।।কাউসার লাবীব।।
জঙ্গি অর্থায়ন ও দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অভিযোগে ১১৬ ওয়ায়েজিনের একটি তালিকা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দিয়েছে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সমন্বয়ে গঠিত মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে ‘গণকমিশন’।
বুধবার (১১ মে) দুদক চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লার হাতে একটি শ্বেতপত্র তুলে দেন গণকমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও সদস্য সচিব ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজসহ পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।
এ তালিকা থেকে বাদ পড়েননি বর্ষীয়ান আলেমেদ্বীন আল্লামা মুফতি আব্দুল হালিম বুখারী, আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জীর মতো দেশের শীর্ষ আলেমরাও। তালিকায় আছেন বেশ কয়েকজন কারাবন্দিরা আলেম। দুদক চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া ২২শ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনের ৭৬০ ও ৭৬১ পৃষ্ঠায় তাদের নাম প্রকাশ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জঙ্গি অর্থায়ন ও ওয়াজের মাধ্যমে তারা ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ঠ করছেন।
গণকমিশনের এ তালিকা নেট মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ইতোমধ্যেই দেশের ধর্মপ্রিয় মানুষের মাঝে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ১১৬ জনের তালিকায় আছেন দেশের অন্যতম গবেষক আলেম ও ইসলামিক স্কলার ড. আফম খালিদ হুসাইন। গণকমিশনের এ তালিকা বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিলাম তার কাছে।
তিনি বলছেন, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি কর্তৃক গঠিত গণকমিশনের এই তালিকা এদেশের ইসলাম, মুসলিম এবং ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের বিষয়ে এক গভীর চক্রান্ত। এ তালিকায় রয়েছেন জামিয়া পটিয়ার মুহতামিম মুফতি আব্দুল হালিম বোখারী, মাওলানা সালাহ উদ্দীন নানুপুরীর মতো আলেমগণ। তারা তো কোনো ধরনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। শুধু ওয়াজ-নসিহত, তাজকিয়ায়ে নফস এবং দরস তাদরিসের সঙ্গে তারা আছেন।
‘স্বাধীনতার পর থেকে একটি মহল এদেশের ইসলাম ও মুসলমানদেরকে নানাভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে যাচ্ছে। অনেকে এটাকে প্রায় পেশা হিসেবে নিয়ে নিয়েছে। এর বিরুদ্ধে আমরা মুফতী আমিনী রহ., আল্লামা আশরাফ আলী রহ. ও আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী রহ. থাকতে অনেক আন্দোলন করেছি। বর্তমানে ওই মহলটি চাচ্ছে ওয়াজ-নসিহতের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ যে দিনের আলো পাচ্ছে সেটিকে নষ্ট করে দেয়ার। এগুলো ইসলামী সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধ যারা সমাজে ছড়িয়ে দিচ্ছে তাদেরকে দমিয়ে দেয়ার একটি অপকৌশল।’- বলেন, ড. আফম খালিদ হুসাইন