সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :

তাহাজ্জুদ নামাজ: আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অনন্য উপায়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

নূর মুহাম্মদ রাহমানী।।

আল্লাহ তায়ালা মানুষকে এ পৃথিবীতে শুধুমাত্র তাঁর ইবাদত-উপাসনার জন্য সৃষ্টি করেছেন। যাতে ইবাদত-বন্দেগি করে তাঁর যথাযথ পরিচয় লাভ করে তাঁর পরম সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। আখেরাতের চিরস্থায়ী জীবনটাকে সুন্দর করা যায়। চির সুখময় জীবন লাভ করা যায়। আরাম-আয়েশে থাকা যায়। এজন্যই সব নবী-রাসুলগণ, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ি, তাবে তাবেয়ি ও মহান ইমামগণ নিজেদের জীবনের সর্ব সেক্টরে সর্ব হালতে এই মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেছেন। তারা চাকরি-বাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিসহ বিভিন্ন পেশায় জড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু তাদের অন্তর সর্বদা আল্লাহর মহব্বত-ভালোবাসায় ডুবে থাকত। কোনো সময় আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল হতো না।

এ সকল মহান মনীষীদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, ‘এরা এমন লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ থেকে, নামাজ কায়েম করা থেকে এবং জাকাত প্রদান করা থেকে বিরত রাখে না।’ (সুরা নুর : ৩৭)। তারা তো ঐ সকল মহান ব্যক্তিবর্গ যারা প্রচÐ কনকনে শীতের রাতেও আরামের ঘুম ত্যাগ করে রবের দরবারে হাজিরা দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে যায়।

এদের কথা মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বিভিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন। এক জায়গায় বলেছেন, ‘রাতের বেলা তাদের পার্শ¦দেশ বিছানা থেকে পৃথক হয়ে যায় এবং তারা নিজ প্রতিপালককে ভয় ও আশার সাথে ডাকে।’ (সুরা সাজদা : ১৬)। অন্য জায়গায় এসেছে, ‘তারা রাতের অল্প সময়ই ঘুমাত এবং তারা সাহরির সময় ইস্তেগফার করত।’ (সুরা জারিয়াত : ১৭-১৮) অর্থাৎ রাতের বেশির ভাগ সময় ইবাদতে কাটানোর পরও তারা নিজেদের আমল নিয়ে অহংকার বোধ করে না, বরং ইবাদতের ভুল-ত্রুটির ব্যাপারে চিন্তিত থাকে। ফলে শেষ রাতে আল্লাহর দরবারে বিনয় ও কাকুতি-মিনতির সঙ্গে ইস্তেগফার করে।

আরেকটি আয়াতে এসেছে, ‘এবং যারা রাত্রি যাপন করে পালনকর্তার উদ্দেশে সেজদাবনত হয়ে ও দÐায়মান হয়ে।’ (সুরা ফুরকান : ৬৪)। সুরা জুমারে এসেছে, ‘তবে কি (এরূপ ব্যক্তি সেই ব্যক্তির সমতুল্য হতে পারে,) যে রাতের মুহূর্তগুলোতে ইবাদত করে, কখনও সেজদাবস্থায়, কখনও দাঁড়িয়ে, যে আখেরাতকে ভয় করে এবং নিজ প্রতিপালকের রহমতের আশা করে? বল, যারা জানে আর যারা জানে না উভয়ে কি সমান? কিন্তু উপদেশ গ্রহণ তো কেবল বোধসম্পন্ন ব্যক্তিরাই করে।’ (সুরা জুমার : ৯)। অন্যত্র এসেছে, ‘মহিমা ঘোষণা করুন রাত্রির কিছু অংশ ও দিবাভাগে, সম্ভবত তাতে আপনি সন্তুষ্ট হবেন।’ (সুরা তহা : ১৩০)। আরেকটি আয়াতে এসেছে, ‘(হে রাসুল!) তোমার প্রতিপালক জানেন, তুমি রাতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে, (কখনও) রাতের এক তৃতীয়াংশে (তাহাজ্জুদের নামাজের