সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
সিলেট সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিএনপি-জামায়াত আমলে আলিয়া মাদরাসা বাড়ে ১৫৪১টি, আ.লীগ আমলে কমেছে ১৭৯টি আলী মিয়াঁ নদভীকে নিয়ে বই লিখে দিল্লি উর্দু একাডেমির পুরস্কার লাভ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় হেফাজতের শোক, ক্ষতিপূরণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসার দাবি রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা পাকিস্তানসহ ৪ দেশের  বিশ্বজয়ী হাফেজ হিরাকে শুভেচ্ছা জানালেন মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী ২০২৭ সালে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, তারিখ চূড়ান্ত জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌদি আরব ও কাতারের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ বিশ্বজয়ী হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরাকে সংবর্ধনা দিল ধর্ম মন্ত্রণালয় লক্ষ্মীপুরে ড্রাম ট্রাকচাপায় বৃদ্ধ ভ্যানচালকের মৃত্যু

নফসের জিহাদকারীকে মুজাহিদ, তাদের আমীরকে ‘আমীরুল মুজাহিদীন’ বলা যাবে কি?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: নাম ও ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানতে চেয়েছেন, হাদীসের মাঝে আসছে যে, المجاهد من جاهد نفسه فى طاعة الله অর্থাৎ যিনি আল্লাহর আনুগত্যে নিজের নফসের সাথে জিহাদ করে তিনি মুজাহিদ।

সুতরাং আত্মার পরিশুদ্ধায়নের জন্য যারা কোন হক্কানী পীর সাহেবের মুরীদ হন, তাদেরকে মুজাহিদ এবং তাদের পীর সাহেবকে আমীরুল মুজাহিদীন বলা যাবে না কেন?

উত্তর-

যে হাদীসটি দিয়ে দলীল দেয়া হচ্ছে সেটি দিয়ে এভাবে দলীল দেয়া সঠিক নয়। কারণ, উক্ত হাদীসের মাঝে আরো আসছে যে,

والمهاجر من هجر الخطايا والذنوب তথা ‘মুহাজির’ ঐ ব্যক্তি, যিনি গোনাহ ও পাপ থেকে দূরে থাকে। একথা তো সকলেরই জানা যে, গোনাহ ছেড়ে দেয়াকে পরিভাষায় ‘হিজরত’ এবং গোনাহ বর্জনকারীকে ‘মুহাজির’ বলা হয় না। সুতরাং এ হাদীসের দ্বারা এভাবে দলীল দেয়া সঠিক নয়।

‘জিহাদ’, ‘মুজাহিদ’ এবং ‘আমীরুল মুজাহিদীন’ ইত্যাদি শব্দগুলো শরীয়তের বিশেষ পরিভাষা।

যখন আমভাবে ‘জিহাদ’ শব্দ বলা হয়, তখন এর দ্বারা উরফে আম তথা সাধারণভাবে ‘জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ’ তথা আল্লাহর রাস্তায় সশস্ত্র সংগ্রামকেই বুঝায়।

যেহেতু উরফে আমে ‘জিহাদ, মুজাহিদ বা আমীরুল মুজাহিদীন’ শব্দ বলার, বা লেখার এবং শোনার দ্বারা সাধারণভাবে জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ বা আল্লাহর রাস্তায় সশস্ত্র সংগ্রামের দিকেই দৃষ্টি যায়, এ কারণে এ শব্দগুলোকে অন্য অর্থে ব্যবহারে সাধারণ মুসলমানদের মাঝে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হওয়ার শংকা রয়েছে।

তাই এ পরিভাষা আমভাবে ‘জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ’ ছাড়া অন্য অর্থের জন্য ব্যবহার পরিহার করা উচিত।

তবে যদি সাধারণ মুসলমানদের মাঝে এমন শংকা না থাকে। সকলেই এ বিষয়ে বুঝতে পারে যে, জিহাদ, মুজাহিদ এবং আমীরুল মুজাহিদীন বলতে এখানে এর হাকীকী অর্থে জিহাদ উদ্দেশ্য নয়। বরং পরবর্তী বা দ্বিতীয় অর্থ বুঝাতে তারা ব্যবহার করছেন। তাহলে ব্যবহারের সুযোগ আছে।- লেখাটি আহলে হক মিডিয়া থেকে নেয়া। উত্তর প্রদানে মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী।

فَضَالَةُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ: ” أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِالْمُؤْمِنِ؟ مَنْ أَمِنَهُ النَّاسُ عَلَى أَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ، وَالْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ النَّاسُ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ، وَالْمُجَاهِدُ مَنْ جَاهَدَ نَفْسَهُ فِي طَاعَةِ اللهِ، وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ الْخَطَايَا وَالذَّنُوبَ ” (مسند احمد، رقم- 23958، صحيح ابن حبان، رقم- 4862، المعجم الكبير للطبرانى، رقم- 796، مستدرك على الصحيحين، رقم- 24، شعب الإيمان للبيهقى، رقم- 10611))

-কেএল


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ