আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের লখনৌয়ে ব্যাপক অংশগ্রহণ ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম ইন্টেলেকচুয়ালস সোসাইটির (এআইএমআইএস) তৃতীয় বার্ষিক ১২ দিনব্যাপী সিরাতুন্নবী (সা.) অধিবেশন।
গত ১৫ আগস্ট থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত (১–১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি) লখনৌর আগা মীর এলাকার মসজিদ আল-ইবরাহিমিতে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। ‘আমাদের পথের আলো: মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আলোকিত জীবন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সিরাত অধিবেশনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
১২ দিনব্যাপী এ আয়োজনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন, উত্তম চরিত্র, নবুয়তি মিশন, ত্যাগ-তিতিক্ষা, সংগ্রাম ও মানবতার প্রতি তাঁর চিরন্তন শিক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। প্রতিদিন এশার নামাজের পর বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদরা সিরাতের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে মাওলানা সালমান সিদ্দিকী নদভী জাহেলি যুগের আরবের সামাজিক, নৈতিক ও ধর্মীয় পরিস্থিতি, হস্তীবাহিনীর ঘটনা, মহানবী (সা.)-এর জন্ম ও শৈশব এবং তাঁর বিবাহিত জীবনের প্রারম্ভিক অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করেন।
দ্বিতীয় দিনে মাওলানা ড. মুহাম্মদ ইদরিস নদভী মহানবী (সা.)-এর পারিবারিক ও গার্হস্থ্য জীবন, স্ত্রীদের সঙ্গে তাঁর আচরণ, পারিবারিক দায়িত্ববোধ এবং ব্যবসায়িক জীবনের সততা ও আমানতদারির বিষয় তুলে ধরেন।
পরবর্তী দিনগুলোতে মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম কাসমি, মাওলানা মুহাম্মদ ফারমান নদভী, মাওলানা জাকি নূর আজিম নদভী, মাওলানা সৈয়দ আমিন হাসানি নদভী, মাওলানা সৈয়দ ইনায়াতুল্লাহ নদভীসহ বিশিষ্ট আলেমরা নবুয়তের সূচনা, মক্কার নির্যাতন ও ত্যাগ, ‘আমুল হুযন’, ইসরা ও মেরাজ, হিজরত, মদিনায় ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধসমূহের ওপর আলোচনা করেন।
এ ছাড়া হুদাইবিয়ার সন্ধি ও তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব, মক্কা বিজয় ও মহানবী (সা.)-এর সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা, তায়েফের ঘটনা, বিদায় হজ ও ঐতিহাসিক বিদায় ভাষণ এবং নবীজি (সা.)-এর ওফাতের ঘটনাও ধারাবাহিকভাবে আলোচনায় উঠে আসে।
১২তম ও সমাপনী দিনে মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম কাসমি ‘সিরাতের বার্তা ও শিক্ষা’ শীর্ষক আলোচনা করেন। এতে মহানবী (সা.)-এর জীবনকে শুধু ইতিহাসের একটি অধ্যায় হিসেবে না দেখে সমকালীন জীবনের জন্য বাস্তব পথনির্দেশনা হিসেবে গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সমাপনী অধিবেশনে আয়োজকরা বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার প্রকৃত বহিঃপ্রকাশ হলো তাঁর সিরাত জানা, সুন্নাহ অনুসরণ করা, তাঁর মহান চরিত্র নিজেদের জীবনে ধারণ করা এবং প্রজ্ঞা, দয়া ও আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁর আদর্শ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ড. আম্মার নাগরামি। তিনি আয়োজনের সফলতার জন্য মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন এবং আলেম, আয়োজক, স্বেচ্ছাসেবক, মসজিদ কর্তৃপক্ষ, সহযোগী ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, সিরাতুন্নবী (সা.)-এর এ আয়োজনের ব্যাপক সাড়া সমাজে জ্ঞানচর্চা ও নবীজির (সা.) জীবন সম্পর্কে জানার গভীর আগ্রহেরই বহিঃপ্রকাশ। ১২ দিনের এ আয়োজন সফল করতে যাঁরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
আয়োজকরা মনে করেন, ১২ দিনব্যাপী এ আয়োজন কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; বরং মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আরও গভীর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি হলেও অংশগ্রহণকারীদের জীবনে সিরাতের শিক্ষা বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
শেষে মহান আল্লাহর কাছে আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কবুল করা, আলেম ও আয়োজকদের উত্তম প্রতিদান দেওয়া এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ ভালোবাসা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অনুসরণ করার তাওফিক কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
আরএইচ/