শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ ।। ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৬ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
গত ২৪ ঘণ্টায় ১ শিশুসহ হাম ও উপসর্গে এখন পর্যন্ত ৬৪৩ মৃত্যু ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের চিন্তার কিছুই নেই: গভর্নর কোনো শ্রেণি বা পেশা এবার বাজেটের বাইরে নেই: অর্থমন্ত্রী বিশ্বকাপ ফুটবল: বিজাতীয় সংস্কৃতি চর্চায় ভয়ংকর উন্মাদ তরুণ প্রজন্ম!  সীমান্তে বিজিবির দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা পীরের সাহেব চরমোনাইয়ের দীনি লেবাস ও নৈতিকতার বিতর্ক: বাস্তবতা বনাম ন্যারেটিভ হিজরি সন: মুসলিম জাতিসত্তার গৌরবময় পরিচয় প্রস্তাবিত বাজেট দেশকে ঋণের দাসত্বে বাঁধার পাঁয়তারা: আমিরে মজলিস ‘প্রাথমিকে ইসলামবিরোধী অপসংস্কৃতি চাপানোর চক্রান্ত রুখে দেওয়া হবে’ পবিত্র কাবার গিলাফ পরিবর্তনের সময় জানালো সৌদি কর্তৃপক্ষ

হিজরি সন: মুসলিম জাতিসত্তার গৌরবময় পরিচয়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ রাহমানী ||

ইসলামি ক্যালেন্ডারকে 'হিজরি ক্যালেন্ডার' বলা হয়, যার ভিত্তি হলো নবী করিম সা.-এর হিজরতের ঘটনা। আরবি ভাষায় 'হজর' শব্দের অর্থ হলো ত্যাগ করা, আর এই শব্দ থেকেই 'হিজরত' কথাটি এসেছে। হিজরত একটি ইসলামি পরিভাষা; ঈমান রক্ষা বা দীন প্রচারের উদ্দেশে নিজের জন্মভূমি ত্যাগ করাকে 'হিজরত' বলা হয়। বর্তমানে 'তারকিনে ওয়াতান' বা অভিবাসী একটি আন্তর্জাতিক শব্দ। পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই অভিবাসীরা রয়েছেন এবং উন্নত দেশগুলোতে তাদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। তারা এমন অভিবাসী, যারা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রয়োজনে দেশ ছেড়েছেন। তাই তাদেরকে 'মুহাজির' বলা হিজরতের সেই পবিত্র শব্দের সাথে অবিচার করার শামিল।

হিজরত মূলত নবীদের সুন্নাহ। খুব কম নবীই এমন আছেন যাকে হিজরত করতে হয়নি। হজরত ইবরাহিম আ., হজরত মুসা আ. এবং হজরত লুত আ.-এর হিজরতের ঘটনা তো পবিত্র কুরআনেই বর্ণিত আছে। তবে ইতিহাসে 'হিজরত' নামে নবী করিম সা.-এর হিজরত যে খ্যাতি অর্জন করেছে, অন্য কোনো নবীর হিজরত সেই মর্যাদা পায়নি। নবী করিম সা. ৫৭১ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন এবং ঠিক ৪০ বছর বয়সে, অর্থাৎ ৬১১ খ্রিস্টাব্দে নবুয়তপ্রাপ্ত হন। তাঁর সততা, আমানতদারি ও চারিত্রিক মাধুর্যের সুখ্যাতি পুরো মক্কায় ছড়িয়ে ছিল। তিনি শৈশব ও যৌবনের পুরো সময়টা মক্কাতেই কাটিয়েছেন। নবুয়তপ্রাপ্তির পর তাঁর বিরুদ্ধে মক্কার মানুষ নানা রকম নির্যাতনের পথ বেছে নেয়, কিন্তু তাঁর চরিত্রের ওপর একটি আঙুল তোলারও সাহস তারা পায়নি, তাঁর সততা ও পবিত্রতার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করার ভাষাও কারো ছিল না।

নবীজি মক্কায় ১৩ বছর দীন প্রচারের কঠোর সংগ্রাম করেছেন। এই ১৩টি বছর তিনি দিনরাত এই চিন্তায় ব্যাকুল থাকতেন যে, কীভাবে আল্লাহর বান্দারা আল্লাহকে চিনবে এবং সঠিক পথে ফিরে আসবে। তিনি পুরো দিন মক্কার গলি-ঘুপচি ও বাজারগুলোতে ঘুরে ঘুরে ইসলামের দাওয়াত দিতেন। প্রতিটি ঘরের দরজায় গিয়ে নক করতেন এবং প্রত্যেক ব্যক্তির সাথে দেখা করে ইসলামের দাওয়াত দিতেন। কিন্তু খুব কম লোকই তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছিল। অধিকাংশ লোক এমন ছিল যে, সত্যের আলো তাদের সামনে দুপুরের রোদের মতো স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও তারা মূর্তিপূজা ও কুফরি ত্যাগ করতে রাজি ছিল না; কারণ এটিই ছিল তাদের পূর্বপুরুষদের ধর্ম। এই সময়ে তাঁকে সব ধরনের কষ্ট দেওয়া হয়েছে। পুরো পরিবারসহ তাঁর সামাজিক বয়কট করা হয়েছিল। মুসলমানরা এক টুকরো খাবারের জন্য তৃষ্ণার্ত ছিলেন, আর তিনি তাঁর পরিবারসহ গাছের পাতা ও ছাল খেতে বাধ্য হয়েছিলেন। তাঁর পবিত্র শরীরে উটের ভুঁড়ি ও ময়লা নিক্ষেপ করা হয়েছিল, গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল, তাঁর চলার পথে কাঁটা বিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাঁকে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করা হয়েছিল এবং তাঁকে পাগল ও জাদুকর বলে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল।

নবুয়তের দশম বছরে তিনি তায়েফের দিকে রওনা হলেন এই আশায় যে, হয়তো তারা ইসলাম কবুল করবে। কিন্তু তায়েফের মাটি মক্কার চেয়েও কঠোর প্রমাণিত হলো। তারা শুধু তাঁর দাওয়াত প্রত্যাখ্যানই করল না, বরং তাঁর পেছনে বখাটে ছেলেদের লেলিয়ে দিল। তারা তাঁকে পাথর নিক্ষেপ করল, ধুলোবালি উড়াল এবং উপহাস করতে লাগল। তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়ে গিয়েছিল, জুতো রক্তে ভিজে গিয়েছিল এবং হাঁটু জখম হয়েছিল। তিনি যখন বসে পড়তেন, তারা তাঁকে টেনে দাঁড় করিয়ে দিতো। তাঁর সঙ্গে থাকা হজরত জায়েদ ইবনে হারিসা রা. তাঁকে কাঁধে তুলে নিয়ে একটি বাগানে আশ্রয় নিলেন। ভাঙা হৃদয় ও অশ্রুসজল চোখে তিনি আল্লাহর দরবারে মনোনিবেশ করলেন এবং অত্যন্ত দরদভরা কণ্ঠে দোয়া করলেন:

‘হে আল্লাহ! আমার দুর্বলতা, আমার সামর্থ্যের অভাব এবং মানুষের কাছে আমি যে অসহায়, তার অভিযোগ তোমার কাছেই করছি। তুমি করুণাময়দের মাঝে পরম করুণাময়। তুমিই তো সব অসহায় ও দুর্গতদের প্রতিপালক। তুমিই আমার মালিক। তুমি আমাকে কার হাতে ছেড়ে দিচ্ছ? এমন কোনো অপরিচিত ব্যক্তির হাতে যে আমার সাথে রুঢ় আচরণ করে, নাকি এমন কোনো শত্রুর হাতে যে আমার ওপর কর্তৃত্ব পেয়েছে? কিন্তু তোমার যদি আমার ওপর কোনো রাগ না থাকে, তবে আমার কোনো পরোয়া নেই। তোমার আশ্রয়ই আমার জন্য যথেষ্ট। তোমার গজব বা আজাব থেকে বাঁচার জন্য আমি তোমার সেই নূরের আশ্রয় চাই, যা দিয়ে সব অন্ধকার দূর হয়ে যায় এবং যা দিয়ে দীন ও দুনিয়ার সব কাজ সুশৃঙ্খল হয়। আমার শুধু তোমার সন্তুষ্টি প্রয়োজন। তুমি ছাড়া কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই।’

আল্লাহর কুদরত দেখুন, মক্কা ও তায়েফের মাটিতে তিনি ইসলামের যে বীজ বুনেছিলেন, আল্লাহ তা দিয়ে মদিনাবাসীদের অন্তরকে জীবিত করছিলেন। বৃষ্টি হয়তো অন্য কোথাও হচ্ছিল, কিন্তু ঈমানের অমৃত সুধা অন্য কোথাও জমা হচ্ছিল। হজের মৌসুমে মদিনার লোকেরা মক্কায় এলো এবং আপনার দাওয়াতের প্রতি তাদের কান নিবদ্ধ হলো। তারা ছিল স্বচ্ছ হৃদয়ের এবং সত্যের সন্ধানী। তাদের মাঝে কোনো অহংকার ছিল না, তাই খুব দ্রুতই সত্য তাদের হৃদয়ে পৌঁছে গেল। তারা ইসলাম গ্রহণ করল এবং মুসলমানদের আশ্রয় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিল। মক্কার মাটি ধীরে ধীরে মুসলমানদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে পড়ছিল। কোনো কোনো মুসলমানের গলায় ফাঁস লাগিয়ে গরম বালুর ওপর টেনে নিয়ে যাওয়া হতো, কাউকে জ্বলন্ত অঙ্গারের ওপর শুইয়ে দেওয়া হতো এবং তাদের শরীর থেকে ঝরা রক্ত দিয়ে সেই আগুন নেভানো হতো। কাউকে ধোঁয়া দিয়ে কষ্ট দেওয়া হতো, কাউকে নির্মমভাবে শহীদও করা হয়েছিল।

কিন্তু মুসলমানদের ধৈর্য ও দৃঢ়তা এতটুকুও টলেনি এবং আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া তারা নিজস্ব কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। শেষ পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে আদেশ হলো যে, মুসলমানরা যেন মক্কা ছেড়ে মদিনায় চলে যায়। মুসলমানরা ধীরে ধীরে মদিনায় যেতে লাগল। শুধু তারাই মক্কায় থেকে গেল যারা যেতে সক্ষম ছিল না। তিনি মক্কাতেই অবস্থান করছিলেন এবং আল্লাহর নির্দেশের অপেক্ষায় ছিলেন। ইসলামের শত্রুরা তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করল এবং প্রতিটি গোত্র থেকে একজন করে প্রতিনিধি নিয়ে তাঁর ঘর ঘেরাও করে ফেলল। এদিকে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁকে পরিস্থিতির খবর জানিয়ে দেওয়া হলো। তিনি সম্পূর্ণ প্রশান্তির সাথে কিছু আয়াত পড়তে পড়তে এবং অবরোধকারীদের ওপর এক মুষ্টি ধুলো নিক্ষেপ করে ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। কয়েক দিন লুকিয়ে পথ চলার পর তিনি মদিনায় পৌঁছালেন। তাঁর মাথার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল, শত্রুরা তাঁকে ধরার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আল্লাহর পরিকল্পনার সামনে সব চক্রান্ত ব্যর্থ হয়ে গেল। মক্কায় উদিত নবুয়তের যে সূর্য, মদিনায় তা মধ্যগগন-এর মতো উজ্জ্বল হয়ে উঠল।

তিনি যখন মদিনায় প্রবেশ করলেন, তখন এক উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল। শিশু, বৃদ্ধ, যুবক, পুরুষ-নারী, মনিব-দাস সবাই যেন তাঁর অপেক্ষায় ছিল। সবার মুখে ছিল স্বাগত সংগীত এবং চোখে ছিল আবেগের ঝিলিক। মক্কার জমি যেখানে মুসলমানদের জন্য সংকীর্ণ ছিল, মদিনাবাসীরা সেখানে তাদের হৃদয় ও ঘর দুয়ার বিছিয়ে দিয়েছিল। মুহাজিরদের এই কাফেলাকে আনসাররা আপন করে নিলেন; ঘর দিলেন, জমি ও বাগান বিলিয়ে দিলেন এবং সবার চেয়ে বড় কথা হলো—অপার ভালোবাসা ও আন্তরিকতার উপহার দিলেন। মদিনাবাসীরা যে আত্মত্যাগ করেছিল, মানব ইতিহাসে তার দ্বিতীয় কোনো নজির হয়তো নেই। মক্কার মুহাজিরদের কুরবানিও কম ছিল না; ঘর ছেড়েছেন, দেশ ছেড়েছেন, আপনজনদের মায়া ত্যাগ করেছেন এবং পুরো পৃথিবী থেকে মুখ ফিরিয়ে এমন এক ঠিকানায় চলে এসেছেন, যেখানে সবকিছুই ছিল অপরিচিত এবং ভবিষ্যৎ ছিল অনিশ্চিত। এজন্যই আপনি মক্কা থেকে আসা ব্যক্তিদের 'মুহাজির' এবং মদিনার বাসিন্দাদের 'আনসার' নাম দিয়েছিলেন। মুহাজির অর্থ হলো 'দীনের জন্য দেশত্যাগী' আর আনসার অর্থ হলো 'মুমিনদের সাহায্যকারী'। মুসলমানদের মাঝে এই দুই শ্রেণি ছাড়া তৃতীয় কোনো শ্রেণি বা বিভাজনের কল্পনা নেই—না বংশের, না গোত্রের, না দেশ বা অঞ্চলের, আর না ভাষার। কোনো বিভাজনই আল্লাহর নিকট পছন্দনীয় নয়।

হিজরতের এই ঘটনা একদিকে মুসলমানদের কুরবানি এবং দীন রক্ষার জন্য নবী করিম সা.ও তাঁর মহান সঙ্গীদের ত্যাগ ও কোরবানির স্মৃতি বহন করে, অন্যদিকে এটি ভবিষ্যতে ইসলামের যে বিজয় ও সাফল্য এসেছিল, তার পূর্বাভাস ছিল। এটি শুধু মক্কা থেকে মদিনায় ভ্রমণ ছিল না, বরং পরাজিত অবস্থা থেকে বিজয় ও আধিপত্যের দিকে এবং অবদমন থেকে শক্তি ও সম্মানের দিকে উত্তরণ ছিল। বাহ্যিকভাবে মুসলমানদের জন্য পৃথিবী সংকীর্ণ হয়ে আসছিল, কিন্তু আল্লাহ এই সংকীর্ণতার মধ্যেই অসীম বিস্তৃতি রেখেছিলেন। এই ঘটনা হতাশার মাঝে আশার আলো দেখায় এবং চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সাহসের প্রদীপ জ্বালায়। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, কী পরিমাণ কুরবানি ও রক্তের বিনিময়ে এই দীনকে সমুন্নত করা হয়েছে এবং সত্যের এই বৃক্ষকে সিক্ত করা হয়েছে।

হজরত ওমর রা.-এর সামনে খলিফা হিসেবে একটি ফাইল এলো, যাতে তারিখ লেখা ছিল কিন্তু সাল ছিল না। তাঁর মনে হলো মুসলমানদের নিজস্ব একটি ক্যালেন্ডার থাকা প্রয়োজন। তিনি মজলিসে শূরার সামনে এই প্রস্তাব রাখলেন এবং সম্ভবত হজরত আলী রা.-এর পরামর্শে সিদ্ধান্ত হলো যে, ইসলামি ক্যালেন্ডার হিজরতের ঘটনার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। সেই অনুযায়ী মাসের বিন্যাস আগের আরবদের প্রথা অনুযায়ীই রাখা হলো; অর্থাৎ মহররম থেকে শুরু এবং জিলহজ দিয়ে শেষ। আর হিজরতের বছরকেই প্রথম বছর হিসেবে গণ্য করা হলো। এভাবেই ১৪৪৭ হিজরি মানে হলো নবী করিম সা.-এর হিজরতের পর এতগুলো বছর অতিক্রান্ত হয়েছে।

ক্যালেন্ডারও কোনো জাতির নিজস্ব পরিচয় বহন করে, এর সাথেই সেই জাতির ইতিহাস জড়িত। হিজরি ক্যালেন্ডারের দিকে তাকালে দেখা যায়, অধিকাংশ মাসের নামই ইসলামি ইবাদত ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের দিকে ইঙ্গিত করে। অন্য জাতিগুলোর প্রচলিত ক্যালেন্ডারও তাদের ধর্মীয় চিন্তা ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন। যেমন 'সানডে' (রোববার) এবং 'মন্ডে' (সোমবার) শব্দগুলোই দেখুন; এগুলো সূর্য ও চন্দ্রের দিন, কারণ প্রাচীন গ্রিসে একটি দিন সূর্যের ইবাদতের জন্য এবং অন্যদিন চন্দ্রের ইবাদতের জন্য নির্ধারিত ছিল এবং বিভিন্ন দেব-দেবীর নামে দিনের নামকরণ করা হতো। অন্যান্য ক্যালেন্ডারের মাসের নামের পেছনেও একই ধরনের ধর্মীয় চিন্তা কাজ করে। এ কারণেই হজরত ওমর রা. তৎকালীন প্রচলিত ক্যালেন্ডার গ্রহণ করেননি।

সুতরাং, ইসলামি ক্যালেন্ডার মুসলমানদের নিজস্ব পরিচয়ের প্রতীক। তাই আমাদের দায়িত্ব হলো এই ক্যালেন্ডারকে প্রচলন করা এবং নতুন প্রজন্মকে এর প্রেক্ষাপট ও ধর্মীয় ও জাতীয় গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা। আলেমরা লিখেছেন যে, হিজরি ক্যালেন্ডার চালু রাখা এবং এর প্রচারের চেষ্টা করা 'ফরজে কিফায়া'—অর্থাৎ পুরো মুসলিম উম্মাহর সম্মিলিত দায়িত্ব। এই ক্যালেন্ডার আমাদের নিজস্ব পরিচয় মনে করিয়ে দেয় এবং হিজরতের শিক্ষণীয় ও প্রেরণাদায়ক ঘটনার দিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

লেখক: সভাপতি, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল বোর্ড; প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার

[উর্দু থেকে লেখাটি অনুবাদ করেছেন: সাইমুম রিদা]

আইও


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ