শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৮ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
খুতবার মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান ধর্মমন্ত্রীর পাকিস্তানে অস্থিতিশীলতায় আফগানিস্তানকে দায়ী করা বিভ্রান্তিকর: তালেবান মুখপাত্র আল-আকসার খতিবকে ধরে নিয়ে যাওয়ার নিন্দা জমিয়তের পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা ক্যাম্প পুনঃস্থাপনের দাবি খেলাফত মজলিসের শতবর্ষী রেসকোর্স মসজিদের বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ পুনর্বহালে দিল্লি হাইকোর্টের ‘না’ শিশু নিপীড়ন ও আইন হাতে নেওয়া কোনোটাই গ্রহণযোগ্য নয়: হেফাজত মাগরিবের নামাজে ইমামতিকালে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু জুমা শেষ হতেই আল-আকসার খতিবকে ধরে নিয়ে গেল ইসরায়েলি পুলিশ ঈমানের মাধুর্যেই মেলে অন্তরের প্রশান্তি: শাইখ সালেহ বিন হুমাইদ পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা জোরদার ও সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধের দাবি

শিশু নিপীড়ন ও আইন হাতে নেওয়া কোনোটাই গ্রহণযোগ্য নয়: হেফাজত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনৈতিক আচরণ ও শিশু নিপীড়ন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে কোনো অভিযোগের জেরে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াও সমর্থনযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটি বলেছে, এ ধরনের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কতিপয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে নৈতিক পদস্খলনের অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই জরুরি।

হেফাজতের দুই শীর্ষ নেতা বলেন, শিশুদের যৌন নির্যাতন দীর্ঘদিনের একটি সামাজিক সমস্যা। এটি কোনো একটি সম্প্রদায় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক নয়; স্কুল, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন পরিসরে এ সমস্যা কমবেশি বিদ্যমান।

বিবৃতিতে তাঁরা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী নিপীড়ন প্রতিরোধে চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ দেশের ছয়টি কওমি মাদ্রাসা বোর্ড ও সেগুলোর অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এতে প্রতিটি মাদ্রাসায় ‘শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি’ গঠন অথবা বিদ্যমান কমিটি সচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী নিপীড়ন বা অনৈতিক আচরণের অভিযোগ পাওয়ার পর সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডগুলোকে শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ সেল গঠন এবং অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি না থাকলে, কমিটি নিষ্ক্রিয় থাকলে কিংবা অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অধিভুক্তি স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

শিশুদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হেফাজত নেতারা বলেন, স্কুল ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে কঠোর নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে এবং সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

সব স্কুল-মাদ্রাসাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তাঁরা বলেন, নৈতিক স্খলনের অভিযোগে দোষী প্রমাণিত ব্যক্তিকে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত—উভয় ধরনের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো শিথিলতা বা আপসের সুযোগ নেই।

শিশু-কিশোরদের সুশিক্ষা, নিরাপত্তা ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার দায়িত্ব পালনে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন হেফাজতের নেতারা।

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ