মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া মাদরাসার বৈদ্যুতিক বোর্ডে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৫ শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম–কক্সবাজারে বন্যা দুর্গতদের মধ্যে আমিরে মজলিসের ত্রাণ বিতরণ ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় রাবেতার সঙ্গে কাজ করবে পাকিস্তান দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণেই প্রধান শহরগুলো ডুবছে: পীর সাহেব চরমোনাই উচ্চারণ ও উপস্থাপনা কোর্সে ১০০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী পাবেন বিশেষ স্কলারশিপ মসজিদে নববিতে বিশেষ দারস দেবেন শায়খ আস-সুদাইস বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের খুলনা বিভাগীয় কওমি মাদরাসা পরিষদের নেতৃত্বে মাওলানা মুশতাক ও নাসীরুল্লাহ বন্যার পানিতে ডুবে পটিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীর মৃত্যু

লকডাউনে বাসের বিকল্প হিসেবে বেপরোয়া ভাড়ায় চলছে প্রাইভেট গাড়ি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: করোনা সংক্রমণ রোধে নতুন করে ঘোষণা দেয়া লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে বাস ছাড়া রাজপথে দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল অন্যসব ধরনের যানবাহন। শুধু তা-ই নয়, রাস্তায় চলাচলরত প্রায় সব যানবাহনই পরিণত হয় গণপরিবহনে। যে যেভাবে পারছিল কয়েক গুণ বেশি ভাড়া নিয়ে যাত্রী গণপরিবহনের ট্রিপ দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল আগে থেকেই উবার, পাঠাও অ্যাপসে চলাচল করছিল। তারা অ্যাপস বন্ধ করে ভাড়ায় চলতে শুরু করেছে। আবার রেন্টে কারের জন্য বিভিন্ন স্থানে থাকা মাইক্রোবাসগুলোও রাস্তায় নেমে বাসের বিকল্প হিসেবে ট্রিপ দিতে শুরু করেছে।

ভাড়ায় যাত্রী পরিবহনে বাদ যাচ্ছে না অ্যাম্বুলেন্সও। আর রাস্তার রাজা (!) হিসেবে পরিচিত রিকশা গতকালও ছিল বেপরোয়া। বিভিন্ন যানবাহনের চাপে দিনভরই রাস্তায় ছিল যানজট। বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের অফিস টাইমে দীর্ঘ যানজটে পড়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন অনেকেই। বিকেলের বৃষ্টি তাদের ভোগান্তি আরো কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।

সকাল সাড়ে ৮টায় স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে শেওড়াপাড়ার বাসা থেকে বের হয়েছিলেন ইসমাইল হোসেন। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে চেকআপের জন্য ধানমন্ডির মেডিনোভা হাসপাতালে যাচ্ছিলেন তিনি। ধারণা ছিল লকডাউনে যানবাহন কম থাকবে। যার কারণে অসুস্থ স্ত্রীকে মোটরসাইকেলে করে নিলেও খুব একটা অসুবিধা হবে না।

কিন্তু রাস্তায় বেরিয়ে অনেকটাই বেকুব বনে যান ইসমাইল। ৬০ ফুট রাস্তা পার হয়ে শিশুমেলার সামনে মিরপুর রোডে যেতেই আটকে যায় তার মোটরসাইকেল। শত শত যানবাহনে আটকে রয়েছে সড়কটি। যাত্রী পরিবহনের বাস না থাকলেও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। এ ছাড়া মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, সিএনজি অটোরিকশা, বিভিন্ন ধরনের হিউম্যান হলার, শত শত মোটরসাইকেলে সড়কটি ছিল পরিপূর্ণ। ছিল নানা প্রতিষ্ঠানের ছোট-বড় ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ও লরি।

ইসমাইল বলেন, শিশুমেলা থেকে কিডনি হাসপাতালের সামনে হয়ে গণভবন এবং আসাদগেট হয়ে মেডিনোভা পর্যন্ত পৌঁছতে সোয়া এক ঘণ্টা লেগে যায় তার। অথচ স্বাভাবিকভাবে এই রাস্তা মাত্র ২০ মিনিটে যাওয়া সম্ভব ছিল।

অফিসগামী আনোয়ার হোসেন বলেন, এই ধরনের লকডাউন কেন দেয়া হয় বুঝি না। এতে করোনা নিয়ন্ত্রণ হয় নাকি উল্টো বৃদ্ধি পায় তা ভাবার বিষয়।

তিনি বলেন, করোনা ছড়ানোর ভয়ে বাস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, অথচ সেই বাসের স্থানে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন রাস্তায় নেমে যাত্রী পরিবহন করছে। বাসে দুইজনের সিটে একজন বসে অফিসে যাওয়া-আসা করা হতো। এখন মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার বা অটোরিকশায় ঠাসাঠাসি করে বসে যাওয়া-আসা করতে হচ্ছে। এতে করোনার ঝুঁকি বাড়ছে না কমছে?

তিনি আরো বলেন, ‘আমি লকডাউনের বিরুদ্ধে নই, তবে লকডাউন লকডাউনের মতোই করা উচিত। গুরুত্বপূর্ণ অফিসগুলো খোলা রেখে ঘোষণা করলেন লকডাউন। এতে ভোগান্তি ছাড়া আর কিছুই হয় না। অটোরিকশা চালক সাহেদ আলী বলেন, ‘সরকার লকডাউনে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে, কিন্তু যাত্রী তো কমেনি। এসব যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছে দিতেই রাস্তায় বেরিয়েছেন। তাছাড়া বসে থাকলে তো কেউ ঘরে গিয়ে খাবার দিয়ে আসবে না।

এ দিকে রাজধানীর তেজগাঁও, ফার্মগেট, বিজয় সরণি, রমনা, বাংলামোটর, শাহবাগ এলাকায়ও দেখা গেছে অনেক গাড়ির চাপ। অনেকের মতে বাস ছাড়া কোনো গাড়ি মনে হয় ঘরে বসে নেই। ভাড়ায় যাত্রী টানতে সব যেন রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছে।

এনটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ