মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
বন্যা দুর্গতদের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত বিকেএম কেন্দুয়া উপজেলা শাখার ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে কাল বাংলাদেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ইকরা হবিগঞ্জের ফল উৎসব উদযাপিত  বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, মৃত্যু ৫৪ ফতুল্লায় বাড়িতে গ্যাস–সংযোগ দেওয়ার সময় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪ শ্রমিক বন্যা দুর্গত দেড় হাজার পরিবারে তাকওয়া চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ‘কৃত্রিম জলাবদ্ধতা’ তৈরির সত্যতা পেলে ব্যবস্থা: প্রতিমন্ত্রী অমিত ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষার চিন্তা করবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী ৯৮ হাজার টাকায় হজযাত্রীদের পরিবহন করতে চায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স

ওহীর শাব্দিক অর্থ ও তার প্রকার

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতি আব্দুর রহমান: মানুষের জীবন সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা নবী-রাসুলদের কাছে বিধান পাঠিয়েছেন। নবী-রাসুলরা সে জীবন বিধান মানুষের কাছে পৌঁছে দেন। وحي-এর শব্দিক অর্থ: গোপনে দ্রুত ইঙ্গিত করা’। আল্লাহর পক্ষ হতে জিবরাঈল আ. এর মাধ্যেমে হুজুর সা. এর নিকট যে আহকাম নাযিল হয়েছে, তাকে ওহী বলা হয়।

وحي দুই প্রকার। প্রথম প্রকার: প্রত্যক্ষ ওহী; যার নাম ‘কিতাবুল্লাহ’ বা ‘আল-কুরআন’। এর ভাব, ভাষা উভয়ই মহান আল্লাহর। রাসূলুল্লাহ সা. তা হুবহু প্রকাশ করেছেন।

দ্বিতীয় প্রকার: পরোক্ষ ওহী যার নাম ‘سنة’ বা ‘حديث’। এর ভাব আল্লাহর, তবে নবী সা. তা নিজের ভাষায়, নিজের কথায়, নিজের কাজ ও সম্মতির মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। প্রথম প্রকারের ওহী রাসূলুল্লাহ সা.-এর উপর সরাসরি নাযিল হতো এবং তাঁর কাছে উপস্থিত লোকজন তা উপলব্ধি করতে পারতো। কিন্তু দ্বিতীয় প্রকারের ওহী তাঁর উপর প্রচ্ছন্নভাবে নাযিল হতো এবং অন্যরা তা উপলব্ধি করতে পারতো না।

আল্লাহ তা’আলা কুরআনুল কারীমে মানব জাতিকে একটি আদর্শ অনুসরণের ও বিধি-বিধান পালনের নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু এর বিস্তারিত বিবরণ দান করেননি। এর ভার রাসূলুল্লাহ সা.- এর উপর ন্যস্ত করেছেন। তিনি নিজের কথা-কাজ ও আচার-আচরনের মাধ্যমে কুরআনে কারীমের আদর্শ ও বিধান বাস্তবায়নের পন্থা ও নিয়ম কানূন বলে দিয়েছেন। কুরআনে কারীমকে কেন্দ্র করেই তিনি ইসলামের এক পূর্ণাঙ্গ জীবন-বিধান পেশ করেছেন। অন্য কথায়, কুরআন মজীদের শিক্ষা ও নির্দেশসমূহ ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন করার জন্য নবী সা. যে পন্থা অবলম্বন করেছেন, তাই হচ্ছে হাদীস।

 

হাদীসও যে ওহীর সূত্রে প্রাপ্ত তার প্রমান:

হাদীসও যে ওহীর সূত্রে প্রাপ্ত এবং তা শরীআ‘তের অন্যতম উৎস কুরআনুল কারীম ও মহানবী সা.-এর বাণীর মধ্যেই তার প্রমাণ বিদ্যমান। মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবী সা. সম্পর্কে বলেন:

وَمَا يَنطِقُ عَنِ الهوَىٰ .إِن هُوَ إِلَّا وَحيٌ يُوحيٰ

অর্থ: “আর তিনি (নবী) মনগড়া কথা বলেন না, এ তো ওহী যা তাঁর প্রতি নাযিল করা হয়”। (সূরা নাজম : ৩-৪)

وَلَو تَقَوَّلَ عَلَينَا بَعضَ الأَقَأويلِ .لَأَخَذنَا مِنهُ بِاليَمِينِ .ثُمَّ لَقَطَعنَا مِنهُ الوَتِينَ

অর্থ: “তিনি (নবী) যদি আমার নামে কিছু রচনা করতে চেষ্টা করতেন আমি অবশ্যই তাঁর ডান হাত ধরে ফেলতাম এবং তাঁর জীবনধমনী কেটে দিতাম ”। (৬৯ : ৪৪-৪৫)

وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُم عَنهُ فَانتَهُوا

অর্থ: “রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক।” (সূরা হাশর : আয়াত : ৭)

লেখক: সিনিয়র মুহাদ্দিস, জামিয়া ইসলামিয়া জহিরুদ্দিন আহমদ মাদরাসা মানিকনগর, ঢাকা।

ওআই/আব্দুল্লাহ আফফান


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ