বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৮ মাঘ ১৪৩২ ।। ৩ শাবান ১৪৪৭

শিরোনাম :
ভারতে বসে শেখ হাসিনার বিবৃতি, দিল্লিকে যে বার্তা দিলো বাংলাদেশ আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে: প্রেস সচিব ফের চালু হচ্ছে এনআইডি সংশোধন কার্যক্রম, জানা গেল তারিখ ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে ক্ষমতায় গেলে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেবে বিএনপি: তারেক রহমান নিউমার্কেট এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, যান চলাচল শুরু ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিষদে যোগ দিচ্ছে যেসব মুসলিম দেশ আলেমদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য ব্যারিস্টার আরমানের, সমালোচনার ঝড় ওয়ার্ড জামায়াত সেক্রেটারি যোগ দিলেন ইসলামী আন্দোলনে ভোটের তিন বাক্স, ইসলামপন্থীদের প্রত্যাশার প্রতিফলন কতটা ঘটবে?

যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান শান্তিচুক্তি, বিশ্বনেতারা যা বলছেন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: প্রায় দেড় বছর ধরে এ নিয়ে আলোচনার পর শনিবার কাতারের রাজধানী দোহা’য় এই চুক্তি স্বাক্ষর করে উভয় পক্ষ। এরপরই বিশ্বনেতারা এই চুক্তিকে সাধুবাধ জানিয়েছেন। আফগানিস্তানে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য একে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে আখ্যায়িত করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরাঁ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে এই চুক্তির প্রশংসা করেন। অন্যদিকে তালেবানরা এই চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছে। কাতারে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রাহমান আল থানি বলেছেন, তাদের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি স্বাক্ষর সম্ভব হয়েছে। সাধুবাদ জানিয়েছে সৌদি আরব, ন্যাটো, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

শনিবার স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ চারটি পয়েন্ট। এর মধ্যে ১৪ মাসের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন ও ন্যাটোর সেনাদের পর্যায়ক্রমে পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে। এর বিনিময়ে তালেবানদের কাছ থেকে নিশ্চয়তা চাওয়া হয় যে, আফগানিস্তানের মাটি এমন কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করতে দেয়া যাবে না, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা হুমকিতে পড়ে। ১০ই মার্চের মধ্যে আন্তঃআফগান সমঝোতা শুরু করতে হবে। শান্তিচুক্তি হতে হবে স্থায়ী এবং বিস্তৃত।

এই চুক্তির পর জাতিসংঘ মহাসচিব বলেছেন, আফগানিস্তানের টেকসই রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য দোহা এবং কাবুল গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি করেছে। এ সময় তিনি আফগানিস্তানে সহিংসতা কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বলেন, এর ফলে সুবিধা ভোগ করবে সব আফগান নাগরিক। সবাই মিলে একটি সমঝোতা এবং বিস্তৃত শান্তি প্রক্রিয়ার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য তিনি সব পক্ষকে উৎসাহিত করেন।

অন্যদিকে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রাহমান আল থানি এই চুক্তিকে ঐতিহাসিক বলে আখ্যায়িত করেছেন। বলেছেন, আঞ্চলিক এবং বিশ্বের জন্য এই চুক্তি শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি অর্জনে অবদান রাখবে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, তারা আশা করে, এই চুক্তি হবে বিস্তৃত এবং স্থায়ী। এতে আফগানিস্তানজুড়ে শান্তি আসবে।

ন্যাটো এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। ন্যাটো মিত্রদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি শান্তিতে যে অগ্রগতি হয়েছে তাতে সহিংসতা কমে আসবে এবং আফগানিস্তানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা হবে। স্থায়ী শান্তির প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এই চুক্তিকে বর্ণনা করেছেন ন্যাটো মহাসচিব জেন্স স্টোলটেনবার্গ।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে পুনরেকত্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হলো। তিনি টুইটারে লিখেছেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যে স্বাক্ষরিত দোহা চুক্তিকে স্বাগত জানাই।

এক দশকের বেশি সময় যে যুদ্ধ চলছে এবং তাতে আফগানিস্তানের মানুষের যে দুর্ভোগ তার ইতি ঘটিয়ে শান্তি ও পুনরেত্রীকরণের সূচনা হবে এর মাধ্যমে। ওদিকে কাতারে তালেবানের রাজনৈতিক অফিসের প্রধান মোল্লা আবদুল গনি ব্রাদার বলেছেন, তারা চুক্তি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তার ভাষায়, আমি আফগানিস্তানের সব মানুষকে আহ্বান জানাবো শান্তি ও শান্তির জন্য সমঝোতায় সবাই সততার সঙ্গে একত্রিতভাবে কাজ করুন। এক বিবৃতিতে তালেবান বলেছে, তারা আফগানিস্তানে দখলদারীর অবসানে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে।

এই চুক্তির ফলে আফগানিস্তান থেকে বিদেশী সব সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার হবে। তারা আভ্যন্তরীণ বিষয়ে আর নাক গলাতে পারবে না। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এই চুক্তি স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ