আওয়ার ইসলাম: বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন ও প্রস্তাবিত এনআরসির প্রতিবাদে এবার পথে নামল পুরোহিতরা। একই সঙ্গে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখারও আহ্বান জানান তারা। মোদী সরকারের নাগরিকত্ব আইনকে বিভেদের রাজনীতি বলে অভিযোগ করে ব্রাহ্মণদের সংগঠন ‘পশ্চিমবঙ্গ সনাতন ব্রাহ্মণ পরিষদ’।
গতকাল সোমবার কলকাতার মেয়ো রোডে মহাত্মা গান্ধির মূর্তির পাদদেশে জমায়েত করে ‘পশ্চিমবঙ্গ সনাতন ব্রাহ্মণ পরিষদের’ সদস্যরা। সেখানেই তারা সিএএ বিরোধী স্লোগান দেন। পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্রীধর মিশ্রের কথায়, ‘ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগের যে চক্রান্ত তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।
বিতর্কিত সিএএ-এনআরসির উদ্দেশ্য একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে বাদ দেওয়া। যা খুবই দুর্ভাগ্যের। আমরা ঐক্যবদ্ধ ভারতের পক্ষে। বর্তমানে একটি সম্প্রদায়কে নিশানা করা হলে আমরাও পরে তার শিকার হতে পারি।’
উল্লেখ্য, চলতি মাসেই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে পাস হয়েছে সংসদে। পরে তা আইনে পরিণত হয়। এই আইনের মাধ্যমে, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্থান থেকে এদেশে আসা অ-মুসলমান ছয়টি সম্প্রদায়ের মানুষ ভারতের নাগরিরত্ব পাবেন।
সিএএ আইন ধর্মের ভিত্তিতে তৈরি, ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রে যা সংবিধান বিরোধী বলে দাবি করে বিরোধিরা। নয়া এই আইন ঘিরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। ইতিমধ্যেই ২৬ জন প্রতিবাদীর প্রাণ গিয়েছে।
দেশের উত্তর পূর্ব থেকে বাংলা, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, কার্নাটকের ম্যাঙ্গালোর, গুজরাট সর্বত্র প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলায় ট্রেন, বাস জ্বালানো থেকে রাস্তা অবরোধ চলেছে। নাকাল হয়েছেন সাধারণ মানুষ। বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণ পথে আন্দোলনের আর্জি জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
‘পশ্চিমবঙ্গ সনাতন ব্রাহ্মণ পরিষদের’ তরফ থেকে দেশে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শ্রীধর মিশ্র বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আইন তৈরির পিছনে উদ্দেশ্য রয়েছে।
কিন্তু, ভারতীয় সাধারণ নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ থেকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে প্রতিবাদ জানাতে হবে। ‘ব্রাহ্মণদের এই সংগঠন মনে করে ভারতে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে।
-এটি