আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র, ছাত্রলীগকর্মী কাজী হাবিবুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যার মামলার ১১ আসামি খালাস পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার সিলেটের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোমিনুন নেছা এ রায় প্রদান করেন।
খালাস পাওয়া আসামিদের সবাই ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতাকর্মী। এদের মধ্যে একজন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য।
আদালতের পিপি নুরে আলম সিরাজী জানান, রায় ঘোষণার সময় ১১ আসামির মধ্যে আটজন উপস্থিত ছিলেন। অন্য তিনজন পলাতক রয়েছে। রায় ঘোষণার সময় বাদীপক্ষের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। তিনি জানান, অভিযুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দিয়েছেন।
খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন হোসাইন মোহাম্মদ সাগর, আউয়াল আহমদ, আশিক উদ্দিন ওরফে আশিক শিকদার, মইনুল ইসলাম, জুবায়ের আহমদ, নাহিদ হাসান, ইলিয়াস আহমদ, নয়ন রায়, বশির উদ্দিন ওরফে তুহিন, শহিদুর রহমান ও আলাউর খান।
এদের মধ্যে হোসাইন মোহাম্মদ সাগর সম্প্রতি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হয়েছেন। অন্যরাও ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতাকর্মী।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ছাত্রলীগের মিছিলে আধিপত্য বিস্তারের জেরে কাজী হাবিবুর রহমান হাবিবকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হাবিব বিবিএ ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। নিহত হাবিব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের রানীঘাট গ্রামের কাজী সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। তিনি সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সংলগ্ন কানিশাইল এলাকায় মেসে থেকে লেখাপড়া করতেন।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন কাজী হাবিবের ভাই কাজী জাকির বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ইউনিভার্সিটির ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ওই সময় ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি হোসাইন মোহাম্মদ সাগরসহ ১১ জনকে শনাক্ত করে হত্যা মামলায় আসামি করা হয়। আসামি হিসেবে শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই ১১ জনকে বহিষ্কার করে।
সব আসামি খালাস পাওয়া প্রসঙ্গে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী নূরে আলম সিরাজী বলেন, মামলার ২১ সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ১০ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে মামলার বাদী তার সাক্ষ্যে বলেছেন, ‘কারা হত্যা করেছে, তিনি সেটা দেখেননি। অভিযুক্তদেরও তিনি চেনেন না’।
মামলায় সাক্ষী হিসেবে রাখা হলেও নিহতের মা, আরও এক ভাই ও চাচা সাক্ষ্য দিতে আসেননি। অ্যাডভোকেট সিরাজী জানান, সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত এই রায় দিয়েছেন। রায়ে সন্তুষ্ট না হলে বাদীপক্ষ আপিল করতে পারেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলাটি সিলেট কোতোয়ালি থানার তিন কর্মকর্তা পর্যায়ক্রমে তদন্ত করেন। সর্বশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা অখিল চন্দ্র দাস ১১ আসামিকে অভিযুক্ত করে ২০১৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়েছিল।
এ ব্যাপারে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক তারেক উদ্দিন তাজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সব আসামি খালাস পেয়েছেন, প্রতিক্রিয়ায় কী আর বলব। ক্যাম্পাসে দিনের আলোয় খুন হলো, কিন্তু কোন খুনি শনাক্ত হলো না’।
তিনি বলেন, ‘আসামিপক্ষ বাদীপক্ষকে ‘ম্যানেজ’ করেছেন বলে একটি কথা শোনা যাচ্ছে। তবে এর সত্য-মিথ্যা আমাদের জানা নেই। বাদীপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করাও সম্ভব হচ্ছে না’।
-এটি