শায়খ ড. বান্দার বিন আবদুল আজিজ বালিলা ।। এসে গেছে হজের মৌসুম। বইছে হজের হাওয়া। উড়ছে হজের পতাকা। এই তো দয়াময়ের মেহমান দল। আল্লাহর আদেশ পালনের তাওফিকপ্রাপ্ত হয়েছেন তারা।
তাইতো বেরিয়ে পড়েছেন পায়ে হেঁটে ও বাহনে চড়ে। ধরেছেন তারা হেদায়েত ও ধার্মিকতার পথ। পেয়ে গেছেন অভিনন্দন ও পরম চাওয়া। আল্লাহর সাহায্য তাদের সঙ্গ দিচ্ছে। ‘নিঃসন্দেহে প্রথম ঘর যা মানুষের জন্য স্থাপন করা হয়েছিল, তাতো মক্কায়, যা বরকতমন্ডিত এবং সারা জাহানের জন্য পথপ্রদর্শক।
তাতে সুস্পষ্ট নিদের্শনাবলি রয়েছে (যেমন) মাকামে ইবরাহি। যে কেউ তাতে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ হবে। আল্লাহর জন্য ওই ঘরে হজ করা লোকেদের ওপর আবশ্যক যার সে পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য আছে এবং যে ব্যক্তি অস্বীকার করবে, (সে জেনে রাখুক) নিঃসন্দেহে আল্লাহ বিশ্বজাহানের মুখাপেক্ষী নন।’ (সুরা আলে ইমরান : ৯৬-৯৭)
হজ ইসলামের একটি বড় স্তম্ভ এবং এক বিশাল জমায়েত। হজ একটি পবিত্র সফর এবং ভালোবাসার এক সুবাস। একে ঘিরে থাকে ইবাদত, তাকওয়া ও জিকির। হজ শুদ্ধি, পুণ্য ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম।
এর মাধ্যমে হয় মহান স্রষ্টার সঙ্গে সম্পর্কের নবায়ন। হয় শপথ ও সংকল্পের মজবুতায়ন। ইবাদতগুলোর মধ্যে হজ একটি দামি ও শ্রেষ্ঠ পুণ্যকর্ম। একটি উচ্চাঙ্গের উৎসবমুখর ইবাদত। এর ফজিলত হিসেবে তো এটাই যথেষ্ট যে এটি পাপসমূহের কাফফারা এবং এর প্রতিদান জান্নাত।
নবীজি সা. বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশে হজ করল এবং অশালীন কথাবার্তা ও গুনাহ থেকে বিরত রইল, সে নবজাতক শিশু, যাকে তার মা এ মুহূর্তেই প্রসব করেছে, তার মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসে।’
তিনি আরো বলেন, ‘মকবুল হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।’ (হাদিস দুটি বর্ণিত হয়েছে বুখারি ও মুসলিমে) অন্য হাদিসে এসেছে— রাসুল সা.-কে জিজ্ঞেস করা হল, ‘কোন আমলটি উত্তম?’ তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ওপর ঈমান আনা। প্রশ্ন করা হল, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।
প্রশ্ন করা হলো, তারপর কোনটি। তিনি বললেন, মাবরুর হজ।’ (বর্ণনায় মুসলিম) ‘মাবরুর’ হলো সেই— হজ যার সবকিছু বিধি মোতাবেক সম্পন্ন হয় এবং তাতে কোনো গুনাহর সংশ্লেষ না থাকে।
আল্লাহর বান্দারা, যে কেউ ইবাদতগুলোতে বোধের দৃষ্টিতে তাকাবেন, তিনি জানবেন— ইবাদত কিছু আচার অনুসরণ করা যা ভেতরগত অনুগত্য তুলে ধরে। যার লক্ষ্য অন্তর পরিশুদ্ধ করা, ক্বলব সংশোধন করা এবং তাকে আল্লাহর সঙ্গে যুক্ত করা। আর সেসব ইবাদতেরই অন্যতম হজ। চমৎকার সব শিক্ষা ও উপকারী সব তাৎপর্যে ভরা এই হজ। অথচ কিছু মানুষের কাছ থেকে এসব বিষয় উধাও হয়ে