সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা পাকিস্তানসহ ৪ দেশের  বিশ্বজয়ী হাফেজ হিরাকে শুভেচ্ছা জানালেন মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী ২০২৭ সালে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, তারিখ চূড়ান্ত জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌদি আরব ও কাতারের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ বিশ্বজয়ী হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরাকে সংবর্ধনা দিল ধর্ম মন্ত্রণালয় লক্ষ্মীপুরে ড্রাম ট্রাকচাপায় বৃদ্ধ ভ্যানচালকের মৃত্যু দেশে ফিরেছেন মালয়েশিয়ায় কুরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হাফেজ হিরা ইউপি নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে ইসির বৈঠক ‘নারী-শিশুর সহিংসতা ও যৌন হয়রানিতে 'জিরো টলারেন্স' কঠোরভাবে বাস্তবায়নের বিকল্প নেই’ আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক যা চাচ্ছে, নতুন সরকারও তাই চাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

পালনপুরী রহ.: ‍যিনি হাজার বছর বেঁচে থাকবেন মানুষের হৃদয়ে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আমাদের এ শতকে যে কজন মনীষা জীবন জয় করে আরো হাজার বছর বেঁচে থাকবেন উস্তাদ মুহতারাম মুফতি সাইদ আহমদ পালনপুরী রহ. তাদের অন্যতম। শরিয়ত ও তরিকতের সমন্বয়ে দীনকে শেখড় থেকে বুঝতে পালনপুরী হুজুরের বিকল্প নেই। আমাদের মুফতি সাইদ আহমদ পালনপুরী রহ এর জীবন চরিত এ সময়ের ইলম পিপাসুদের জন্য অনন্য সততায় প্রাসঙ্গিক।

ইতিহাসের হীরকখণ্ড মুফতি সাইদ আহমদ পালনপুরী রহ. এর ইন্তেকালের এক মাস পূর্ণ হল। হিরণ্ময় এ মানুষটি এখনো যেন জীবন্ত তার হাজার হাজার ভক্তের কাছে। হুজুর রহ. কে নিয়ে আওয়ার ইসলামের সঙ্গে কথা বলেছেন মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন। মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন আশেকে পালনপুরী। একজন পালনপুরী ভক্ত। মুহাদ্দিস ও লেখক। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন আলেম লেখক আবুল ফাতাহ কাসেমী।


আবুল ফাতাহ কাসেমী: পালনপুরী হুজুর রহ. সবার কাছে মুগ্ধতায় প্রাসঙ্গিক। কারণ কী?

মাওলানা যাইনুল আবিদীন: প্রাসঙ্গিক আমি ১৯৯১ সালে দারুল উলুম দেওবন্দে হুজুরের কাছে তিরমিজি শরিফ ও তহাবি শরিফ পড়ি। তখন থেকেই হৃদয়ে পুষছি হুজুরের নাম। সুনির্দিষ্ট নয় তবে প্রথম সবকে ফেকহে হানাফির বুনিয়াদ নিয়ে হুজুরের আলোচনায় যারপরনাই মুগ্ধ হয়েছি। সংক্ষেপে ফেকহে হানাফির বুনিয়াদ— এক. দলিল নির্ভরতা। দুই. কুরআন ও হাদিস থেকে উদ্ভাবিত কেয়াসের নীতিবদ্ধ বিস্তার। তিন. সেই আলোকে বিপুল মাসায়েল উদ্ভাবন। হুজুর বুনিয়াদি এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন।

আবুল ফাতাহ কাসেমী: মুসনাদুল হিন্দ শাহ ওলিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলবি রহ. এর বিখ্যাত কিতাব 'হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগাহ' এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'রহমাতুল্লাহিল ওয়াসিআহ' লিখে হুজুর কালজয়ী হয়েছেন। এ কিতাবকে মুল্যায়ন করবেন কিভাবে?

মাওলানা যাইনুল আবিদীন: আমি এ কিতাব পুরাটা না পড়লেও অনেকাংশ পড়েছি। দারুল উলুম দেওবন্দের মজলিসে শুরা ছাড়াও নদওয়াসহ পৃথিবীর প্রায় আহলে ইলম হুজুরের এ কীর্তির স্বীকৃতি দিয়েছেন। হুজ্জাতুল্লাহর এ ব্যাখ্যার মতো মূল কিতাবের আরবি হাশিয়াটাও মর্যাদাশীল। শরাহ এর প্রসিদ্ধতায় এটা হয়তো ফুটে উঠেনি। বাকি হুজুর শাহ ওলিউল্লাহর দর্শনের সঙ্গে বেশি ঘনিষ্ঠ হওয়ায় কাসেম নানুতবির দর্শনকে আত্মস্থ করতে পেরেছেন সম্মুখভাবে। হুজুর ছিলেন তার কালের কাসেমী চিন্তার ভাষ্যকার।

আবুল ফাতাহ কাসেমী: সমকালীন ইলমি বিশ্বে পালনপুরী হুজুর ব্যতিক্রম কেন?

মাওলানা যাইনুল আবিদীন: পালনপুরী রহ. তিনটি গুণের কারণে সমকালীন ইলমি বিশ্বে আপন মহিমায় মহিমান্বিত। এক. হুজুর যা বলেছেন আস্থার সাথে বলেছেন। দুই. জটিল ও কঠিন বিষয় সহজে উপস্থাপনায় তিনি অনন্য। তিন. দরসে হাদিসের বৈশিষ্ট্যে তিনি হাদিসের সারাংশ এবং একই সাথে বক্তৃতা ও লেখায় তার বক্তব্যকে এতটাই গুছিয়ে বিন্যস্ত আকারে উপস্থাপন করতেন— শিক্ষার্থী ও সব শ্রেণির মানুষ সমান উপকৃত হতে পারতেন। একজন ব্যক্তি দরস, বক্তৃতা ও লেখালেখিতে সমানভাবে সমাদৃত— এমন নযির সমকালীন সময়ে খুব কমই আছে।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ