জহির উদ্দিন বাবর ।।
পৈত্রিক সূত্রে হজরত মাওলানা আযহার আলী আনোয়ার শাহ রহ. সিলেটের মানুষ। তবে তাঁর জন্ম কিশোরগঞ্জে। শহীদি মসজিদের দোতলায় ছিল আতহার আলী রহ.-এর বাসা, সেখানেই তিনি জন্মগ্রহণ করেন। এজন্য জীবনের পুরোটাই আবর্তিত হয়েছে কিশোরগঞ্জকে কেন্দ্র করে।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক পরিচিতি ছিল, কিন্তু তিনি কিশোরগঞ্জের মাটি ও মানুষের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে গিয়েছিলেন। মায়াবি এই শহরেই কেটেছে তাঁর পুরো জীবন। বাবার হাতে গড়া জামিয়া ইমদাদিয়া আর শহীদি মসজিদই ছিল তাঁর ধ্যান-জ্ঞান।
আশির দশকের শুরু থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ছিলেন জামিয়া ইমদাদিয়ার মুহতামিম আর শহীদি মসজিদের খতিব ও মুতাওয়াল্লি। এই দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ইট-পাথরের সঙ্গে মিশে আছে শাহ সাহেব রহ.-এর শ্রম ও সাধনা।
কিশোরগঞ্জসহ গোটা ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষের অভিভাবক ছিলেন শাহ সাহেব রহ.। এই অঞ্চলের দীনি বিষয়াদি তাঁর নেতৃত্বেই আবর্তিত হতো। যেকোনো দীনি প্রতিষ্ঠানে সংকটের সৃষ্টি হলে সবাই শরণাপন্ন হতেন শাহ সাহেব রহ.-এর।
আর কিশোরগঞ্জ জেলাজুড়ে ধর্মীয় অঙ্গনে শাহ সাহেবের চাওয়ার বাইরে কিছু হওয়ার সুযোগ ছিল না বললেই চলে। কোনো ব্যাপারে শাহ সাহেব বলেছেন সেটার বিপরীত করার মতো হিম্মত এই জেলায় কারও ছিল না। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর শাহ সাহেবের একচেটিয়া প্রভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। সবাই তাঁকে অভিভাবক হিসেবে অসম্ভব মানত, তাঁকে শ্রদ্ধার অনন্য মণিকোঠায় স্থান দিতো।
সাধারণত আলেম-উলামার প্রভাব মসজিদ-মাদরাসাতেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু ব্যতিক্রম ছিলেন শাহ সাহেব রহ.। কিশোরগঞ্জের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও শাহ সাহেব রহ.-এর প্রভাব ছিল অবিশ্বাস্য রকমের।
স্থানীয় প্রশাসন তাঁকে অসম্ভব সমীহ করতো। জামিয়া ইমদাদিয়ার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পদাধিকার বলে জেলা প্রশাসক মজলিসে আমেলার সভাপতি হন। এজন্য যখন যে জেলা প্রশাসক কিশোরগঞ্জে এসেছেন তিনিই শাহ সাহেবের ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়েছেন। শাহ সাহেবের ভক্ত নন এমন কোনো ডিসি আজ পর্যন্ত কিশোরগঞ্জে আসেননি।
যেহেতু তিনি রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না এজন্য আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কাছে তিনি ছিলেন অনেক প্রিয়। সবাই তাঁকে শ্রদ্ধা ও সমীহ করতো। এমনকি যারা ধর্মকর্মের ধার ধারেন না তাদের কাছেও প্রিয় ছিলেন শাহ সাহেব হুজুর।
এককথায় কিশোরগঞ্জের সাধারণ-অসাধারণ প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে তাঁর অবস্থান ছিল অনন্য শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার। সর্বমহলের এতোটা ভালোবাসার মানুষ নিকট অতীতে কি