বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৭ মাঘ ১৪৩২ ।। ৩ শাবান ১৪৪৭


কেন ভালবাসি আল মাহমুদকে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আব্দুল্লাহ আফফান: বাংলাদেশের আধুনিক প্রধান কবি সদ্য প্রয়াত আল মাহমুদ স্মরণে বিশেষ আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত। কল্যাণচিন্তার কাগজ আনতারা এ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছে।

গতকাল (২৪ ফেব্রুয়ারি) রোববার বিকাল ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত তোপখানা রোডের বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে এ আলোচনাসভা চলে।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেছেন মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ হাফেজ্জী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি আল মুজাহিদী। বিশেষ আলোচক হিসেবে ছিলেন, মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন, গাজী মানসুর আজিজ, মাওলানা হারুন ইজহার, যোবায়ের আহমদ আশরাফ ও আলী হাসান তৈয়ব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কবি আল মুজাহিদী বলেন, প্রয়াত কবি আল মাহমুদ আমার দীর্ঘ দিনের বন্ধু। ১৯৭১ য়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। এদেশের জন্য জেল খেটেছেন। বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধি করেছেন। অথচ শহীদ মিনারে তার লাশ নিতে দেয়া হয়নি।

ভাষার জন্য যারা সংগ্রাম করেছেন আমিও তাদের মধ্যে একজন। যারা বাংলাদেশ, বাংলা ভাষা, এ দেশের স্বাধীনতা জন্য কাজ করেছে তাদের সবার জন্য শহীদ মিনার উন্মুক্ত করে দেয়া হোক।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে উপস্থিত শ্রোতাদের হাত দেখিয়ে তিনি বলেন, এ হাত যদি আলো দিকে ধর তাহলে তা আলোকিত হবে, যদি অন্ধকারের দিকে ধর তাহলে অন্ধকার হবে। অতএব  তোমরা আলোর পথে চল।

মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী বলেন, আল মাহমুদকে আমরা ভালবাসি তার কারণ বর্তমানে তার মত শক্তিমান কবি আর নেই। আমরা তাকে তার লেখার জন্য ভালবাসি, তার কবিতার জন্য ভালবাসি। তার কবিতার মধ্যে যেভাবে আমি বাংলাকে খুঁজে পাই অন্য কোন কবিতার ভেতর সেভাবে পাই না।

আল মাহমুদকে ভালবাসার অরেকটা কারণ হল, আমাদের আদর্শিকের মিল। আমাদের বিশ্বাস এক। আমাদের ভাবনা এক। আমরা কুরআন হাদিস, নবি রাসুল বিশ্বাস করি, তিনিও করেন। বামপন্থিরা তাদের অদর্শগত দিক থেকে কারো সঙ্গে মতের মিল হলে তাকে ভালবাসে। তেমনি আল মাহমুদকে আমরা ভালবাসি, আমাদের সঙ্গে তার বিশ্বাসের মিল থাকার কারণে। আর এটাই স্বাভাবিক।

যাইনুল আবেদীন বলেছেন, বাংলা সাহিত্যে আল মাহমুদের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আঞ্চলিক ভাষা তার রচনার ফুটিয়ে তুলেছেন। একটা সময় ছিল যখন খাবারকে গ্রাস না বললে সাহিত্য হত না, তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন নলাটাও সাহিত্য হতে পারে।

বর্তমান বাংলাদেশে প্রায় ৮ লক্ষ  মসজিদ রয়েছে। মসজিদ মানেই মিনার, মসজিদ মানেই গম্বুজ, মসজিদ মানেই আজান। এগুলো বাংলাদেশের মানুষের সাথে অতপ্রত ভাবে জরিত, একজন কবি তার সমকালিন সময়ের কথা লিখবেন, সে সময়ের মানুষের কথা লিখবেন, এটাই স্বাভাবিক।

তখনকার মানুষের মুখের কথাগুলো আল মাহমুদ তার কবিতায় নিয়ে এসেছেন। তিনি ব্যবহার করেছেন আযান, কোথাও কুরআনের আয়াত, আল্লাহ, গাঙ, নলা। কিন্তু একশ্রেণির কবিরা এই শব্দগুলো ব্যবহার করা পছন্দ করেন না।

কিন্তু আমরা পেছনে দিকে ফিরে তাকালে দেখবো ততকালিন যুগের মানুষেরা এসব শব্দ অহরহ ব্যবহার করতেন। আমরা আল মাহমুদকে ভালবাসি তিনি ইসলামের কবি, মুসলমানদের কবি।  আল মাহমুদের রূহের মাগফেরাত কামনা করি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, আবু সায়েম খালেদ, রশিদ আহমাদ ফেরদাউস, মুফতি আহসানুল্লাহ, মাওলানা কামরুল হাসান। আব্দুস সাত্তার আইনী, রুহুল আমীন সাদী, ইফতেখার জামিল, তুহিন খান, হাসান রুবায়েত প্রমুখ।

আইএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ