সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
১৩ মাসে হাফেজ হলো ১০ বছরের নাঈম নিকাব নিয়ে কটূক্তি: ঢাবির সেই শিক্ষিকাকে ‘লাল কার্ড’ দেখালেন শিক্ষার্থীরা আলোর পথের যাত্রী  সিলেট সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিএনপি-জামায়াত আমলে আলিয়া মাদরাসা বাড়ে ১৫৪১টি, আ.লীগ আমলে কমেছে ১৭৯টি আলী মিয়াঁ নদভীকে নিয়ে বই লিখে দিল্লি উর্দু একাডেমির পুরস্কার লাভ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় হেফাজতের শোক, ক্ষতিপূরণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসার দাবি রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা পাকিস্তানসহ ৪ দেশের  বিশ্বজয়ী হাফেজ হিরাকে শুভেচ্ছা জানালেন মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী ২০২৭ সালে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, তারিখ চূড়ান্ত

গোস্ত না মাংস কী বলবো?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আরিফ খান সা’দ: গরুর গোস্ত বলা যাবে না। গোস্ত বলা শিরক। কারণ গোস্ত ফারসি শব্দ। ফারসি মাজূসীদের ভাষা। পারস্যের আগুনপূজারীরা এ ভাষায় কথা বলতো। তারা আগুন পানি পাথর বৃক্ষ নক্ষত্র গরু ইত্যাদির পূজা করতো। গোস্ত ফারসি মুরাক্কাব শব্দ।

গো+আস্ত=গোস্ত। 'গো' মানে গরু-দেবতা। 'আস্ত' মানে আছে, বিদ্যমান, অস্তিত্ব। 'গোস্ত' মানে গোরু-দেবতা আছে বা গো-দেবতার অস্তিত্ব। অর্থাৎ পরোক্ষভাবে একটা শিররি আকিদা স্বীকার করা হচ্ছে। কুফুরি হয়ে যাচ্ছে। (গোস্ত, গোসত, গোশত বিভিন্ন মতের বানানবিভেদ)

তাহলে কী বলবো?! মাংস বলবো?!

নাহ, মাংসও বলা যাবে না। কারণ 'মাংস' বাংলা শব্দ। বাংলা হিন্দুদের ভাষা। ভারতের মূর্তিপূজারী হিন্দুরা বাংলাভাষা জন্ম দিয়েছে। 'মাংস' বাংলা মুরাক্কাব বা সন্ধিবদ্ধ শব্দ। স্বরসন্ধি। মা+অংশ=মাংস। 'মা' মানে গো-মাতা। 'অংস' মানে 'অংশ'। 'মাংস' মানে গো-মাতার অংশ। অর্থাৎ মাংস বললে গরুকে মা হিসাবে স্বীকার করা হচ্ছে। এজন্য মুরুব্বিরা মাংস বলতে নিষেধ করেছেন।

তাহলে কী বলবো?! মিট বলবো?!

নাহ, মিট তো ইংরেজি শব্দ। ইংরেজি বলা হারাম। বৃটিশরা মুসলমানদের উপরে অকথ্য নির্যাতন করেছে।

তাহলে?! আরবি শব্দ 'লাহম'। লাহম বলতে হবে?!

নাহ, আরবি তো মুশরিকদের ভাষা। যারা কা'বা শরীফে নগ্নদেহে তাওয়াফ করতো, মেয়েকন্যাকে জীবন্ত কবর দিতো, মশক ভরে রক্ত পান করতো তাদের ভাষা। আরবরা জাহেলি যুগে বিভিন্ন পশুর 'লাহম' ভক্ষণ করতো। দেবতার উদ্দেশ্যে 'লাহম' উৎসর্গ করতো। এত শত সহস্র পাপে দুষিত কলুষিত আরবি কীভাবে ব্যবহার করবো মুসলমান হয়ে?!

ভাবতে হবে তো! সব ভাষাই আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। মানুষ ভাষা সৃষ্টি করে নি। মানুষকেও আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। ইসলামের আগে মুশরিকরা যে ভাষা ব্যবহার করতো ইসলামের সম্মানে আল্লাহ নতুন পুতপবিত্র কোনো ভাষা দেন নি। মুশরিকরা যেই 'লাহম' দেবতার উদ্দেশ্যে 'উৎসর্গ' করতো রাসূল সা. সেই 'লাহম' (পশু) আল্লাহর নামে 'কুরবানি' করলেন।

রাসূলের ইত্তেবা সুন্নত না? আগুনপূজারীরা যেই 'গোস্ত' দেবতার উদ্দেশ্যে 'উৎসর্গ' করতো পারস্যবিজিত নওমুসলিমরা সেই 'গোস্ত' বিসমিল্লাহ্‌ বলে খাওয়া শুরু করলেন। আর গোস্ত মানে 'গোরু দেবতা আছে' এই 'দেবতা' কোত্থেকে বের হলো? শব্দসন্ধিটির ভেতরে 'দেবতা' শব্দের কোনো আভাস আছে? এই মোরাক্কাবেরই কোনো অস্তিত্ব?!

কিংবা এই বক্তব্যের কোনো সূত্র?! 'খোদা' মানে 'খোদ-আয়া' অর্থাৎ 'স্বয়ম্ভূ'। সমস্ত জিনিসে তিনি নিজেই আসেন। এমন একটি শিরকি শব্দ মুসলমানদের বহুল ব্যবহারে তাওহীদি শব্দ হয় নি?!

'মাংস' মানে 'গো-মাতা' অংশ। এখানে শব্দবন্ধে 'মাতা' কোত্থেকে আসলো? 'মাংস' লিখছেন 'দন্ত্য-স' দিয়ে। আর 'অংশ' লিখছেন 'তালব্য-শ' দিয়ে। সন্ধি হলে শব্দের শেষের হরফ পরিবর্তন হয় কখনো?! 'অংস' মানে 'অংশ' হতে পারে?! 'অংস' মানে কাঁধ।

ধাতুমূল 'অম+স'। আর 'অংশ' মানে খণ্ড টুকরà¦