আওয়ার ইসলাম: সৌদির চাবুক বা বেত্রাঘাতের শাস্তি থাকছে না। কশাঘাতের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট অপরাধীকে জেল-জরিমানা করা হবে। দেশটির সুপ্রিম কোর্টের এক নথিতে এমনটাই বলা হয়েছে। ওই নথির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর দিয়েছে।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান, কার্যত তিনিই শাসক, দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটিতে যেসব ‘বিতর্কিত’ সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন, তার অংশ হিসেবেই সর্বশেষ এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। কশাঘাত ইসলামী শরীয়তের একটি বিধান।
মানবাধিকার সংগঠন ও কর্মীরা এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বলে মনে করছেন। তবে সর্বশেষ এই সিদ্ধান্ত সব ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না। যেমন- শারীরিক শাস্তি অঙ্গ কেটে দেওয়া বা অন্যান্য ক্ষেত্রে তা অব্যাহত থাকবে। এর ফলে শাস্তি কার্যকরের ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিন সালমান দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০৩০ সাল পর্যন্ত যে সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন তার মূলমন্ত্র হলো- তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে অর্থ উপার্জন করা। এ জন্য পর্যটন, বিনোদন ও অন্যান্য বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এর অংশ হিসেবে দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক পর দেশটিতে চালু হয়েছে সিনেমা হল। এ ছাড়া নারীদের গাড়ি চালানো, মাঠে গিয়ে খেলা দেখা, কনসার্ট দেখা, অভিভাবকের অনুমোদন ছাড়া পাসপোর্ট প্রাপ্তি ও বিদেশ ভ্রমণের অনুমতিসহ বিভিন্ন ‘বিতর্কিত’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে সৌদি প্রিন্সের এসব কর্মকাণ্ডের ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। এ জন্য সমালোচনাকারীদের ওপর নানা দমনপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। অনেক আলেমকে ও নারী মানবাধিকার কর্মীকে বন্দি করা হয়েছে। এমনকি নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে রাজপরিবারের অনেক সদস্যকে বন্দি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
২০১৫ সালে সাইবার ক্রাইম ও ইসলাম অবমাননার শাস্তি হিসেবে ব্লগার রাইফ বাদাউয়িকে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতের সাজা দেওয়া হয়। এর পর তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়।
গত বছরের ২ অক্টোবর তুরস্কের সৌদি কনস্যুলেটে হত্যা করা হয় সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে। যিনি বিন সালমানের অন্যতম সমালোচক ছিলেন। হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে যুবরাজের নামই উঠে এসেছে। এ ঘটনায় দেশটির ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন হয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতেই সর্বশেষ এই উদ্যোগ নেওয়া হলো। কিন্তু এই বিধান নিয়েও বৈষম্য যে হবে না তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। যেখানে গতকাল শুক্রবারও দেশটির কারাগারে প্রখ্যাত এক মানবাধিকার কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
তাছাড়া বেত্রাঘাত বা কশাঘাত ইসলামী শরীয়তের একটি বিধান। সেখান থেকে সরে আসলে বা তাতে কমবেশি করলে দেশটিতে যে প্রতিবাদ বা সমালোচনা হবে, তাদের বিরুদ্ধেই যে এই শাস্তি প্রয়োগ করা হবে না তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। কারণ আইনটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি।
-এটি