আওয়ার ইসলাম: চীনের মহামারী রূপ নেওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। এরই মধ্যে বিশ্বের ৬০টির বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন এই ভাইরাস।
সারা বিশ্বে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৫ জনে দাঁড়িয়েছে। চীনে সোমবার আরও ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চীনে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ৯৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
চীনের বাইরে মারা গেছে ১৭২ জন। এদের মধ্যে ইরানে ৬৬ জন, ইতালিতে ৫২ জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ২৯ জন, জাপানে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই চিন্তিত গোটা বিশ্ব। আরো বেশি চিন্তার কারণ হল, করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার উপায় এখনো মেলেনি।
গবেষকরা মনে করছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রতি ১,০০০ জনের মধ্যে ৫ থেকে ৪০ জনের মৃত্যু হতে পারে। বিজ্ঞানীদের একটা বড় অংশের মতে, প্রতি ১,০০০ করোনাভাইরাসে আক্রান্তের মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু হতে পারে।
অর্থাৎ, এই হিসাব অনুযায়ী, করোনাভাইরাসে রোগী মৃত্যুর হার ১ শতাংশেরও কম। যদিও তারা জানাচ্ছেন, এই মৃত্যুর বিষয়টি আরো অনেকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভর করে। যেমন, রোগীর বয়স, লিঙ্গ এবং স্বাস্থ্যের অবস্থা ইত্যাদি।
করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার নির্ধারণ করা কতোটা সম্ভব?
বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার নিশ্চিতভাবে বলাটা বেশ কঠিন। এমনকি কতজন রোগীর মৃত্যু হল, তা-ও স্পষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না এই মুহূর্তে। কারণ, বেশির ভাগ করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা হিসাবের বাইরেই থেকে যায়।
কারণ, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রাথমিক উপসর্গগুলোকে উপেক্ষা করে অধিকাংশ রোগীই চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। এই ভাইরাসের প্রাথমিক উপসর্গগুলোর ভিন্নতার কারণে গোটা বিশ্বেই এখনো যথেষ্ট ধোঁয়াশা রয়েছে। ফলে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সঠিক সংখ্যাটা সামনে আসে না।
লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, সংক্রমণ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তের ক্ষেত্রে কিছু দেশ পারদর্শী হলেও বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই এর তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে আক্রান্তের হিসাব রাখাটা বেশ কঠিন। তাই মোট আক্রান্তের সংখ্যা সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করা না গেলে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
এই ভাইরাসে কাদের প্রাণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?
চিনে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের শিকার ৪৪ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রথম যে বিশদ বিশ্লেষণটি পাওয়া যায় সেটি হল, মধ্য বয়সীদের তুলনায় বয়ো-বৃদ্ধদের মধ্যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার প্রায় ১০ গুণ বেশি।
৩০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুহার সবচেয়ে কম, ৪,৫০০ জন আক্রান্তের মধ্যে মাত্র ৮ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। তবে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা শ্বাসকষ্ট রয়েছে, তাদের মধ্যে মৃত্যুর হার প্রায় ৫ গুণ বেশি।
আরএম/