মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণেই প্রধান শহরগুলো ডুবছে: পীর সাহেব চরমোনাই উচ্চারণ ও উপস্থাপনা কোর্সে ১০০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী পাবেন বিশেষ স্কলারশিপ মসজিদে নববিতে বিশেষ দারস দেবেন শায়খ আস-সুদাইস বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের খুলনা বিভাগীয় কওমি মাদরাসা পরিষদের নেতৃত্বে মাওলানা মুশতাক ও নাসীরুল্লাহ বন্যার পানিতে ডুবে পটিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীর মৃত্যু মডেল মসজিদ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ বাংলাদেশি হাজিদের খরচ কমাতে সৌদি আরবের সহযোগিতা কামনা জলাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে ছুটি বাড়ল জামেয়া দারুল মাআরিফের ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩২৭

আবাসিক ব্যবস্থাপনা ও তার নেজাম

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মূল: আহমদ জাফর
অনুবাদ: নোমান আব্দুল্লাহ

আবাসিক ব্যবস্থাপনায় যত সুন্দরভাবে মেধা ও মননের যত্ন নেওয়া সম্ভব হয়ে থাকে, তা অনাবাসিক ব্যবস্থাপনায় সম্ভব হয়না। এজন্য আবাসিক ব্যবস্থাপনা যুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বেশি পছন্দ করা হয়ে থাকে। এমনকি কিছু শিক্ষাবিদের মত হলো, আবাসিক ব্যবস্থাপনা ব্যতীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার উদ্দেশ্য পূরণে তেমন ফলপ্রসু হয়না।

এজন্য আমরা লক্ষ করি, অবিভক্ত ভারতে কওমি, সরকারি, আধা সরকারি সব ধরণের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে আবাসিক ব্যবস্থাপনাকে আবশ্যক মনে করা হতো।

আর যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবাসিক ব্যবস্থাপনা থাকতোনা; তা এগুলোর মতো এতো ফলপ্রসু হতোনা। উদাহরণস্বরূপ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়া, দারুল উলুম দেওবন্দ, নদওয়াতুল উলামা, দারুল ইলম ওয়াল আমল ফিরিঙ্গি মহল এবং সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয়, এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মতান্ত্রিক আবাসিক ব্যবস্থাপনা থাকার প্রতি বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছিলো।

এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য মুসলিম ছাত্রদের অনেক কাঠখড় পোড়াতে হতো। তাদের জন্য সেখানে আবাসনের ব্যবস্থাও সহজ ছিলোনা। পরে সামিউল্লাহ খান নামক একজন দানবীর ব্যক্তি 'মোহামেডান হোস্টেল' বানিয়ে দিলে মুসলিম ছাত্রদের আবাসন সঙ্কট দূর হয়ে যায়।

বর্তমান কালের আবাসিক ব্যবস্থাপনা যুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে অন্যান্য সুবিধা রয়েছে। কিন্তু ছাত্ররা যেখানে ক্লাস পরবর্তী দিনের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত করে থাকে, সেখানেও মনন গঠনের ব্যবস্থাপনা থাকা প্রয়োজন। ধর্মের অনুশীলনের প্রতি আগ্রহ তৈরির জন্য বিশেষ প্রচেষ্টা থাকা কর্তব্য।

প্রতিটি ছাত্রবাসে ছাত্রদের নামাজের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া, তাদের জন্য ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ক সেমিনারের আয়োজন করা প্রয়োজন। মাঝেমাঝে বক্তৃতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা এবং ইসলাহি মজলিসের আয়োজন করা কর্তব্য। এছাড়াও ছাত্রদের জন্য এমন সমৃদ্ধ লাইব্রেরি থাকা উচিত, যেখানে এমন বইপত্র থাকবে যা পাঠের মাধ্যমে ছাত্রদের মাঝে ইসলাম ও মুসলিম জাতির ব্যাপারে আগ্রহ-উদ্দীপনা তৈরি হবে। ছাত্রদের হৃদয়ে এমন চেতনা জোগাবে যা আত্মাকে জাগিয়ে তুলবে।

বর্তমানে ছাত্রদের মাঝে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মকানুনের প্রতি অবজ্ঞা লক্ষ করা যাচ্ছে এবং দিনদিন তারা যেভাবে দূরে সরে যাচ্ছে তা আশঙ্কাজনক।

তেমনিভাবে ইসলামি শিক্ষা ও ঐতিহ্য সম্পর্কে মুসলিম ছাত্রদের মাঝে অজ্ঞতা যেভাবে দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাস যখন দ্বীনি কার্যক্রম ও চিন্তাশীলতার চর্চার প্রতি গুরুত্বারোপ করবে। তাই দায়িত্বশীলদের এ ধরণের ব্যবস্থাগ্রহণ করা উচিত।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ