আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: নেত্রকোণা জেলার মদন থানার নায়েকপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম ও তার ভাই মো. মোস্তাকিন ইসলাম। একমাত্র বোনকেও বিয়ে দিয়েছেন একই এলাকায়। দুলাভাই তথা বোনজামাইয়ের নাম হক মিয়া। এই দুলাভাইয়ের জমির ধান কাটতে দিনমজুর ও স্থানীয় মসজিদের ইমামকে ডেকেছিলেন দুই ভাই। কিন্তু তাতে রাজি না হওয়ায় কাস্তে দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন শফিকুল আর মোস্তাকিন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, হক মিয়া একই গ্রামের এখলাছ মিয়ার নিকট হতে ২০২১ সালে ৪০ শতাংশ জমি ক্রয় করে ওই জমিতে চাষাবাদ করে আসছিলেন। কিছুদিন আগে বিক্রেতা এখলাছ মিয়ার ভাই এলাই মিয়া উক্ত জমির অর্ধেক অংশের মালিকানা দাবি করে হক মিয়াকে ধান কাটতে নিষেধ করে।
এ অবস্থায় হক মিয়া নিহত ইমাম খাইরুল মিয়াকে তার সহযোগী অন্যান্য শ্রমিক নিয়ে ওই জমির ধান কেটে দেওয়ার জন্য বলেন। হক মিয়ার সাথে এ সময় কিছু লোকজনও ছিল, যারা শ্যালকের পরিচিত বলে জানা যায়।
কিন্তু ইমাম খাইরুল মিয়া ছিলেন একজন দিনমজুর, অসহায় প্রকৃতির ও আল্লাহভীরু লোক। ধানের জমিটি বিরোধপূর্ণ হওয়ায় দাঙ্গা-হাঙ্গামার আশঙ্কায় তিনি ধান কাটতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তখন ধান কেটে না দিলে দেখে নেওয়া হবে- এমন কথা বলে হক মিয়া ও তার শ্যালকের লোকজন চলে যায়।
গত ৫ মে সকালে মাখনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণে খাইরুল মিয়া তার গরুর জন্য কাস্তে দিয়ে ঘাস কাটছিলেন। তখন আসামিরা সেখানে উপস্থিত হয়ে দেখে জমিতে ধান না কেটে খাইরুল মিয়া ঘাস কাটছেন। ঘাস কাটা বন্ধ রেখে তাকে পুনরায় ওই জমির ধান কেটে দিতে বললে খাইরুল মিয়া পূর্বের ন্যায় অস্বীকৃতি জানান। এমন অবস্থায় আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারপিট করতে থাকে।
একপর্যায়ে খাইরুল মিয়ার হাতে থাকা কাস্তে ছিনিয়ে নিয়ে তার গলায় আঘাত করলে গলার রগ কেটে যায়। গুরুতর রক্তাক্ত হয়ে খাইরুল মাটিতে পড়ে যান। আসামিরা তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।
কয়েক মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে গুরুতর রক্তাক্ত খাইরুল মিয়াকে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর নিহত ইমাম খাইরুল ইসলামের বড় ভাই মো. ঈদু আমীন ঈদু আসামিদের বিরুদ্ধে নেত্রকোণা জেলার মদন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। তারা হলেন- শফিকুল ইসলাম (২৩) ও তার সহোদর মো. মোস্তাকিন ইসলাম (২০)।
এ বিষয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তাধর বলেন, একজন দিনমজুর ও স্থানীয় মসজিদের ইমামকে এমন নির্মমভাবে হত্যার ঘটনাটি দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মামলা দায়ের হওয়ার পর সিআইডির এলআইসি শাখা ছায়া তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকার বিভিন্ন উৎস হতে প্রয়োজনীয় তথ্য সরেজমিনে সংগ্রহ করা হয়।
এলআইসির একটি চৌকস টিম অভিযান পরিচালনা করে গতকাল রাতে জিএমপির গাছা থানার শরীফপুর এলাকা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
-এটি