সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
সিলেট সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিএনপি-জামায়াত আমলে আলিয়া মাদরাসা বাড়ে ১৫৪১টি, আ.লীগ আমলে কমেছে ১৭৯টি আলী মিয়াঁ নদভীকে নিয়ে বই লিখে দিল্লি উর্দু একাডেমির পুরস্কার লাভ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় হেফাজতের শোক, ক্ষতিপূরণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসার দাবি রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা পাকিস্তানসহ ৪ দেশের  বিশ্বজয়ী হাফেজ হিরাকে শুভেচ্ছা জানালেন মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী ২০২৭ সালে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, তারিখ চূড়ান্ত জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌদি আরব ও কাতারের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ বিশ্বজয়ী হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরাকে সংবর্ধনা দিল ধর্ম মন্ত্রণালয় লক্ষ্মীপুরে ড্রাম ট্রাকচাপায় বৃদ্ধ ভ্যানচালকের মৃত্যু

‘মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলার কোন সুযোগ নেই’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীর লাশ থেকে সংক্রমণের আশংকায় অনেকে লাশ পুড়িয়ে ফেলার পরামর্শ দিচ্ছেন৷ অনেকে পুড়েও ফেলছেন৷ এটা কতটুকু শরিয়তসম্মত? এ বিষয়টি এ পরিস্থিতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে দেশের বিজ্ঞ আলেম ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছেন আওয়ার ইসলামের সিনিয়র করসপেন্ডেন্ট সুফিয়ান ফারাবী।


একাত্তর টেলিভিশনের উপস্থাপিকা ফারজানা রুপা একাত্তর জার্নাল নামে একটি টকশোতে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যারা করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুবরণ করছেন তাদেরকে পুড়িয়ে ফেলা যায় কিনা? এবং এটি কি অধিকতর বিজ্ঞানসম্মত নয়?

প্রতি উত্তরে ডাক্তার আব্দুল্লাহ বলেছিলেন আমাদের দেশে ধর্মীয় সেন্টিমেন্টাল জড়িত। তাছাড়া কোন মানুষ যদি ভাইরাস সংক্রমিত হয়ে মারা যায়, তখন তাকে কবরস্থ করা হলে এরপর আর ভাইরাস সংক্রমণ হয় না। ভাইরাস মানুষের শরীরে এবং বাইরে একরকম বাঁচে না। সুতরাং আক্রান্ত ব্যক্তিকে মাটিচাপা দেয়া বা কবরস্থ করা বিজ্ঞানসম্মত মনে করছি।

একই বিষয়ে জার্মানভিত্তিক ডয়চে ভেলে বাংলা বিভাগের প্রধান খালেদ মহিউদ্দিন বলেছেন, সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি কে পুড়িয়ে ফেলার মাধ্যমে ভাইরাস দেখানো যাবে এরকম কোন কিছু এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি। মাটি চাপা দিয়ে দিলেও ভাইরাস সংক্রমণ বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল ডয়চে ভেলে কর্তৃক একটি লাইভ প্রোগ্রামে এ কথা বলেছিলেন খালেদ মুহিউদ্দীন।

কবরস্থ করা বিজ্ঞানসম্মত? কী বলছেন আলেমরা!

চট্টগ্রাম ওমর গনি কলেজের সাবেক অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মাওলানা আ ফ ম খালিদ হোসাইন বলেন, উপস্থাপিকা যখন বিষয়টি তুলেছিলেন তখনই ডাক্তার আব্দুল্লাহ এর বিজ্ঞান সম্মত উত্তর দিয়েছিলেন।

ডঃ আব্দুল্লাহ বলেছিলেন, ভাইরাসকে যখন মাটির নিচে চাপা দেয়া হয়, তখন এটি সংক্রমিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং সংক্রমিত মৃত ব্যক্তিকে কবরস্থ করলে ভাইরাস সংক্রমিত হবে না।

এটি বিজ্ঞানসম্মত। এ ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে কোন মুসলমান মৃত্যু বরণ করলে তাকে কবরস্থ করাটাই অধিকতর স্বাস্থ্যকর।

পূর্ব যুগে যারা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুবরণ করতেন তাদেরকে কী করা হতো?

মুফতি আরশাদ রহমানী বলছেন, ইসলামের স্বর্ণযুগে, রাসূল স. ও সাহাবীদের শাসনামলে বিভিন্ন সময়ে মহামারী দেখা দিয়েছিল। এটি ইতিহাসের বিভিন্ন কিতাবে পাওয়া যায়। কিন্তু ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে মানুষকে পুড়িয়ে ফেলা কোন কিতাবে পাওয়া যায় না। এর কোন ঐতিহাসিক হদিস নেই।

আমাদের দেশেও ইতিপূর্বে কলেরা ও নানা রকমের মহামারী দেখা দিয়েছিল। এমনও হয়েছে, একই পরিবারের পাঁচজন সদস্যের তিনজন মারা গিয়েছিল। তখন স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই মানুষকে কবরস্থ করা হতো। অথবা মানুষের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাকে দাহ করা হতো।

তিনি আরো বলেন, কোনক্রমেই একজন মুসলিমকে দাহ করা যাবে না। এটা শরীয়তসিদ্ধ কোন পদ্ধতি নয়। এমনকি এর কোন শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক ভিত্তিও নেই।

সংক্রমিত ব্যক্তির জানাজা কেমন হবে?

মাওলানা আ ফ ম খালিদ হোসাইন বলেন, এক্ষেত্রে হাসপাতালগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশা করছি। যখন কোন মৃত ব্যক্তিকে তারা দাফনের জন্য ছেড়ে দিবে, তখন এন্টি ভাইরাস স্প্রে ছিটিয়ে তারপর তাকে হস্তান্তর করবে।

মৃত ব্যক্তির শরীরে এন্টিবায়োটিক ছড়ানোর পর তার থেকে সংক্রমিত হওয়ার কোন সুযোগ থাকেনা।

এছাড়াও জানাযা ও দাফনের সময় অধিক জনসমাগমের প্রয়োজন নেই। নিকটস্থ আত্মীয়-স্বজন তার জানাযা আদায় করবে।" যোগ করেন আ ফ ম খালিদ হুসাইন।

মুফতি আরশাদ রহমানী বলেন, সতর্কতা সর্বোচ্চ পর্যায়, প্রয়োজনে ছেড়ে দিতে হবে মোবাহ আমলগুলো। আমাদেরকে সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে ঠিক, তবে ধর্মের বাইরে যাওয়া যাবে না। আর ইসলাম কোন আজগুবি ধর্ম নয়। মানব জাতির কল্যাণে ইসলামের আগমন। ইসলাম সর্বোচ্চ সর্তকতা অবলম্বন করার বার্তা মানুষকে দিচ্ছে।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ