|| মুফতি যুবাইর মাহমুদ রাহমানি ||
ইসলামে 'তালাক' প্রয়োজনে বৈধ হলেও আল্লাহপাকের নিকট তা অত্যন্ত অপছন্দনীয়। পক্ষান্তরে শয়তানের নিকট তালাকের চাইতে পছন্দনীয় কোনো বিষয় নেই। পাক কুরআনে আল্লাহপাক বলেছেন: তালাক (বেশির বেশি) দুটি। অর্থাৎ তিন তালাক দেওয়ার অধিকার স্বামীর থাকলেও স্বামী তা প্রয়োগ করবে না। অন্যথায় স্ত্রী সম্পূর্ণভাবে হারাম হয়ে যাবে। তাকে আর রাখার সুযোগ থাকবে না।
একসঙ্গে তিন তালাক দেওয়া নাজায়েজ, কিন্তু দিলে হয়ে যাবে। যেমন: কাউকে গুলি করে হত্যা করা নাজায়েজ, কিন্তু গুলি করলে লোকটি মারা যাবে।
তো তিন তালাক দেওয়ার পর ইদ্দত শেষে স্ত্রী অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। অতঃপর দ্বিতীয় স্বামী তাকে তালাক প্রদান করলে অথবা সে মারা গেলে উক্ত স্ত্রী পুনরায় প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। এটাকে বলা হয় "শরয়ী হালালা"। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
فَاِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهٗ مِنْۢ بَعْدُ حَتّٰی تَنْکِحَ زَوْجًا غَیْرَهٗ ؕ فَاِنْ طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَیْهِمَاۤ اَنْ یَّتَرَاجَعَاۤ اِنْ ظَنَّاۤ اَنْ یُّقِیْمَا حُدُوْدَ اللهِ ؕ وَ تِلْکَ حُدُوْدُ اللهِ یُبَیِّنُهَا لِقَوْمٍ یَّعْلَمُوْنَ ﴿۲۳۰﴾
"অতঃপর সে (স্বামী) যদি (তৃতীয়) তালাক দিয়ে দেয় তবে সে (তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী) তার জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত হালাল হবে না, যতক্ষণ না সে অন্য কোনও স্বামীকে বিবাহ করবে। অতঃপর যদি সে (দ্বিতীয় স্বামী) তাকে তালাক দিয়ে দেয়, তবে তাদের জন্য এতে কোনও গুনাহ নেই যে, তারা (নতুন বিবাহের মাধ্যমে) পুনরায় একে অন্যের কাছে ফিরে আসবে শর্ত হল, তাদের প্রবল ধারণা থাকতে হবে যে, (এবার) তারা আল্লাহর সীমা কায়েম রাখতে পারবে। এসব আল্লাহর স্থিরীকৃত সীমা, যা তিনি জ্ঞানবান লোকদের জন্য স্পষ্টরূপে বর্ণনা করছেন।" সুরা বাকারা: ১৩০
স্বাভাবিক এ শরয়ী হালালাতে কোনো শরয়ি কারাহাত নেই। কিন্তু যথারীতি স্কিম বানিয়ে শর্তযুক্ত হালালা ইসলামে বৈধ নয়। এ পদ্ধতি অবলম্বনকারীকেই হাদিসে التيس المستعار তথা ধার করা বকরা বলা হয়েছে। এবং মুহাল্লিল (দ্বিতীয় স্বামী) এবং মুহাল্লাল লাহু (প্রথম স্বামী) দুজনের ওপর লানত করা হয়েছে।
হাদিসের পাঠ হল নিম্নরূপ:
1936 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عُثْمَانَ بْنِ صَالِحٍ الْمِصْرِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ: سَمِعْتُ اللَّيْثَ بْنَ سَعْدٍ، يَقُولُ: قَالَ لِي أَبُو مُصْعَبٍ مِشْرَحُ بْنُ هَاعَانَ، قَالَ عُقْبَةُ بْنُ عَامِرٍ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِالتَّيْسِ الْمُسْتَعَارِ» ، قَالُوا: بَلَى، يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «هُوَ الْمُحَلِّلُ، لَعَنَ اللَّهُ الْمُحَلِّلَ، وَالْمُحَلَّلَ لَهُ»
[ابن ماجه ,سنن ابن ماجه ,1/623]
অর্থাৎ আমি কি তোমাদেরকে সংবাদ দেব না ধার কটা বকরা সম্পর্কে? সাহাবায়ে কেরাম বললেন : অবশ্যই ইয়া রাসুলুল্লাহ। তখন নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : মুহাল্লিলই হল ধার করা বকরি। আর আল্লাহ তায়ালা মুহাল্লিল এবং মুহাল্লাল লাহু দুজনের ওপরই লানত করেছেন। সুনানু ইবনে মাজা, হাদিস নং ১৯৩৬
সুতরাং সম্প্রতি ফেসবুকে বাকায়দা হালালা সেন্টারের ঘোষণা এবং হালালাকারী পুরুষদের সিভি জমা দেওয়ার আহ্বান কোনোভাবেই শরিয়তের সঙ্গে যায় না। পাশাপাশি অনেক পুরুষদের সিভি জমা পড়া আবার সেগুলোকে ফেসবুকে প্রকাশ করা আমাদের অজ্ঞ ও অতি উৎসাহী মুসলমানদের নৈতিক পরাজয় বটে। ভবিষ্যতে এ ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। এবং ইসলামি শরিয়ার পরিপূর্ণ পাবন্দি করতে হবে। অন্যথায় হাদিসের লানত আর গণমানুষের ধিক্কারই হবে আমাদের নিয়তি। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে হেফাজত করুন। আমিন।
লেখক: মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিআ হোসাইনিয়া মদিনাতুল উলুম, তজুমদ্দিন, ভোলা
জেডএম/
