মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণেই প্রধান শহরগুলো ডুবছে: পীর সাহেব চরমোনাই উচ্চারণ ও উপস্থাপনা কোর্সে ১০০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী পাবেন বিশেষ স্কলারশিপ মসজিদে নববিতে বিশেষ দারস দেবেন শায়খ আস-সুদাইস বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের খুলনা বিভাগীয় কওমি মাদরাসা পরিষদের নেতৃত্বে মাওলানা মুশতাক ও নাসীরুল্লাহ বন্যার পানিতে ডুবে পটিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীর মৃত্যু মডেল মসজিদ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ বাংলাদেশি হাজিদের খরচ কমাতে সৌদি আরবের সহযোগিতা কামনা জলাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে ছুটি বাড়ল জামেয়া দারুল মাআরিফের ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩২৭

ফুটবল ম্যাচ দেখা জায়েয আছে কি?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ফরহাদ খান নাঈম।।

টেলিভিশনে যে ফুটবল ম্যাচ দেখানো হয়, তাতে শরীয়ত বিরোধী বেশ কয়েকটি বিষয় রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব ম্যাচ জুয়া খেলার হুকুমে পড়ে যায় যা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম।

এছাড়াও এতে খেলোয়াড়দের সতর খোলা থাকে। আর দর্শক গ্যালারিতে থাকা বেপর্দা নারী ও বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার - এ সব কিছুই ইসলামের দৃষ্টিতে নাজায়েজ।

আর সময়ের অপচয় তো রয়েছেই। ম্যাচ দেখতে যে সময়টা ব্যয় হচ্ছে, তা অন্যভাবে আরো ভালো কিছুতে ব্যয় করা যেতো।

কোনো মুসলমানের এমন কিছুতে সময় বিনিয়োগ করা উচিত নয় যা দুনিয়া - আখিরাত কোনোভাবেই তার কোনো কাজে আসে না।

ম্যাচ দেখে যদি অবসর সময় কাটানো উদ্দেশ্য হয়, তাহলে অবসর সময় কাটানোর আরো অনেক উত্তম পন্থা রয়েছে। বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করে, কুরআন তিলাওয়াত করে, বিভিন্ন হাদীসগ্রন্থ অধ্যয়ন করে ও জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়াদি নিয়ে ইসলামের বিধিবিধান পর্যালোচনা করে অবসর সময়কে আরো অর্থবহ করে তোলা যায়।

এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ উলামায়ে কেরামের মত হলো, যেসমস্ত ম্যাচ অর্থ কিংবা তৎসদৃশ কোনো পুরস্কারের জন্য খেলা হয়, তা হারাম। কারণ এটা জুয়ার আওতায় পড়ে যায়। আর যে খেলা খেলতে নিষেধ, তা দেখাও নিষেধ।

তবে শরীয়ত সমর্থিত কোনো খেলা যেমন- দৌড় প্রতিযোগিতা, ঘোড়দৌড়, উটের দৌড় ইত্যাদি খেলায় পুরস্কার গ্রহণ করা যেতে পারে।

তবে খেলা যদি অর্থের জন্য খেলা না হয় ও খেলা দেখতে গিয়ে যদি আল্লাহর কোনো হুকুম পালনে যেমন- নামাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি না হয়, এবং এতে শরীয়ত বিরোধী কোনো বিষয় না থাকে যেমন- খেলোয়াড়দের সতর অনাবৃত না থাকে, গ্যালারিতে নর-নারীর বেপর্দা অবস্থান না থাকে, বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার না থাকে, তবে এরকম খেলা খেলতে ও দেখতে কোনো বারণ নেই।

শাইখ ইবনে উসাইমিনকে ফুটবল ম্যাচ দেখার বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো। উত্তরে তিনি বলেছিলেন- আমি মনে করি, টেলিভিশনে দেখানো ফুটবল ও অন্যান্য ম্যাচ দেখা নিছক সময়ের অপচয় ছাড়া কিছুই নয়। কোনো বিজ্ঞ ব্যক্তির পক্ষে এমন কিছু করে সময় নষ্ট করা ঠিক নয় যা কোনোভাবেই তার জন্য কোনো উপকার বয়ে আনে না।

ফুটবল খেলায় খেলোয়াড়দের সতর খোলা থাকে। আর দর্শক গ্যালারিতে থাকা বেপর্দা নারী ও বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার - এ সব কিছুই ইসলামের দৃষ্টিতে নাজায়েজ। এছাড়াও এসব ম্যাচে আরও অনেক ফিতনা রয়েছে।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, খেলা দেখতে গিয়ে দর্শক বিশেষ কোনো খেলোয়াড়ের ভক্ত হয়ে যায়। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফুটবল খেলোয়াড়গণ অমুসলিম হয়ে থাকে। কোনো কাফিরের ফ্যান কিংবা ভক্ত হওয়াও ইসলামে নাজায়েজ। হোক সে খেলোয়াড়, অভিনেতা কিংবা অন্য কোনো সেলিব্রিটি।

একজন মুসলমানের উচিত সময়কে মূল্যায়ণ করে ভালো কোনো কাজে সময় বিনিয়োগ করা। কেননা সময় পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।

আল্লাহ তা'য়ালাই ভালো জানেন।

IslamQA থেকে ফরহাদ খান নাঈমের ভাষান্তর।


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ