সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :

ইসলামী ব্যাংক এখন নারী ও সব ধর্মাবলম্বীর জন্য উন্মুক্ত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর চেয়ারম্যন আরাস্তু খান বলেছেন, ইসলামী ব্যাংক এখন নারী ও সব ধর্মাবলম্বীর জন্য উন্মুক্ত।

ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা নারী কর্মী নিয়োগ নিয়ে কেউ বিশেষ দৃষ্টি দিতে পারেন না। তাই ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এখন সব ধর্ম ও নারী কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত।

এখানে সবাই স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে কাজ করতে পারছেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে ইসলামী ব্যাংকের বড় অবদান রয়েছে। বর্তমানে এই ব্যাংকের এক কোটি ২৫ লাখ গ্রাহক। এই সংখ্যা যে কোনো ব্যাংকের চেয়েও বেশি।

ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য একটি স্বল্পমেয়াদি কমিশন দরকার। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকিং আইন তৈরি করাও এখন খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।

আরাস্তু খান  বলেন, দেশের বেসরকারি খাতের ব্যাংক হিসেবে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। ব্যাংকটি ইতিমধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ১০০০ ব্যাংকের তালিকায় বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাংক হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। ব্যাংকটিতে নানা ঘটনার মধ্যে একটি পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ প্রতিদিনের সৌজন্যে সম্পূর্ণ সাক্ষাতকারটি আওয়ার ইসলাম পাঠকদের জন্য তুলে করা হলো।

প্রশ্ন: ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তন নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। এ সম্পর্কে আপনার মতামত জানতে চাই।

আরাস্তু খান : ব্যাংকের মালিকানা নিয়ন্ত্রিত হয় শেয়ার ধারণের পরিমাণের ওপর। ব্যাংক কোম্পানি আইনানুযায়ী যাদের শেয়ারের পরিমাণ বেশি তারা ব্যাংকের বোর্ডে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান। এখানে একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের কথা বলা হচ্ছে। এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই। আর মোট শেয়ার হোল্ডারদের মাত্র ১৫ ভাগ শেয়ার তারা ধারণ করেন। এতে নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে যাবে এবং অনিয়ম হতে পারে এমন আশঙ্কার কোনো ভিত্তি নেই।

এ ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তন বাংলাদেশ ব্যাংক, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনসহ সব নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার নিয়মনীতি পরিপালন ও অনুমোদন সাপেক্ষেই হয়েছে। ফলে যেসব প্রশ্ন উত্থাপন হয়ে থাকে তার কোনো  যৌক্তিকতা নেই।

ইসলামী ব্যাংক পরিচালিত হয় শরিয়ার মূলনীতি, আদর্শ, ইথিকসের ওপর নির্ভর করে, ব্যাংকিং আইন পরিপালন করে। আমাদের ব্যাংকের এখন পর্যন্ত ঋণ অনিয়ম, কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। এর কারণ ব্যাংকিং পদ্ধতিতে আমরা কোনো আপস করিনি।

প্রশ্ন: আপনি আসার পরে ইসলামী ব্যাংকে কী কী পরিবর্তন হয়েছে?

আরাস্তু খান : আমাদের প্রথম সাফল্য শরিয়াহভিত্তিক একটি ইথিক্যাল বা নৈতিকতাভিত্তিক ব্যাংক হিসেবে এটিকে প্রতিষ্ঠিত করেছি। আমরা বোর্ডে আসার পর থেকে শরিয়াহ পরিপালনের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে আসছি। দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা, ইসলামী চিন্তাবিদ, গবেষক ও ইসলামী অর্থনীতিবিদদের নিয়ে আমরা সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন শরিয়াহ বোর্ড গঠন করেছি।

এ ছাড়া তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে আমরা আমূল পরিবর্তন করেছি। ইসলামী ব্যাংক জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সব মানুষের ব্যাংক। এ ব্যাংকের অনেক আমানতকারী এবং ব্যবসায়ী আছেন, যারা অন্য ধর্মের অনুসারী। আমরা জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সবার জন্য ইসলামী ব্যাংকে চাকরি পাওয়ার সমান সুযোগ সৃষ্টি করেছি।

তবে তাদের ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে ইসলামী শরিয়াহ পরিপালনের কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও ব্যাংকিং কার্যক্রমে শরিয়াহ পরিপালন বাধ্যতামূলক। ইসলামী ব্যাংকে নারী কর্মী নিয়োগ দেওয়া হতো না। এখন ইসলামী ব্যাংকে নারী কর্মী নিয়োগ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাধারণ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সব ধরনের নিয়োগ হয়ে থাকে।