শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ ।। ২৭ চৈত্র ১৪৩২ ।। ২২ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় বাংলাদেশি নারী নিহত ১১ এপ্রিল ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি গণরায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি ইসলামী আন্দোলনের ‘গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে’  ৪০ দিনের যুদ্ধে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ১৮ লক্ষ কোটি টাকা মার্কিন কংগ্রেসে জোরালো হচ্ছে ট্রাম্পকে অপসারণের দাবি দৌলতদিয়ায় বাসডুবিতে নিহত ২৬ জনের স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় দ্রুত কার্যকর না হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে: মাওলানা জালালুদ্দীন আহমাদ বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইইউ’র ভারতের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ

রহমতের বিন্দু বিন্দু শিশির কণা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ

পৃথিবীর কোনো স্থানে মানুষ সমবেত হয়ে এমন শৃঙ্খলার সাথে চলেছে কি ? বা চলার চেষ্টা করেছে কি? আমি জানি না। এবার ইজতেমা ২০২০ এর জনসংখ্যা ঠিক কততে গিয়ে ঠেকেছে, এটা বলা মুশকিল। শুধু এতোটুকুই বলতে পারি, রাত ঠিক তিন/সাড়ে তিনটার দিকেও ইজতেমার টয়লেট, চলার পথ, একেবারেই ভরা ছিল। চলাফেরা করা, নিজের প্রয়োজন পূরণ করা দুঃসাধ্য ছিল।

অন্যবারও রাস্তা লোকে ভরা থাকে। তবে আজকের ভরা ওইরকম ভরা না। আপনি চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতে পারবেন না। আপনি ভেবে অবাক হবেন, এতো লোক, এতো খোদাপ্রেমি এলো কোত্থেকে!

কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ, ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী, ছাত্র, শিক্ষক, আলেম, সাধারণ শিক্ষিত লোকজনও এসেছে। সব ধরনের লোক ইজতেমায় এসেছে। সবার মুখে মুখে জিকির।

ছিঁড়াফাড়া তাবুর নীচে জায়গা পায়নি প্রায় কয়েক লাখ মানুষ। তাই তারা বরফের মত কুয়াশা উপেক্ষা করে, বসার এবং শোয়ার জন্য একটু স্থান করে নিয়েছে টয়লেটের পাশে, খোলা আকাশের নীচে।

বোধ করি, মানুষ স্রেফ আমোদপ্রমোদের জন্য এভাবে কষ্ট করতে পারে না। এটা অবশ্যই কোনো লৌকিকতার বাহুল্য নয়।

আমি এক জরাজীর্ণ ক্ষীণকায় চাচার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, আপনার বয়স তো অনেক হয়ে গেছে, ঠিকমত হাঁটতেও পারছেন না, এতো কষ্টকরে ইজতেমায় কেন এসেছেন?

তিনি আমাকে অবাক করে দিয়ে উত্তর দিলেন, তাবলীগ জামাতেরে আল্লাহ কবুল কইরা নিসে, এই মেহনত যারা কইরবো, তাগোরেও আল্লাহ কবুল কইরা নিব। আমি নিজের গুনাহগুলো মাফ করাইতে আইসি। আল্লাহ আমারেও কবুল কইরা নিবো, এই আশায় আইসি।

এই চাচার উদ্দেশ্যই শুধু এরকম না, প্রায় সবারই ইচ্ছে নিজেকে একটু কবুল করানো। সম্মিলিত মুনাজাতে নিজেও একটু অশ্রুসিক্ত হওয়া।

ধারণা করা হচ্ছে, স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনসমাগম হয়েছে এবার ইজতেমায়। তাবলীগের শীর্ষ মুরুব্বি মাওলানা যুবাইর সাহেব। বারবার নির্দেশনা দিচ্ছেন, ভাই, নিজে কষ্ট করি অপরভাইকে কষ্ট না দেই, সাহাবায়ে কেরামের কুরবানির কথা স্মরণ করি। তাদেরমত মুআমালা করার চেষ্টা করি।

ইজতেমায় সরকারকর্তৃক কোনো বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নেই, তবুও এতোগুলা লোক কীভাবে শৃঙ্খলভাবে চলছে, এটাই অভাবনীয় বিষয়।

হলফ করেই বলা যায়, আল্লাহ তাআলা এই ময়দানকে, এবং এই ময়দানের মেহনতি মানুষদেরকে কবুল করে নিয়েছেন। এই জন্যই তো তারা বৃষ্টিকে স্রেফ বৃষ্টি মনে করছে না। ভাবছে, আল্লাহ তাআলার রহমতের বিন্দু বিন্দু শিশির কণা।

সম্পাদক, মাসিক ঈশান।

আরএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ