সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দেশে ফিরেছেন মালয়েশিয়ায় কুরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হাফেজ হিরা ইউপি নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে ইসির বৈঠক ‘নারী-শিশুর সহিংসতা ও যৌন হয়রানিতে 'জিরো টলারেন্স' কঠোরভাবে বাস্তবায়নের বিকল্প নেই’ আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক যা চাচ্ছে, নতুন সরকারও তাই চাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে ইউনিট প্রতি সাশ্রয় হবে ৫-৬ টাকা ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু আজ, প্রচারণার নির্দেশ আজও রিয়াদগামী ২ ফ্লাইট বাতিল, ৩ দিনে মোট ৯টি সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে ফের হামলা: নিহত ১, আহত ১১ স্ত্রীর মৃত্যুর সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর নামাজরত অবস্থায় প্রাণ হারালেন স্বামী সৌদি বিমানবন্দরে হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির ১৩ জনই ওমরাহযাত্রী

মর্যাদা ও বরকতের মাস রজব

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতি নাজমুল হাসান।।

কদিন হল রজব মাসের আগমন ঘটেছে৷ রজব মাস হিজরী মাসগুলোর মধ্যে একটি বিশেষ ও মহিমান্বিত মাসের নাম। এ মাস আসে রমযানের আগমনী বার্তা নিয়ে। করোনা মহামারীর এই দুর্যোগ সময়ে রজবের মত মহিমান্বিত মাসগুলো আমাদের জন্য রহমত স্বরূপ৷ ইসলাম আগমনের পর বছরে ১২ মাসের মধ্য থেকে রজবসহ চারটি মাসকে আল্লাহ তা'আলা ‘আশহুরে হুরুম’ তথা সম্মানিত মাস বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারটি, যা আল্লাহর কিতাব (অর্থাৎ লাওহে মাহফুজ) অনুযায়ী সেই দিন থেকে চালু আছে, যেদিন আল্লাহ আকাশমন্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন। এর মধ্যে চারটি মাস মর্যাদাপূর্ণ৷ এটাই দ্বীনের সহজ-সরল দাবী৷ সুতরাং তোমরা এমা সমূহের ব্যাপারে নিজেদের প্রতি জুলুম করো না৷ সূরা তওবা: ৩৬

ইমাম আবু বকর জাসসাস (রহ.) বলেন, ‘এসব মাসে ইবাদতের প্রতি যত্নবান হলে, বাকি মাসগুলোয় ইবাদত করা সহজ হয়। আর এ মাসগুলোতে গোনাহ থেকে বেঁচে থাকলে অন্য মাসেও গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা সহজ হয়।’ -আহকামুল কুরআন: ৩/১৬৩

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ মাসকে খুবই গুরুত্ব দিতেন। ফলে রজবের চাঁদ দেখা গেলেই তিনি কিছু বিশেষ আমল শুরু করতেন। হাদিস শরিফে এসেছে, হযরত আনাস (রা.) সূত্রে বর্ণিত, যখন রজব মাস শুরু হতো, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন এ দুআটি বেশি বেশি পড়তেন, ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শাবান, ওয়াবাল্লিগনা রমাদান।’ অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসকে বরকতময় করুন এবং আমাদেরকে রমজান মাস পর্যন্ত পৌঁছে দিন।’ –সুনানে নাসাঈ: হাদীস নং ৬৫৯

গোনাহের কারণে কলুষিত অন্তরাত্মাকে তওবার মাধ্যমে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে নিতে হবে রজব মাসে। হযরত আবু বকর বলখি (রহ.) বলেন, ‘রজব ফসল রোপণের মাস। শাবান ফসলে পানি সেচ দেওয়ার মাস। আর রমজান হলো- ফসল তোলার মাস।’ তিনি আরও বলেন, ‘রজব মাস ঠাণ্ডা বাতাসের মতো, শাবান মাস মেঘমালার মতো। আর রমজান মাস হলো- বৃষ্টির মতো।’ - লাতায়েফুল মাআরেফ: ১৪৩

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজব মাস থেকেই রমযানের প্রস্তুতি নিতেন। অধিক নফল রোজা ও ইবাদতে কাটাতেন রজব ও শাবান মাস। তাই আমাদেরও কর্তব্য হল রাসূলের এসকল সুন্নাহগুলো অনুসরণ করে রজব মাসের হক আদায় করা এবং বেশি বেশি নফল নামায ও রোযা রাখা।

শিক্ষক: জামিয়া আরাবিয়া কাসেমুল উলূম, কুমিল্লা৷

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ