খাদিজা ইসলাম।।
অসাধারণ এক বই, ‘ফেরা’। লেখিক, সিহিন্তা শরীফাহ এবং নাইলাহ আমাতুল্লাহ। সম্পাদনা করেছেন, শরীফ আবু হায়াত অপু। শার'ঈ সম্পাদনা করেছেন, সানাউল্লাহ নজির আহমদ। প্রকাশনী, সরোবর,সমকালীন। পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১২০ প্রচ্ছদ, সিদ্দিকী সানজিদা সাঈদ কথা। প্রথম প্রকাশ, শাবান ১৪৩৭ হিজরি।
প্র্যাকটিসিং খ্রিস্টান থেকে প্র্যাকটিসিং মুসলিম হয়ে উঠার জীবন্ত গল্প ফেরা বইটি। বইটির লেখক সিহিন্তা শরীফাহ এবং নাইলাহ আমাতুল্লাহ। তারা দুজন যেভাবে ইসলামের ছায়াতলে এসেছেন তারই বর্ণনা করেছেন বইটিতে। বইটিতে ইসলামের সৌন্দর্যের পাশাপাশি খ্রিস্টানদের ইসলাম সম্পর্কে চমৎকার বর্ণনা ও উঠে এসেছে। খ্রীষ্টধর্মে বিশ্বাসী দু বোন কেমন করে স্রষ্টা কে চিনেছে,ইসলাম ই একমাত্র সত্য ধর্ম এটা জানার পর কতটা ত্যাগ, ধৈর্য, কষ্ট নিয়ে খ্রীষ্টান পরিবারে বেড়ে উঠেছে ত,সামাজিক রীতিনীতি, ধর্মীয় রীতনীতির ভাবধারার বিশদ বর্ণনা ফেরা বইটি।
বাবা, মা দুজনেই চাকুরী জীবি। সেই সুবাধে দুই বোন বেশির ভাগ সময় একই সঙ্গে থাকা হত। বড় মেয়েটা একটু ভাবুক।সবকিছু নিয়ে ভাবতেই আগ্রহী। বই পড়তে ভীষণ ভালো বাসত, শান্তশিষ্ট,ধর্ম পালনে ও একনিষ্ঠ । জেসাস ক্রাইস্টের ভক্ত। তাদের পিতা মুসলিম ঘরে জন্ম ছিলেন। প্রেমের টানে নিজ ধর্ম ত্যাগ করে খ্রিস্টান হয়েছিলেন। ছোট থেকেই চারপাশে খ্রিস্টানরপরিবেশে বড় হয়েছেন। কতটা ধর্ম ভুক্ত হলে একজন মানুষ আযানের শব্দ শুনে চিৎকার চেচামেচি করে। জানতেন বাবা মুসলিম ঘরের সন্তান। দাদুবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে দেখলেন মুসলিমরা তার বাবাকে মারতে এসেছিল । তখন তাদের মনে হচ্ছিল মুসলিমরার 'সন্ত্রাসী'।
সকল খারাপ কাজ মুসলিমদের দ্বারা সংগঠিত হয়। মা প্রতিনিয়ত মুসলিমদের মুসলিমদের বিরুদ্ধে বলতেন, তীব্র ঘৃণা নিয়ে নিয়ে বড় হয়েছেন দু বোন। খ্রীষ্টধর্মের প্রতি তাদের ভালোবাসা দেখে সবাই অনেক ভালোবাসত। একদিন স্কুলে এক মুসলিম সহপাঠীর কাছ থেকে ইসলাম বই নিয়ে পড়া শুরু করলেন। সবকিছু কেমন জানি খটকা লাগছে। মুসলিমদের সাথে পড়াশোনা করাতে মাঝেমধ্যে কোরআন তেলাওয়াত শুনত। কুরআন তিলাওয়াত গুলো অন্তর ঠান্ডা করে হয়ে যেত, যতই শুনত আরো বেশি মুগ্ধ হয়ে যেত।
এভাবেই দিনকে দিন ইসলামকে জানার আগ্রহ হলো। আল্লাহ পাক হয়তো এভাবেই চিন্তাশীল তৈরি করে তার প্রিয় বান্দাদের ইসলামের ছায়াতলে নিয়ে আসেন । বড় মেয়েটি তার বাবাকে জিজ্ঞেস করেন সত্য ধর্ম কোনটা? বাবা উত্তরে বলেছিলেন মা তুমি বড় হয়ে জেনে নিবা কোনটি সত্য