আওয়ার ইসলাম: বাড়ি ছাড়া করতে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় এক পরিবারের ছয়টি পোষা কুকুরকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই পরিবারের আরও অভিযোগ, ‘কুকুর হত্যার পর আমাদেরও একইভাবে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে’।
গতকাল শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে শ্রীপুরের মাওনা ইউনিয়নের দক্ষিণ বারতোপা গ্রামে মৃত বাহাদুর খাদেমের স্ত্রী আলেয়া বেগমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যায় আলেয়া বেগম তার প্রতিবেশী হাতেম আলীর ছেলে হাশেম (৫০) ও আরিফের (২৮) বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
আলেয়া বেগমের লিখিত অভিযোগে উল্লেখ, ‘কুকুর হত্যার পর আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের এভাবে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিয়েছে হাশেম ও আরিফ।’
বিধবা আলেয়া বেগম জানান, একসময় সপরিবারে নোয়াখালী থাকতেন তারা। ২০০৬ সালের আগে গাজীপুরের মাওনা ইউনিয়নের দক্ষিণ বারতোপা গ্রামে জমি কিনে বাড়ি করে সেখানে উঠেন। তার অভিযোগ, ‘শুরু থেকেই আমাকে এই বাড়ি থেকে উচ্ছেদের জন্য আমার প্রতিবেশী হাশেম ও আরিফ হুমকি-ধমকি দেখিয়ে আসছে।’
আলোয়া জানান, বছর খানেক আগে তার বাড়িতে একটি মা কুকুর আসে, যাকে তারা পোষতে শুরু করেন। প্রায় তিন মাস আগে ওই কুকুর পাঁচটি ছানা প্রসব করে।
তার অভিযোগ, ‘(শনিবার) সকাল ৯টার দিকে আমার বাড়ির উঠানে এসে প্রথমে মা কুকুর ও পরে একে একে পাঁচটি ছানার গলা কাটে হাশেম ও আরিফ। এসময় তারা আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের কুকুরের মতো হত্যা করবে বলে হুমকি দিয়ে যায়।’
অভিযুক্ত হাশেমের দাবি, ‘তারা নিজেরাই কুকুর ছানা হত্যা করে আমাদের ওপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে। আলেয়া বেগম ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ঠিক না।’
মাওনা ইউপির সদস্য সুরুজ্জামান বলেন, ‘হাশেম ও আরিফ ওই বিধবার জমি দখলের চেষ্টা করছে বলে তারা আমাকে জানিয়েছিল। আমি তাকে প্রশাসনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম।’
শ্রীপুর থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোবারক হোসেন বলেন, ‘এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে; ঘটনা তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল জলিল জানান, কোনও পশুর সঙ্গে নির্দয় ও নিষ্ঠুর আচরণ করলে তার বিরুদ্ধে ১৯৮২ সনের অ্যানিমেল ক্রুয়েলিটি আইনে শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।
কেপি