আওয়ার ইসলাম: মাদারীপুরের রাজৈর থানা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) দুই সদস্যকে হত্যা মামলায় সর্বহারা ডাকাত দলের ২০ সদস্যকে যাবজ্জীবন দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
আজ বুধবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মনির কামাল এ রায় দেন।
এ মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৩২। এর মধ্যে ৬ জন মারা যাওয়ায় বর্তমান আসামি ২৬ জন। এর মধ্যে মোশাররফ হোসেন মোল্লা, মোতালেফ মাতুব্বর, মাসুদ সিকদার, হেলাল সিকদার, আসলাম ওরফে নুরুল ইসলাম, শাহাদত আকনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া তাদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বাকি ২০ জনকে যাবজ্জীবন দেওয়ার পাশাপাশি ১০ হাজার জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
নিহত পুলিশ সদস্য দুই জন হলেন- উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল হাসনাইন আজম খান ও কামরুল আলম খান ঠাকুর। তারা মাদারীপুর জেলায় ডিএসবির ডিআইও এবং প্রধান সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
২০০৫ সালের ৩ এপ্রিল কর্মরত অবস্থায় রাতে তাদের খুন করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের ১৩ বছর পর এ রায় ঘোষণা করলেন ট্রাইব্যুনাল।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে মারা গেছেন তারা হলেন– আবদুল আজিজ, ছায়েদ মাতুব্বর, সাত্তার তালুকদার, নজরুল ওরফে নুরুল ইসলাম ও শওকত মোল্লা ওরফে সাগু মেম্বর।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত ২০ জনের মধ্যে ১৩ জন পলাতক রয়েছেন, তারা হলেন- জসিম শেখ, মাছিম শেখ, মজনু মাতুব্বর, ফয়েজ শেখ, উজ্জল হওলাদার, জাফর মাতুব্বর, কুব্বাস মাতুব্বর, হালিম আকন, দাদন ফকির, আমির হোসেন শেখ, মিরাজ শিকদার, হেমায়েত মোল্লা ও সুমন বাঘা।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ৭ আসামি হলেন- মোশাররফ শেখ, আশ্রাফ শরীফ, বজলু আকন, আজাদ মোল্লা, দবির মোল্লা, সওকত মোল্লা ও দিপু বিশ্বাস।
আদালত সূত্র জানায়, ২০০৫ সালের ৩ এপ্রিল মোটরসাইকেলযোগে রাজৈর উপজেলার শাখার পাড় যাওয়ার পর আবুল হাসনাইন আজম খান ও কামরুল আলম খান ঠাকুরের পথরোধ করেন আসামিরা। ওই সময় দুই পুলিশ সদস্য তাদের পরিচয় দিলে আসামিরা তাদের ট্রলারে উঠিয়ে নিয়ে হত্যা করে।
এরপর তাদের লাশ টুকরো টুকরো করে ট্রলার থেকে নদীতে ফেলতে ফেলতে চলে যায়। তাদের ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটিও নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
২০০৫ সালের ৫ মে সর্বহারা চরমপন্থীর দলের সদস্য আক্কেল আলীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। আসামি আক্কেল আলী আদালতে স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি ৩৮ জন আসামির নাম প্রকাশ করেন।
২০০৭ সালের ৬ আগস্ট মাদারীপুরের রাজৈর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরাম আলী মোল্লা আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এ মামলার মোট আসামি ৩২ জন। তাদের মধ্যে চার জন বন্দুকযুদ্ধে এবং দু’জন বিচারকালে মারা যান। বাকি ২৬ আসামির মধ্যে ১৩ জন পলাতক, ১২ জন জামিনে এবং দিপু ওরফে টিপু বিশ্বাস কারাগারে আটক আছেন।
মামলাটি পরিচালনা করেন রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি মো. মাহবুবুর রহমান এবং আসামি পক্ষের আইনজীবী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, অ্যাডভোকেট কুতুবউদ্দিন চৌধুরী, মো. আ. রউফ, শাহাবুদ্দিনসহ প্রমুখ।