রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬ ।। ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
জামিয়া গহরপুরের তাকমিল জামাতের শিক্ষার্থীর ইন্তেকাল ডেঙ্গুতে এক দিনে বছরের সর্বোচ্চ আক্রান্ত, মৃত্যু ৩ ‘ই-কমার্সে জালিয়াতি বন্ধ করতে ৩ ধাপে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার’  গুম প্রতিরোধে বাতিল অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করার দাবি খেলাফত মজলিসের দুর্যোগসহ জরুরি পরিস্থিতিতেও দেশে খাদ্যের ঘাটতি হবে না: খাদ্যমন্ত্রী ‘বাদপড়া প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে’  আগামী শিক্ষাবর্ষেই দেশজুড়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু হবে: ববি হাজ্জাজ হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া আরও কমানোর পরিকল্পনা সরকারের এবার নারায়ণগঞ্জ জেলা জমিয়তের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের ১১তম অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণ

সাইফুলের জানাজা আজ, খোঁজ নেয়নি হাইআতুল উলয়ার কেউ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

হামিম আরিফ: রাজধানীর সোহরাওয়ার্দীতে শুকরানা মাহফিলে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আলহাজ আমেনা বেগম টাইটেল মাদরাসার শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলামের (২২) জানাজা আজ।

জানা যায়, আজ বাদ আসর সাইফুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুরের পাইলট স্কুল মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

গতকাল রোববার সোহরাওয়ার্দী ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের শুকরানা মাহফিল। এতে অংশ নেয়া সাইফুল ইসলাম প্যান্ডের ভেতর একটি খুঁটিতে বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান।

মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা সাঈদ আল মামুন আওয়ার ইসলামকে বলেন, ৬২ জন ছাত্র নিয়ে আমি শুকরানা মাহফিলে এসেছিলাম। মাহফিল চলাকালীন একটি খুঁটিতে থাকা বিদ্যুতের লাইনে হাত লাগলে সঙ্গে সঙ্গে সাইফুলের শরীরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়।

তিনি বলেন, গতকাল বিকালেই অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে প্রথমেই ব্রাহ্মণাবিয়ার মাদরাসায় নেয়া হয়। এ সময় মাদরাসা ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মাদরাসা ছাত্রদের মধ্যে কান্নার রুল পড়ে যায়।

রাতেই নিহত সাইফুল ইসলামকে হবিগঞ্জের মাধবপুরে তার নিজবাড়িতে নেয়া হয়। সেখানেও আত্মীয় ও এলাকার লোকদের মধ্যে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয় বলে জানান মাওলানা সাঈদ আল মামুন।

সাইফুল ইসলামের মা, বাবা, তিন বোন ও ছোট দুই ভাই রয়েছে। তবে বাবা থাকেন সৌদি আরবে। আলহাজ আমেনা বেগম টাইটেল মাদরাসায় পড়া শুরু করেন জামাতে মিজান থেকে।

তার মৃত্যুতে মিডিয়া ও স্যোশাল মিডিয়াজুড়ে শোকের মাতম চললেও শুকরানা মাহফিলের আয়োজক হাইআতুল উলয়ার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো শোকবার্তা দেয়া হয়নি। এমনকি বোর্ডের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সমবেদনা বা পরিবারকে সহযোগিতার আশ্বাস জানানো হয়নি বলে জানান মাওলানা সাঈদ আল মামুন।

তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে বিদ্যুস্পৃষ্ট হয়ে নিহত হওয়া মর্মান্তিক। তার পরিবার, মাদরাসার শিক্ষক ছাত্র সবাই এ ঘটনায় মর্মাহত। সাধারণত এসব মুহূর্তে আয়োজকদের পক্ষ থেকে শোক, সমবেদনা ও সহযোগিতা শোককে কিছুটা হলেও লাঘব করে।

তবে এ ঘটনায় ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ ও যুগ্ম মহাসচিব  মাওলানা আলতাফ হোসাইন ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নিয়েছেন বলে তিনি জানান।

এছাড়া মাদরাসার পক্ষ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাওলানা সাজিদুর রহমান ও মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কিছু ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, কওমি মাদরাসার সনদের আইন পাস হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা উপলক্ষে গতকালের শুকরানা মাহফিলে সারাদেশ থেকে জড়ো হয়েছিল কয়েক লক্ষ উলামায়ে কেরাম ও মাদরাসা শিক্ষার্থী।

সাইফুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর ইসলামপুরের আলহাজ আমেনা বেগম টাইটেল মাদরাসার মেশকাত জামাতের শিক্ষার্থী। মাদরাসার অন্যান্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে তিনিও শুকরানা মাহফিলে এসেছিলেন। মাহফিল চলাকালীন প্যান্ডের ভেতর একটি খুঁটিতে থাকা বিদ্যুতের লাইনে হাত লাগলে সাইফুলের শরীরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শুকরানা মাহফিলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক শিক্ষার্থী নিহত

-আরআর


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ