রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৮ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দারুল উলুম দেওবন্দে সমবেত হচ্ছেন পাঁচ হাজার মাদরাসার প্রতিনিধি পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযান, হেবরনে ঘরছাড়া ৩০০ পরিবার নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই বাড়তে পারে শীতের তীব্রতা  হজরত শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে ৮৮ লাখ টাকা, মিলল স্বর্ণ-বিদেশি মুদ্রা  নৈতিক সমাজ গঠনে মসজিদ-মাদ্রাসার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: হাবিবুর রশিদ  খুতবার মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান ধর্মমন্ত্রীর পাকিস্তানে অস্থিতিশীলতায় আফগানিস্তানকে দায়ী করা বিভ্রান্তিকর: তালেবান মুখপাত্র আল-আকসার খতিবকে ধরে নিয়ে যাওয়ার নিন্দা জমিয়তের পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা ক্যাম্প পুনঃস্থাপনের দাবি খেলাফত মজলিসের শতবর্ষী রেসকোর্স মসজিদের বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ পুনর্বহালে দিল্লি হাইকোর্টের ‘না’

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সুযোগ-সুবিধা জানাতে হাইকোর্টের নির্দেশ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: দেশের কারাগারগুলোতে থাকা মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ১ হাজার ৯৮৭ আসামির সুযোগ-সুবিধার একটি লিখিত প্রতিবেদন আগামী ১৪ নভেম্বরের মধ্যে দাখিলের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি এম, ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ আজ এ আদেশ দেন।

এর আগে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিদের নিয়ে কারা অধিদপ্তর থেকে পাঠানো তথ্য আদালতে জানান আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, দেশের কারাগারগুলোতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ মাথায় নিয়ে কনডেম সেলে বন্দী রয়েছে মোট এক হাজার ৯৮৭ জন কয়েদি। এর মধ্যে পুরুষ কয়েদি রয়েছে এক হাজার ৯৩৩ এবং নারী কয়েদি ৫৪ জন। তবে দেশে মোট কনডেম সেলের সংখ্যা দুই হাজার ৫৯৯টি। ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ হিসাব দিয়েছে কারা অধিদপ্তর।

কারাগারগুলোতে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত কনডেম সেলে থাকা সকল বন্দীর তথ্য চেয়ে গত ২০ সেপ্টেম্বর আদেশ দেন হাইকোর্ট। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।

গত ৩ সেপ্টেম্বর মামলা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়ার আগে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিকে কনডেম সেলে রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। চট্টগ্রাম কারাগারে কনডেম সেলে থাকা জিল্লুর রহমানসহ মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত তিন বন্দীর পক্ষে আইনজীবী শিশির মনির এ রিট দায়ের করেন।

রিট আবেদনকারী হলেন- চট্টগ্রাম কারাগারের কনডেম সেলে থাকা সাতকানিয়ার জিল্লুর রহমান, সিলেট কারাগারে থাকা সুনামগঞ্জের আব্দুর বশির ও কুমিল্লা কারাগারে থাকা খাগড়াছড়ির শাহ আলম। মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত এ তিন আসামির আপিল হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।

রিট আবেদনে মৃত্যুদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত হওয়ার আগে কনডেম সেলে আবদ্ধ রাখা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এ মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

এ রুল বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় আবেদনকারীদের কনডেম সেল থেকে স্বাভাবিক সেলে স্থানান্তরের আবেদন করা হয়েছে।

একইসঙ্গে দেশের সব জেলের কনডেম সেলে থাকা সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের রাখার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে (সুযোগ, সুবিধা) কারা মহাপরিদর্শককে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের সচিব, আইন সচিব, আইজিপি, আইজি প্রিজন্স, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কুমিল্লার সিনিয়র জেল সুপারকে বিবাদী (রেসপনডেন্ট) করা হয়।

আইনজীবী শিশির মনির বলেন, বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক সাজা কার্যকর করার আইনগত কোনো বিধান নেই। মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করতে কয়েকটি আবশ্যকীয় আইনগত ধাপ অতিক্রম করতে হয়।

প্রথমত, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারামতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন নিতে হবে। একই সঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১০ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়েরের বিধান রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি সাংবিধানিক অধিকারবলে আপিল বিভাগে সরাসরি আপিল দায়ের করতে পারেন। তৃতীয়ত, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫ অনুযায়ী আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদনের আইনগত সুযোগ রয়েছে।

সর্বোপরি, মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৯ এর অধীন রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে পারেন। রাষ্ট্রপতি ওই ক্ষমার আবেদন নামঞ্জুর করলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আইনগত বৈধতা লাভ করে।

কিন্তু বাংলাদেশে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পরই সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নির্জন কনডেম সেলে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে বন্দী রাখা হয়। দেশের কারাগারগুলোতে ২ হাজার ৫ জন ফাঁসির আসামি কনডেম সেলে বন্দি আছেন।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ