সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
সিলেট সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিএনপি-জামায়াত আমলে আলিয়া মাদরাসা বাড়ে ১৫৪১টি, আ.লীগ আমলে কমেছে ১৭৯টি আলী মিয়াঁ নদভীকে নিয়ে বই লিখে দিল্লি উর্দু একাডেমির পুরস্কার লাভ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় হেফাজতের শোক, ক্ষতিপূরণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসার দাবি রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা পাকিস্তানসহ ৪ দেশের  বিশ্বজয়ী হাফেজ হিরাকে শুভেচ্ছা জানালেন মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী ২০২৭ সালে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, তারিখ চূড়ান্ত জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌদি আরব ও কাতারের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ বিশ্বজয়ী হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরাকে সংবর্ধনা দিল ধর্ম মন্ত্রণালয় লক্ষ্মীপুরে ড্রাম ট্রাকচাপায় বৃদ্ধ ভ্যানচালকের মৃত্যু

তালাকপ্রাপ্তা নারীর আর্থিক নিরাপত্তা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

us-muslim-womanআ ক ম সাইফুল ইসলাম চৌধুরী: মুসলিম শরীয়াহ আইনানুসারে একজন স্বামী যেকোনো সময় তার স্ত্রীকে তালাক দিতে পারে। তালাকের পর ইদ্দতকালীন ৯০ দিনের খোরপোশ দেয়া ছাড়া স্ত্রীর প্রতি স্বামীর সকল দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়। ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে তালাক দেয়া আগের মতো যথেচ্ছ না রেখে কিছুটা নিয়মনীতিতে আনা হয়েছে। ঐ আইনের সুবাদে তালাক দিতে হলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নোটিস করতে হয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সালিশ বৈঠক করে তালাকের নোটিস কার্যকর বা বাতিল করার এখতিয়ার রাখে।

বর্তমান আইনেও তালাকপ্রাপ্তা নারী ইদ্দতকালীন খোরপোশ ছাড়া অন্য কিছু পাওয়ার অধিকারী হন না। তালাকের পর তালাকপ্রাপ্তা নারী কোথায় যাবেন? একবারেই প্রস্তুত জবাব—বাবার বাড়ি। ইসলাম ধর্মীয় বিধানানুসারে তালাকপ্রাপ্তা নারী তার পিতার বাড়িতে বা নিজগোত্রে ফিরে যাবে। আমাদের দেশের বিদ্যমান সামাজিক কাঠামোতে তালাকপ্রাপ্তা নারীর পিতা জীবিত এবং সচ্ছল থাকলে নারী পিতার বাড়ি যেতে পারেন। কিন্তু এটা কি সবক্ষেত্রে সম্ভব?

সামাজিক অবকাঠামোতে আমাদের সমাজব্যবস্থা গোত্রভুক্ত নয়। এখন একান্নবর্তী পরিবারেরও কোনো অস্তিত্ব আছে বলে শোনা যায় না। পিতার মৃত্যুর পরে এমনকি কখনো কখনো পিতার জীবদ্দশাতেও সন্তানেরা পৃথক পরিবারে বিভক্ত হয়ে পড়ছে। এ রকম একটি সমাজব্যবস্থায় তালাকপ্রাপ্তা নারী কি ফিরে যাবেন তার কোনো ভাইয়ের কাছে? একাধিক ভাই থাকলে কার কাছে? বাবা, ভাই বা ভাইপোদের সবক্ষেত্রেই কি সামর্থ্য থাকে ভাগ্যাহতা ঐ নারীকে দেখভালের?

একা একজন পুরুষ বা একা একজন নারী সংসার তৈরি করতে পারে না। সংসার গঠনের জন্য প্রয়োজন একজন নারী ও একজন পুরুষের বৈবাহিক জীবন। তিল তিল করে স্বামী-স্ত্রী উভয়ে মিলে গড়ে তোলে সংসার। স্বামীর মুখের কথায় একজন নারী তার তিল তিল করে গড়ে তোলা সংসার হতে উচ্ছেদ হয়ে যাবেন? সংসারের দাবিতে নারীরা পেশা ছেড়ে দিয়েছে, কিন্তু কোনো পুরুষ সংসার সামলানোর জন্য পেশা ছেড়ে দিয়েছে—এমন কোনো নজির কেউ দেখাতে পারবেন না। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পুলিশ)  ক্যাডারে প্রথমবারে যোগদান করা দুইজন নারী কর্মকর্তার একজন চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন সংসারের দাবি মেটাতে। তার ব্যাচমেটরা এখন সরকারের সচিব পর্যায়ে কর্মরত। আরো অনেক শিক্ষিতা-অশিক্ষিতা নারীই তাদের পেশা ছাড়েন সংসার সামলানোর জন্য। বিয়ের দুই-তিন বছর পর কোনো কারণে তালাকপ্রাপ্তা হলে নারীর বাবা-মা আত্মীয়-স্বজন পুনঃবিয়ের ব্যবস্থা করে সহজেই নারীর একটি হিল্যা করে থাকেন। কিন্তু ২০/২৫/৩০ বা ৫০ বছর পরে কোনো উপযুক্ত কারণে বা কারণ ছাড়া নারী তালাকপ্রাপ্তা হলে তিনি কোথায় যাবেন