শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ।। ২৭ চৈত্র ১৪৩২ ।। ২৩ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় বাংলাদেশি নারী নিহত ১১ এপ্রিল ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি গণরায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি ইসলামী আন্দোলনের ‘গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে’  ৪০ দিনের যুদ্ধে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ১৮ লক্ষ কোটি টাকা মার্কিন কংগ্রেসে জোরালো হচ্ছে ট্রাম্পকে অপসারণের দাবি দৌলতদিয়ায় বাসডুবিতে নিহত ২৬ জনের স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় দ্রুত কার্যকর না হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে: মাওলানা জালালুদ্দীন আহমাদ বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইইউ’র ভারতের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ

আসাদ নূর ও হেফাজতের দায়; প্রসঙ্গ আইনজীবি নিয়োগ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ইযাযুল হক

আসাদ নূর ৫৭ ধারায় গ্রেফতার হলো। মুফাসসিল ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের কান্নাকাটি নিশ্চয় আপনারা দেখেছেন। তাদের কামড়াকামড়িও ইদানিং বেশ বিনোদিত করছে সবাইকে। কিন্তু তারা বসে নেই।

মুফাসসিলের ভাষ্য মতে, তারা আন্তর্জাতিকভাবে চাপ প্রয়োগ করে তাকে অতিসত্ত্বর মুক্ত করবে। ইতোমধ্যে তারা আইনজীবী নিয়োগ দেয়। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার সহায়তায় কাজ শুরু করে।

ইংল্যান্ডের ডেইলি মেইল ও ভারতের এনডিটিভির মতো প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তার পক্ষে রিপোর্ট করে। দেশি-বিদেশি আরো অনেক গণমাধ্যম রিপোর্ট করে যাচ্ছে। এমনকি আসাদ নূরের সাথে কারাগারে গিয়ে সাক্ষাতও করে তার এক সহযোদ্ধা।

আমার আশংকা হয়, আসাদ নূর শিগগির বিদেশ পাড়ি জমাবে। কারণ, তারা যেভাবে লবিং করছে, আমরা সেভাবে কিছুই করছি বলে মনে হচ্ছে না। ইসলামি আন্দোলনের এক ভাই মামলা করেছিলেন ঠিক; তবে সেই মামলা চালানোর জন্যে ভালোমানের আইনজীবী কি তিনি নিয়োগ করেছেন? আমি মনে করি, আইনজীবী নিয়োগ করার দায়িত্ব এখন আর মোটেও তার একার নয়। এদেশের প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব।

এদেশে ইসলামের পক্ষে কাজ করতে চান, এমন অনেক বিজ্ঞ আইনজীবী আছেন। তাদেরকে ব্যবহার করতে না পারলে ব্যর্থতার দায় কিন্তু সব মুসলমানের ঘাড়ে চাপবে। বিশেষ করে হেফাজতে ইসলাম কখনো এই দায় এড়াতে পারবে না।

মনে রাখতে হবে, নাস্তিকতাবিরোধেী আন্দোলনের কারণেই হেফাজত মুসলমানদের মনে স্থান করে নিয়েছিল। কিন্তু একটি বিষয়ে হেফাজতের উদাসিনতা চোখে পড়ার মতো। অনেকে অজ্ঞাত হামলায় চাপাতির কোপে মারা গেছে। কিন্তু যারা জীবিত ছিলো তারাও বিনা বিচারে নিরাপদে দেশ ত্যাগ করেছে।

অথচ এদের ব্যাপারে তো এমন সব প্রমাণ ছিল যা আসাদ নূরের ব্যাপারে আছে। তো মামলা করে তাদেরকে আটকিয়ে দেওয়া হয়নি কেন? তাহলে তো বিদেশ গিয়ে তারা আরো সংগঠিত হওয়ার সুযোগটি পেতো না।

আমরা এখনো মনে করি, এদেশে হেফাজতই নাস্তিকতার বিরুদ্ধে সবচে বড় প্লাটফর্ম। হেফাজতই পারে এদের টুটি চেপে ধরতে। আসাদ নূরের বিষয়টি মোটেও কোনো নির্দিষ্ট দল কিংবা এলাকার একান্ত বিষয় নয়। বরং এটা জাতীয় বিষয়।

এদেশের সব ধর্মপ্রাণ মুসলমানই চায়, এটি হেফাজতই হেন্ডেল করুক। কিন্তু আমি জানি না, হেফাজতের আইন উপদেষ্টাগণ এ বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন কিনা। হেফাজতের পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি বা হুশিয়ারি এখনো নজরে আসে নি। দেখা যাচ্ছে না সরকারকে চাপ দেওয়ার কোনো কর্ম-তৎপরতা। শুধু সোসাল মিডিয়ায় হালকা আলোচনা হচ্ছে।

এভাবে চললে তো বিদেশি শকুনরা শিকারটি থাবা মেরে নিয়ে যাবে। একে যদি আটকানো না যায়, তবে আমাদের পরাজয় হবে। পরাজয় হবে হেফাজতের। পরাজয় হবে ইসলামের।

লেখকের ফেসবুক টাইমলাইন থেকে।

এসএস/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ