মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
‎হানাফি উসুল অমূল্য রত্ন ও ফকিহ সাহাবায়ে কেরামের উত্তরাধিকার কওমি মাদরাসায় কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ বিষয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ত্রুটি: চার শিক্ষককে শোকজ বন্যা দুর্গতদের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত বিকেএম কেন্দুয়া উপজেলা শাখার ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে কাল বাংলাদেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ইকরা হবিগঞ্জের ফল উৎসব উদযাপিত  বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, মৃত্যু ৫৪ ফতুল্লায় বাড়িতে গ্যাস–সংযোগ দেওয়ার সময় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪ শ্রমিক বন্যা দুর্গত দেড় হাজার পরিবারে তাকওয়া চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

৫ মাসের সন্তানসহ মাকে গলা কেটে হত্যা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: কুড়িগ্রামের রৌমারীতে পাঁচ মাসের এক শিশু সন্তানসহ মাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ মে) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগীর পরিবার দাবি করেছে।

আজ শনিবার সকালে উপজেলার সদর ইউপির নতুন বন্দর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে শিশুর লাশ ও পাশের একটি পুকুর থেকে গলা কাটা অবস্থায় গুরুতর আহত মাকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মায়েরও মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন- মা হাফছা আক্তার হারেনা (২৭) ও শিশু ছেলে হাবিব। হাফছার বাড়ি রৌমারী সদর ইউনিয়নের নতুন বন্দর এলাকায়। তিনি ওই গ্রামের আব্দুর রশীদের মেয়ে। তার স্বামীর বাড়ি উপজেলার শৌলমারী ইউপির ওকড়াকান্দা গ্রামে। স্বামীর নাম শাহের আলী।

হাফছার বড় ভাই হাসেনুর রহমান জানান, কাজের সূত্রে তার স্বামী জামালপুরে থাকে। শিশু সন্তান অসুস্থ থাকায় চিকিৎসার জন্য গত বৃহস্পতিবার ওকড়াকান্দা গ্রামে তার স্বামীর প্রতিবেশী ও উকিল বাবা জাকির হোসেন জফিয়ালের বাড়িতে যায়। সেখান থেকে শুক্রবার জফিয়ালের সঙ্গে কুড়িগ্রামে গিয়ে শিশু হাবিবকে ডাক্তার দেখিয়ে বিকালে আবারও রৌমারীতে ফিরে আসে।

তিনি দাবি করেন, ‘বিকালে বোনকে ফোন দিলে নৌকায় করে রৌমারী ফিরছেন বলে জানায়। কিন্তু সন্ধ্যা থেকে সে আর ফোন ধরছিল না। জফিয়ালকে ফোন দিলে তিনিও কেটে দেয়।

এরপর বোনের নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। রাতে জফিয়ালকে বারবার ফোন দিলেও রিসিভ করেনি। শনিবার সকালে নতুনবন্দর গ্রামে বাবার বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে একটি ধানক্ষেত থেকে হাবিবের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়।

পাশের একটি পুকুর পাড় থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাফছাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জাকির হোসেন জফিয়াল পলাতক রয়েছে।’

স্থানীয়রা জানান, বিয়ের পর থেকে হাফছার সঙ্গে তার স্বামীর বনিবনা হচ্ছিল না। এ জন্য বেশিরভাগ সময় বাবার বাড়িতে থাকতেন। জন্মের পর তার সন্তান অসুস্থ হলেও স্বামী খুব একটা খোঁজখবরও নিতেন না। তবে ঠিক কী কারণে কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহতের ভাই হাসেনুর দাবি করেন, ‘হাফছা মৃত্যুর আগে হত্যাকারীর নাম বারবার লেখার চেষ্টা করলেও হাত দিয়ে কলম ধরে রাখতে পারছিল না। আমার বোন ও তার শিশু সন্তানকে জফিয়াল হত্যা করেছে বলে আমাদের সন্দেহ। এ ঘটনায় তার স্বামীরও ইন্ধন রয়েছে বলে মনে করি। বোনের লাশ বাড়িতে পৌঁছার পর উকিল বাবা জফিয়াল ও স্বামী শাহের আলীর বিরুদ্ধে মামলা করবো।’

রৌমারী থানার ওসি মোন্তাছের বিল্লাহ বলেন, ‘ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে মা ও শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় যেই জড়িত থাক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘খবর পেয়ে হাফছার স্বামী জামালপুর থেকে রৌমারী এসেছেন। তিনি এখন থানায় রয়েছেন। জফিয়ালের বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ