷ দরগাহটি হজরত সাবেরি কালিয়ারি রহ. এর৷ পুরো নাম পীর আলাউদ্দিন সাবেরি কালিয়ারি৷ চিশতিয়া তরিকার বড় পীরদের একজন তিনি৷ ভারতের উত্তরাখাণ্ড প্রদেশের প্রসিদ্ধ এই কালিয়ার এলাকায়ই তাঁর জীবন কাটতো৷
saberi1
অতি ভয়ে ভয়ে পকেট থেকে বের করলাম মোবাইলটি৷ ছবি তুলবার ইচ্ছেয় যেই পজিশন নিলাম, অমনিই এক পুলিশ কঠোর স্বরে বারণ করলো আমায়৷ মোবাইল ভেঙে ফেলবার হুমকি দিলো চোখ রাঙিয়ে৷ যথেষ্ট শান্ত বাছাধন বনে গেলাম মুহূর্তেই৷দেওবন্দিদের বিরুদ্ধে তখনই কমপ্লেন করে বসলো পাশের একজন৷ জানতে চাইলো আমি দেওবন্দি কিনা! বললাম—‘নেহি, কাসেমি হু৷'

যারা দেওবন্দি, তারাই কাসেমি— খবরটি হয়তো লোকটির নলেজে নেই৷ একজনে আমায় হাতের ইশারায় বসতে বললো৷ হয়তোবা ভেবে নিয়েছে তাদেরই আকিদার কেউ৷

মাজার, কবর, পীর, আউলিয়া মানে না দেওবন্দিরা৷ বুড়ো মতোন এক দাড়িহীন লোক বোঝাতে লাগলো আমায়৷ আমিও মুনাফিকের কায়দায় তাল মেলালাম তার বয়ানে৷ মুহতারামের তাকরির বাদ জানতে চাইলাম—‘এতনি গরমি মে এয়সা কারণে সে কিয়া ফায়দা মিলেগা?' মুচকি হেসে লোকটি আমায় বোঝালো হজরত সাবেরির বরকতের কথা৷ কবরে বসেও প্রতিদিন হাজারো লোকের হাজত পূরণ (?) করবার বিষয়৷ তাজ্জব বনে গেলাম৷ চোখ কপালে তুলে উঠে দাঁড়াবার কোশেশ করলাম৷ ততোক্ষণে লোকটি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে আরেকজনকে হেদায়াত (?) দেয়ায়৷

সামনের ঢোলের তালে তালে নাচছে একদল তরুণী৷ মাথার কেশরাজি লম্বা তাদের৷ পরনে সেলোয়ার-কামিজ৷ পেট, পিঠ, বুক— সবই বাবা ও তার আশেকানের জন্য উৎসর্গিত৷ লোকে দেখে৷ লাফিয়ে ওঠে জোশে৷ আমিও ওঠলাম লাফিয়ে৷ মাজারের পুরোটা দেখবার ইচ্ছেয় হাঁটা ধরলাম সামনে৷

বকুলের দুটো বিশাল গাছ নজরে পড়লো আমার৷ পত্রপল্লব সজ্জিত যার হাজার কয়েক পত্রমিতালিতে৷ দু'চারটে মেলে ধরলাম চোখের তারায়৷ পড়তে চেষ্টা করলাম বার কয়েক৷ পড়া গেলো না তবু৷ আরেকটু কাছে এগিয়ে দেখলাম উর্দু, হিন্দি, পাঞ্জাবি, মারাঠি, ইংরেজি ভাষায় লেখা দরখাস্ত, আবেদনপত্র৷ কোনোটায় অভিলাসী প্রেমের কথামালা, কোনোটায় বা যাবতীয় সমস্যা নিরসনে প্রার্থনা কামনা৷

আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে খোদা বলে মানি না৷ মুখে এরাও স্বীকার করে বলে জানালো এক ভদ্রলোক৷ কিন্তু চাওয়ার বেলায় ‘ইয়া সাবেরি, ইয়া কালিয়ারি!' বলে চিৎকার করে৷ শরিক করে আল্লাহর সà