আওয়ার ইসলাম: রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গত সেপ্টেম্বরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোবাইল যোগাযোগ নিষ্ক্রিয় করার জন্য দেশের মোবাইল কোম্পানিগুলোকে সিম বিক্রি ও থ্রি-জি, ফোর-জি নেটওয়ার্ক বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল বিটিআরসি। এর ফল হয়েছে উল্টো।
জানা যায়, এখন ক্যাম্প এলাকায় কর্মরত সরকারি-বেসরকারি, জাতিসংঘ এজেন্সিসহ বিদেশি সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা মোবাইলে যোগাযোগ করতে না পারলেও রোহিঙ্গারা দিব্যি মোবাইলে ইন্টারনেট কানেকশন দিয়ে দেশে-বিদেশে যোগাযোগ করছে।
এ ক্ষেত্রে তারা পাশের মিয়ানমারের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে। আর ওই নেটওয়ার্ক দিয়ে রোহিঙ্গারা এমন কিছু অ্যাপ (ট্রেসলেস) ব্যবহার করছে, যা দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। ঝুঁকি রয়েছে আরও। টেকনাফ, উখিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশের মোবাইল ফোন কোম্পানির টাওয়ারগুলোর আওতা মিয়ানমারের ভিতরে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বলে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ নেটওয়ার্কের কারণে বাংলাদেশি বিভিন্ন মোবাইল ফোন অপারেটরের সিমকার্ড ব্যবহার হচ্ছে মিয়ানমারের ভিতরেও। সীমান্ত এলাকায় অন্য দেশের নেটওয়ার্ক ব্যবহারের ফলে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাজনিত হুমকি আরও বেড়েছে বলে মনে করছে সরকারের নিরাপত্তা সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসন। এ অবস্থায় তারা সেখানে (রোহিঙ্গা ক্যাম্পে) মোবাইল সেবা ও ইন্টারনেট কানেকশন বন্ধ করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
গত ২৬ মার্চ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ‘মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক প্রত্যাবাসিত মিয়ানমারের নাগরিক (রোহিঙ্গা)-সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স’-এর সভায় এ প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে বিষয়টি যেহেতু রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত, সে কারণে ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয়: মোবাইল সেবা ও থ্রি-জি, ফোর-জি নেটওয়ার্ক বন্ধের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন জাতীয় কোর কমিটিতে পাঠানো হবে। ওই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে নেওয়া হবে পরবর্তী পদক্ষেপ।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা জানান, ভিন্ন দেশের নেটওয়ার্ক দিয়ে রোহিঙ্গারা এমন কিছু মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করছে যা বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোও চিহ্নিত করতে পারছে না।
এটি সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্তের এপারে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে যেসব কর্মকা- পরিচালিত হয়, তা মুহূর্তে সম্প্রচার হয়ে যাà§