আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: দৈনিক আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেনের মাধ্যম মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসকে ঘিরে সক্রিয় অসংখ্য ডিজিটাল প্রতারক চক্র।
মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস-এমএফএস প্রতিষ্ঠানের অ্যাপে ইচ্ছেমতো নম্বর বসিয়ে চলছে ডিজিটাল প্রতারক। ওই নম্বরের মালিক এমএফএসের গ্রাহক কি-না, তা যাচাই করতেই এ প্রচেষ্টা।
গ্রাহক হলেই ওই নম্বরে এমএফএস প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সেজে ফোন করে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে প্রতারক। ফাঁদে পা দিলেই কখনও গাণিতিক ধাঁধায় ফেলে, কখনও গ্রাহকের গোপন তথ্য জানিয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি সংগ্রহ করে হাতিয়ে নেয় অ্যকাউন্টের সব টাকা।
ভুক্তভোগীরা জানান, ফোন করেই মানসিক চাপে ফেলে তথ্য হাতিয়ে নেয়ার কৌশলের কাছে হার মানেন অনেকেই। গেলো ১৬ মাসে এ ধরনের ডিজিটাল প্রতারণার ৬৮ মামলা ও ৮৮ সাধারণ ডায়েরি তদন্ত করেছে কেবল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। গ্রেপ্তার করেছে ৬৩ আসামিকে।
তথ্য পর্যালোচনা করে কর্মকর্তারা জানান, পাঁচ-ছয়জন মিলে গড়ে উঠেছে একেকটি চক্র। এরমধ্যে গ্রাহকের নম্বর যাচাই করে অ্যাপসম্যান। ওই নম্বরে ফোন করে কৌশলে ওটিপি সংগ্রহ করে ওয়েলকামম্যান। টাকা দূরের জেলায় পরিচিতজনের কাছে পাঠিয়ে দেয় ক্যাশম্যান। ওই টাকা সংগ্রহ করে ভাগ-বাটোয়ারা করার দায়িত্ব ক্যাশ রোলিং ম্যানের।পুরো কাজটা সারতে সহযোগিতা করে আরও দু'একজন।
ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম) উপ-কমিশনার মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম জানান, পরিকল্পিতভাবে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই এ কাজটি করে আসছে। শিক্ষাজীবনে প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোতে না পারলেও প্রতারণার কৌশল তারা খুব ভালোভাবেই রপ্ত করতে পেরেছে।
গ্রেপ্তার প্রতারকদের সিংহভাগই ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও মধুখালীর বাসিন্দা। তাদের কাছ থেকে প্রতারণা শিখেছে মাদারীপুরের শিবচর, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি ও মাগুরার শ্রীপুরের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা। কর্মকর্তারা জানান, এসব এলাকার ৮০ ভাগ মানুষই পূর্বের পেশা ছেড়ে ডিজিটাল প্রতারণাকে পেশা হিসেবে নিয়েছে বলেও জানায় পুলিশ। প্রতারণা থেকে বাঁচতে এমএফএস গ্রাহকদের কখনই কাউকেই ওটিপি না দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ।
-এটি