মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
‎হানাফি উসুল অমূল্য রত্ন ও ফকিহ সাহাবায়ে কেরামের উত্তরাধিকার কওমি মাদরাসায় কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ বিষয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ত্রুটি: চার শিক্ষককে শোকজ বন্যা দুর্গতদের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত বিকেএম কেন্দুয়া উপজেলা শাখার ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে কাল বাংলাদেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ইকরা হবিগঞ্জের ফল উৎসব উদযাপিত  বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, মৃত্যু ৫৪ ফতুল্লায় বাড়িতে গ্যাস–সংযোগ দেওয়ার সময় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪ শ্রমিক বন্যা দুর্গত দেড় হাজার পরিবারে তাকওয়া চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

তালবিয়া: যুগে যুগে বাইতুল্লাহর মুসাফিরদের জবানে ধ্বনিত হজের সঙ্গীত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ওমায়ের আহমেদ।।

তালবিয়ার সাথে কে না পরিচিত? হজ্বের মাসে মসজিদে মসজিদে হজ্বের অনুশীলন হয় এবং ফাযাইল ও মাসাইলের আলোচনা হয়। তালবিয়ার প্রসঙ্গ তখন অপরিহার্যভাবে আসে এবং আলোচক-শ্রোতা সবার কণ্ঠে তালবিয়া ধ্বনিত হয়। এ কারণে মুসলিম সমাজের ছোট-বড় সকলেই তালবিয়ার সাথে পরিচিত। আর আল্লাহ যাদের দান করেছেন হজ্বের সৌভাগ্য তাদের কথা তো বলাই বাহুল্য। তালবিয়ায় তাদের ইহরামের সূচনা; তালবিয়া তাদের হজ্বের সঙ্গীত।

এ হজ্ব-সঙ্গীত অতি প্রাচীন, যুগে যুগে তা ধ্বনিত হয়েছে আল্লাহর ঘরের মুসাফিরদের কণ্ঠে ও হৃদয়ে। এ মুসাফির দলের অগ্রভাগে আছেন মানবজাতির সর্বোত্তম অংশ, আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ বান্দা-নবী ও রাসূলগণ। মাঝে আছেন সাহাবা-হাওয়ারিয়ীন এবং শুহাদা-সালেহীনের মোবারক জামাত আর শেষে আছে পাপী তাপী নিঃস্ব ভিখারীর দল। সবাই এক আল্লাহর বান্দা, সকলের কণ্ঠেই ধ্বনিত তালবিয়া-সঙ্গীত-‘লাববাইক আল্লাহুম্মা লাববাইক’।

আমাদের পরম সৌভাগ্য, আমরা আখেরী নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মত। তাঁর অনুসরণের মাধ্যমে আমরা অনুসারী সকল নবী ও রাসূলের। তাঁরই স্বর্ণসূত্রে আমরা যুক্ত নবী-রাসূলের সোনালী ধারার সাথে। আজ আমরা যে তালবিয়া পাঠ করি-আল্লাহ আমাদের কলব ও যবানের সকল মলিনতা দূর করে দিন-হুবহু এই বাক্যগুলো উচ্চারিত হয়েছিল আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাক যবানে। বড় বড় সাহাবী তা গ্রহণ করেছেন ও বর্ণনা করেছেন।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মোবারক যবান থেকে তালবিয়া শিখেছি। তিনি বলতেন-

لَبَّيْكَ اَللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لا شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لا شَرِيْكَ لَكَ

-সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৫৪০, ১৫৪৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১১৮৪; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ২৯১৮

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা., হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. ও হযরত আনাস রা.ও এই তালবিয়া বর্ণনা করেছেন। (দেখুন ১. মুসনাদে আহমদ ১/৪১০; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৮/২১১; সুনানে নাসায়ী, হাদীস : ৩৭৩২২; ২. সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস : ২৬২৬; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ১৮১৩; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ২৯২৯; ৩. আবু ইয়ালা-মাজমাউয যাওয়াইদ, হাদীস : ৫৩৬৪)

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. নিজের সঙ্গীদেরকে এই তালবিয়া শেখাতেন। দেখুন : মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা,আসওয়াদ রাহ.-এর সূত্রে, হাদীস : ১৩৬৪২

এ তালবিয়া আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তালবিয়া, সাহাবায়ে কেরামের তালবিয়া, তাবেয়ীন ও তাবে তাবেয়ীনের তালবিয়া এবং সকল যুগের নেককার-সালেহীনের তালবিয়া। এ সোনালী ইতিহাস হৃদয়ে ধারণ করে আল্লাহর ঘরের মুসাফির যখন তালবিয়া পাঠ করবেন তখন তার অবস্থাই হবে ভিন্ন-তার হৃদয় হবে প্রশান্ত, মস্তিষ্ক হবে আলোকিত এবং প্রাণ ও আত্মা হবে পরিতৃপ্ত। এটি এ মোবারক তালবিয়ার প্রথম গুণ।

তালবিয়ার শব্দ ও বাক্য

তালবিয়ায় ‘লাববাইক’ শব্দটি চারবার আছে। এটি একাধারে ভক্তি ও ভালবাসা এবং আনুগত্য ও সমর্পণের ভাব ধারণ করে।

‘লা-শারীকা লাক’ শব্দটি আছে দুইবার। এ হচ্ছে সকল প্রকার শিরক ও শরীককে বর্জনের ঘোষণা। শরণ ও প্রার্থনা এবং আনুগত্য ও উপাসনা কোনো বিষয়েই আল্লাহর কোনো শরীক নেই। তিনি লা-শরীক।

আর তৃতীয় বাক্যটি অর্থাৎ ‘ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক’ হচ্ছে তাওহীদের এ’লান, তাওহীদের দলিল এবং আল্লাহর হামদ ও শোকর।

বাংলায় উচ্চারণ ও অর্থসহ তালবিয়া-

i) لَبَّيْكَ ا للّهُمَّ لَبَّيْكَ
ii) لَبَّيْكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ
iii) اِنَّ الْحَمدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ
iv) لاَ شَرِيْكَ لَكَ

তালবিয়ার উচ্চারণ-
১. লাব্বাইক আল্লা-হুম্মা লাব্বাইক,
২. লাব্বাইক, লা-শারি-কা লাকা লাব্বাইক,
৩. ইন্নাল হামদা ওয়ান্ নি`মাতা লাকা ওয়াল-মুল্‌ক,
৪. লা শারি-কা লাক।"

তালবিয়ার অর্থ-
১. আমি হাজির হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত!
২. আপনার ডাকে সাড়া দিতে আমি হাজির। আপনার কোন অংশীদার নেই।
৩. নিঃসন্দেহে সমস্ত প্রশংসা ও সম্পদরাজি আপনার এবং একচ্ছত্র আধিপত্য আপনার।
৪. আপনার কোন অংশীদার নেই।

তালিবায়া পড়ার নিয়ম-

ইহরামকারীর পক্ষে বেশি বেশি তালবিয়া পাঠ করা সুন্নাত। পুরুষ ও মহিলা স্বশব্দে তা পাঠ করবে যতক্ষণ না ফিতনার আশংকা দেখা দেয়, কখনও তালবিয়া পাঠ করবে, কখনও ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর জিকির করবে, আবার কখনও তাকবির পড়বে।

বাইতুল্লাহ তাওয়াফ শুরু হওয়ার সাথে সাথে ওমরার তালবিয়া বন্ধ হয়ে যাবে। আর হজের তালবিয়া মিনায় শেষ কংকর বা পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে বন্ধ হবে। সূত্র: আল কাউসার, ফতওয়ায়ে শামী।

এনটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ