হামিদ মীর।।
ফিলিস্তিনিদের সাথে সংহতি প্রকাশ করে ইসলামাবাদে দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ জনগণ একত্রিত হয়ে ‘ফিলিস্তিনকে স্বাধীন করো’ স্লোগান দিচ্ছিলেন। এই বিক্ষোভ সমাবেশে এক নারী এক হাতে তার দুধের শিশু ও অন্য হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা উঁচিয়ে রেখেছিলেন। কোলের শিশুটি মায়ের হাতে থাকা ফিলিস্তিনের পতাকার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছিল। মায়ের কোলেই ফিলিস্তিন সম্পর্কে উপমহাদেশের একটি শিশুর জানাশোনা এভাবেই শুরু হচ্ছে।
আমি সেই নারীর কাছে গেলাম, তাকে সালাম করে জিজ্ঞেস করলাম, বোন! এই সমাবেশে আপনার ছোট বাচ্চাকে নিয়ে এসেছেন কেন?
সেই নারী দরাজ কণ্ঠে জবাব দিলেন, ইসরায়েলের বর্বরোচিত হামলায় ফিলিস্তিনের যেই মায়েদের কোল খালি হয়েছে তাদের সাথে একাত্মতা পোষণ করতে আমি আমার কোলের শিশুকে এই বিক্ষোভে নিয়ে এসেছি।
এক শিশু তার মাথায় কাগজের একটি মুকুট পরেছিল, সেই মুকুটে ইংরেজিতে লেখা ছিল ‘ফিলিস্তিনকে স্বাধীন করো’। আমি শিশুটিকে জিজ্ঞেস করলাম, তোমার মুকুটে কি লেখা আছে? মেধাবী শিশুটি তাৎক্ষণিক উত্তর দিল, ‘আমি নিজের হাতেই আমার মুকুটে লিখেছি, আমি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা চাই’। জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম শিশুটি ক্লাস থ্রিতে পড়ে।
সমাবেশে অংশ নেওয়া ১৬/১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী তার বাম হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা এঁকেছে। সে জোরে জোরে ‘ইসরায়েল মুর্দাবাদ’ স্লোগান দিচ্ছিল। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, সে কার অনুমতি অথবা নির্দেশে এই সমাবেশে এসেছে, এছাড়া তার এই শ্লোগানে ফিলিস্তিনিদের আসলে কি উপকার হবে?
উত্তরে কিশোরীটি বললো, ‘আমি আমার বন্ধুদের সাথে সকাল বেলা বাসা থেকে বের হয়েছি। ফিলিস্তিনিদের সাথে সংহতি প্রকাশ করে বিক্ষোভ হচ্ছে এখন পর্যন্ত এমন তিনটি সমাবেশে অংশ নিয়েছি’।
এমন সময় সমাবেশের মাইক থেকে এক বক্তার কন্ঠস্বরে ভেসে এলো এই কবিতাটি:
ہے خاکِ فلسطیں پہ یہودی کا اگر حق
ہسپانیہ پر حق نہیں کیوں اہلِ عرب کا
তরজমা: ফিলিস্তিনের ভূমিতে ইহুদিদের অধিকার থাকলে, আন্দালুসের ভূমিতে আরবদের কোন অধিকার নেই কেন ?
কবিতাটি শুনে আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নয় বছরের একটি মেয়ে আগের থেকেও আবেগ ও উত্তেজনা নিয়ে ‘ফিলিস্তিনকে স্বাধীন করো’ স্লোগান দিতে শুরু করলো।
আমি শিশুটিকে জিজ্ঞেস করলাম, আচ্ছা বলতো এই কবিতাটি কার? মেয়েটি মুচকি হেসে জবাব দিল, জনাব! এই কবিতাটি আল্লামা ইকবালের। আমি আমার দাদার কাছ থেকে শুনেছি যে আল্লামা ইকবাল মসজিদে আকসায় নামাজও আদায় করেছিলেন।