আওয়ার ইসলাম: বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির উদ্যোগে চট্টগ্রামের পলোগ্রান্ড ময়দানে তিনদিনব্যাপী (৫, ৬ ও ৭ জানুয়ারি ২০১৭) ঐতিহাসিক বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও হালকায়ে জিকিরের প্রথম দিনেই লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষের ঢল নেমেছে। চরমোনাইয়ের পীর সাহেব ও দেশের শীর্ষ ওলামা-মাশায়েখের বয়ান, দীনের বিভিন্ন বিষয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ, ইবাদত-বন্দেগি ও জিকিরের মাধ্যমে মাহফিলের প্রথম দিন অতিবাহিত হয়েছে।
মাহফিলের প্রথম দিনের শেষ বয়ানে মারিফত সংক্রান্ত আলোচনায় মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেন, ‘মারিফত অর্থ চেনা ও পরিচয়। কোনো জিনিসের পরিচয় বুঝে আসলেই তার গুরুত্ব বুঝে আসে। শিশু আগুন বা পানি কি তা বুঝে না, কাজেই আগুন বা পানির ভয়-ভীতি তার মধ্যে নেই। অনুরূপভাবে আল্লাহকে চেনা-জানা এবং পরিচয় জ্ঞাত হওয়ার নামই হচ্ছে মারিফত। এ মারিফতের উদ্দেশ্য হচ্ছে তাঁর হুকুম-আহকাম, বিধিবিধান এবং আদেশ-নিষেধ পালন করা।’
শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের বাদ ফজরের বয়ানে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ‘মারিফত ও শরীয়ত এক ও অভিন্ন; আলাদা কিছু নয়। রুহ ছাড়া যেমন শুধু দেহ মানুষ নয় এবং দেহ ছাড়া কেবল রুহ মানুষ হতে পারে না, তেমনি মারিফত ও শরীয়ত একটা ছাড়া অন্যটি দিয়ে কাল কিয়ামতে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘নামায পড়া আল্লাহর বিধান, এটি শরীয়তের বিধান। কিন্তু যদি এই নামায লোকদেখানোর জন্য কেউ পড়ে সেই নামায আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। নামায আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার জন্য অন্তরের গোপন অভিপ্রায়কে শুদ্ধ করতে হবে। আর এটারই মান হচ্ছে মারিফত।’
পবিত্র কুরআন-সুন্নাহের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ এবং শরীয়তের বিধিবিধান ও আদেশ-নিষেধের পাবন্দি ছাড়া মারিফতচর্চাকে ষোলা আনা ভণ্ডামি আখ্যা দিয়ে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ‘কুরআন-সুন্নাহর নীতি ও শরীয়তের বিধি-বিধানকে স্পষ্ট লঙ্ঘন করে যারা মারিফত ও সুফিবাদের নামে গান-বাজনা, নারী-পুরুষের অবাধ নর্দন-কুর্দন এবং বিভিন্ন কুসংস্কর ও শিরক-বিদআতে লিপ্ত রয়েছে তারা পীর-অলি বহু দূরে, তারা আস্ত ভণ্ডের দল।
জুমাপূর্ব বয়ানে পীর সাহেব চরমোনাই আরও বলেন, কারো বদ আমলকে নেক আমলে পরিণত করার ক্ষমতা পীরের নেই। পীর অর্থ গুরু, দীনের শিক্ষক। মানুষকে ভালো-মন্দ বিষয়ে সর্তক করাই তার কাজ। বদ আমলের শাস্তি জাহান্নাম, জান্নাতে নিতে কোনো পীরেরও ক্ষমতা নেই।
মাহফিলে বরেণ্য ওলামা-মাশায়েখের মধ্যে আরও বয়