আওয়ার ইসলাম: বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত সৌদি আরবেও করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। দিন দিন বাড়ছে প্রাণহানি। দেশটিতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন, তাদের প্রায় অর্ধেকই বাংলাদেশি।
সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী গতকালকের হিসেবে, ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৫৯১ জন। মারা গেছেন ৩১ জন। আর, সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৬৫১ জন।
ওয়ার্ল্ডওমিটারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯৫ হাজার ৭৪৮ জন। মারা গেছেন ৬৪২ জন। তবে ৭০ হাজার ৬১৬ জন সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন।
করোনায় মারা যাওয়া ৬৫১ জনের মধ্যে ২২৫ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। স্বল্প জায়গায় গাদাগাদি করে বসবাস, স্বাস্থ্যবিধি না মানা ও অপুষ্টি এর মূল কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস মনে করছে, অন্য দেশের অভিবাসীদের তুলনায় সেখানে বাংলাদেশিদের আক্রান্ত হওয়ার হার কিছুটা বেশি হলেও তা অস্বাভাবিক বা আশঙ্কাজনক নয়।
সৌদি আরবের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২৫ মে পর্যন্ত সেখানে করোনা আক্রান্তবাংলাদেশির সংখ্যা ১০ হাজার ৯০৫ জন। দেশটিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ জানান, ওই সময় পর্যন্ত কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে ৮৭ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন।
তিনি বলেন, সৌদি আরবে প্রায় ২২ লাখ বাংলাদেশি রয়েছেন, সেই অনুপাতে খুব কম সংখ্যক বাংলাদেশি কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এটা আশঙ্কাজনক কিছু নয়। তবে তুলনামূলকভাবে অন্যান্য দেশের অভিবাসী শ্রমিকদের চেয়ে বাংলাদেশিদের আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি বলে মন্তব্য করেন গোলাম মসীহ।
তিনি বলেন, সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের অধিকাংশের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বা সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। বেশি সংখ্যক বাংলাদেশির আক্রান্ত হওয়ার জন্য এটি একটি কারণ হয়ে থাকতে পারে।
সেখানে থাকা বাংলাদেশিদের অনেকেই মনে করেন, তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা বেশি। জীবন ও জীবিকার তাড়নায় তারা অসচেতন জীবনযাপন করতে বাধ্য হন বলেও জানালেন তারা। বাংলাদেশিদের অধিকাংশই কম দক্ষতাসম্পন্ন শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তারা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বদ্ধ জায়গায় একসঙ্গে গাদাগাদি করে বসবাস করেন। এরকম পরিস্থিতিতে শারীরিক দূরত্ব মানা বা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা প্রায় অসম্ভব।
এছাড়া অনেকে বাংলাদেশিই করোনাভাইরাস পরীক্ষা করাতে পারছেন না। ব্যক্তিগত গাড়ি না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টের রোগি হাসপাতালে যেতে পারছেন না এবং চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছেন।
এদিকে, করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় সৌদি আরবে মারা যাওয়া বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ। তিনি বলেন, মৃতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ি সৌদি আরবেই দাফন করা হয়েছে।
-এটি