বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫ ।। ২০ চৈত্র ১৪৩১ ।। ৫ শাওয়াল ১৪৪৬


একুশে হারিয়েছি যে সাংস্কৃতিক কর্মী, সাহিত্যিক ও আলেমদের

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

নুরুদ্দীন তাসলিম।।

বিগত বছরে জাতি হারিয়েছে আলেম, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী, ইসলামী নাশিদ শিল্পী। যারা নিজ নিজ জায়গা থেকে ছড়িয়েছেন ইসলামী মূল্যবোধ ও চেতনা। ইসলামী অঙ্গনের শূন্যতা তৈরি করে গত বছর চিরদিনের জন্য পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়াদের তালিকা অনেক দীর্ঘ। আজ পাঠকের জন্য রইল চার পর্বের এই প্রতিবেদনটির ২য় পর্ব।


বেফাকের সহ-সভাপতি ও মিরপুর ত- ব্লক মহিলা মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস রহ.

মুফতিয়ে আযম বাংলাদেশ আল্লামা আহমদুল হক রহ. -এর খলিফা, বেফাকের সহ-সভাপতি ও মিরপুর ত- ব্লক মহিলা মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস (বুধবার) ২৮ এপ্রিল রাত ১:০৫ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন।

রাজধানী ঢাকার উত্তরাস্থ শিন শিন জাপান হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

চাঁদপুরের মহামায়া মাদরাসার শায়খুল হাদিস ও নূরানী বোর্ডের প্রধান মুফতি আল্লামা জাফর আহমদ রহ.

চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া শামসুল উলুম মহামায়া মাদরাসার শায়খুল হাদীস ও নূরানী তালিমুল কুরআন বোর্ডের প্রধান মুফতি ও শায়খুল কোরআন ক্বারী বেলায়েত রহমতুল্লাহি আলাইহির ভাগিনা আল্লামা জাফর আহমদ বুধবার (৭ এপ্রিল) সকাল ৯ টায় চাঁদপুর শাহরাস্তির নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন তিনি।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।

শায়খুল হাদিস আল্লামা জাফর আহমদ মানিকনগর জামিয়া ইসলামিয়া জহিরউদ্দিন আহমেদ মাদরাসারও শায়খুল হাদীস ছিলেন। শায়খুল কোরআন ক্বারী বেলায়েত রহমতুল্লাহি আলাইহির দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা ও নূরানী বোর্ডের প্রধান মুফতি ছিলেন। নূরানী বোর্ডের কেন্দ্রীয় ট্রেনিং সেন্টার রাজধানীর কাজলার মাদরাসা মসজিদের দীর্ঘদিনের খতিবের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।

বেফাকের সহ-সভাপতি ও পীরজঙ্গী মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা ছফিউল্লাহ রহ.

জামিয়া দ্বীনিয়া শামসুল উলুম মতিঝিল (পীরজঙ্গী মাজার) মাদরাসার মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস, বেফাকুল মাদারিসলি আরাবিয়ার বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মাওলানা ছফিউল্লাহ রহ. (রোববার) ১৬ মে  রাজধানীর মিরপুরের হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

কর্মজীবনে তিনি জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদ মাদরাসার মুহতামিম ছিলেন। এছাড়া রাজধানীর বড় কাটারা মাদরাসা, জামিয়া ইসলামিয়া তাতিবাজার মাদরাসারও মুহাদ্দিস ছিলেন তিনি। সবশেষ রাজধানীর পীরজঙ্গী মাজার মাদরাসার মুহতামিম ছিলেন তিনি।

তরুণ আলেম উপস্থাপক মুস্তাফিজুর রহমান রহ.

২৮ জুন রাজধানীর মগবাজারে ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় ইন্তেকাল করেন তরুণ আলেম, উপস্থাপক ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কর্মী মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান।

তরুণ আলেম মুস্তাফিজুর রহমান দাবানল শিল্পীগোষ্ঠীর প্রধান উপস্থাপক ছিলেন। তিনি রেডিও ধনিতে ‘আহকামুল জুমা’ ও রেডিও একাত্তরে জীবন ঘনিষ্ঠ প্রশ্ন উত্তর মূলক অনুষ্ঠান ‘ইসলাম ও আমরা’ -এর সঞ্চালনা করতেন।

সন্ধ্যায় মগবাজারে বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুতর আহত হন মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান। দুর্ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন তিনি। তরুণ এই আলেমের ইন্তেকালের খবরে নেটিজেনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।

ইসলামি সাংস্কৃতিক কর্মী ও তরুণ এই আলেম  দুর্ঘটনার দিন কানের ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছিলেন, দুর্ঘটনার সময় তিনি ভবনের সামনে গাড়িতে অবস্থান করছিলেন। বিস্ফোরণের ঘটনায় সেখানেই গুরুতর আহত হন তিনি।

মাসিক কাবার পথের সম্পাদক মাওলানা সাইফুদ্দিন ইয়াহইয়া  রহ.

মাসিক কাবার পথ ও সাপ্তাহিক ইসলাহ পত্রিকার সম্পাদক মাওলানা সাইফুদ্দিন ইয়াহইয়া ৮ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকাল ৬টায় রাজধানীর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

মাওলানা সাইফুদ্দিন ইয়াহইয়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। এছাড়াও জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়া-এর তিনবারের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। তিনি ঢাকা আলিয়া থেকে পড়াশোনা করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি এ অনার্স এম এ প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ মেধাবী ছাত্র ছিলেন।

১৯৯৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে মাসিক কাবার পথে ও ২০০১ সাল থেকে সাপ্তাহিক ইসলাহ পত্রিকা বের করেন মাওলানা সাইফুদ্দিন ইয়াহইয়া।

কলরবের জনপ্রিয় তরুণ নাশিদ শিল্পী মাহফুজুল আলম রহ.

কলরবের জনপ্রিয় তরুণ নাশিদ শিল্পী মাহফুজুল আলম নরসিংদীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়  ২০ জুলাই (মঙ্গলবার)  রবের ডাকে সাড়া দিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।

নাশিদ শিল্পী মাহফুজুল আলমের জন্মস্থান নরসিংদী। ছোটবেলা থেকে ইসলামী সঙ্গীত গেয়ে জনপ্রিয় এ শিল্পী ২০১০ থেকে কলরবের শিল্পী হয়ে নিয়মিত গাইছেন দেশজুড়েই।

২০টিরও বেশি একক নাশিদ এবং ৩০টিরও বেশি কোরাস নাশিদ রয়েছে তার। মাহফুজুল আলম পড়াশোনার পাশাপাশি কলরবের সিনিয়র শিল্পী এবং নাশিদ কম্পোজার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছিলেন সফলভাবে।

২০১০ সালে কলরবে কাজ শুরু করে ‘মায়ের কথা’, ‘তোমার বন্ধু উপর তলায় বাসা’, ‘শয়নে স্বপনে মা’সহ বেশ কয়েকটি নাশিদ রিলিজ করেন সেই সময়ের এই শিশুশিল্পী। যেগুলো ইসলামী সঙ্গীতপ্রেমীদের মনে এখনো গেঁথে আছে।

নরসিংদীর জামেয়া ইসলামিয়া নুরিয়ার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল্লাহ রহ.

নরসিংদীর জামেয়া ইসলামিয়া নুরিয়া সাটিরপাড়া মাদ্রাসার স্বনামধন্য মুহতামিম মাওলানা আব্দুল্লাহ সোমবার (১২ জুলাই) রাত এগারোটায় রাজধানীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

মরহুম মাওলানা আব্দুল্লাহ জামিয়া ইসলামিয়া নুরিয়া নরসিংদীতে ৩০ বছর ধরে ইলমে দ্বীনের খেদমত করছিলেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তার অসংখ্য ছাত্র ও শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছে।

সিলেট গহরপুর মাদরাসার শায়খুল হাদীস আল্লামা সাদ উদ্দিন ভাদেশ্বরী  রহ.

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া ইসলামিয়া হোসাইনিয়া গহরপুরের শায়খুল হাদীস আল্লামা সাদ উদ্দিন ভাদেশ্বরী ২৩ জুলাই (শুক্রবার) আনুমানিক বিকাল ৪ টায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছে আনুমানিক ৮০ বছর।

আল্লামা সাদ উদ্দিন ভাদেশ্বরী আল্লামা নুরউদ্দীন গহরপুরী রহ.-এর খাস শাগরিদ ও খলীফা ছিলেন। গওহরপুর জামিয়া থেকে দাওরা ফারেগের পর এখানেই তিনি ইলমে দ্বীনের খেদমত শুরু করেন। এরপর প্রায় ৪৫ বছর ধরে এই জামিয়াতে ইলমে দ্বীনের খেমদত আঞ্জাম দিয়ে আসছিলেন তিনি।

মৃত্যুর আগে জামিয়ার শাইখুল হাদিস হিসাবে দায়িত্ব পালন করলেও ইতোপূর্বে তিনি এই মাদরাসার শিক্ষা সচিব হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। জামিয়ার শিক্ষার পরিবেশকে সুশৃঙ্খল করতে তার বিশেষ অবদান রয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী শর্শদী মাদরাসার মুহাদ্দিস আল্লামা মীর হুসাইন রহ.

ফেনী প্রাচীন দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘শর্শদি দারুল উলুম ইসলামিয়া মাদরাসা’র সিনিয়র মুহাদ্দিস আল্লামা মীর হুসাইন রহ. বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬.১৫ মিনিটে কুমিল্লা কুছাইতুলি হাসপাতাল থেকে গ্রামের বাড়ি ছুফুয়ায় ফেরার পথে ইন্তেকাল করেন ।

দেশের প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শর্শদি দারুল উলুম ইসলামিয়া মাদরাসায় দীর্ঘ ৫০ বছর যাবত মুহাদ্দিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এসময় “সিয়াহ সিত্তাহ” তথা হাদিসের মৌলিক কিতাবগুলো,আবুদাউদ ,নাসাঈ,
তিরমিজি ও মুয়াত্তায়ে ইমাম মালেক ও মোহাম্মদ রহ. সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ কিতাবাদীর দরস দিয়েছেন তিনি।

আরো পড়ুন: একুশে হারালাম যে অভিভাবকদের

এটি/ এনটি


সম্পর্কিত খবর



সর্বশেষ সংবাদ