সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
১৩ মাসে হাফেজ হলো ১০ বছরের নাঈম নিকাব নিয়ে কটূক্তি: ঢাবির সেই শিক্ষিকাকে ‘লাল কার্ড’ দেখালেন শিক্ষার্থীরা আলোর পথের যাত্রী  সিলেট সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিএনপি-জামায়াত আমলে আলিয়া মাদরাসা বাড়ে ১৫৪১টি, আ.লীগ আমলে কমেছে ১৭৯টি আলী মিয়াঁ নদভীকে নিয়ে বই লিখে দিল্লি উর্দু একাডেমির পুরস্কার লাভ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় হেফাজতের শোক, ক্ষতিপূরণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসার দাবি রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা পাকিস্তানসহ ৪ দেশের  বিশ্বজয়ী হাফেজ হিরাকে শুভেচ্ছা জানালেন মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী ২০২৭ সালে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, তারিখ চূড়ান্ত

কানাঘুষা ইসলামে নিষিদ্ধ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: একটি সমাজে মানুষ সুন্দরভাবে যেন বাস করতে পারে, সে জন্য ইসলাম মানুষের ছোট-বড় সব বিষয়েই শিক্ষা দিয়েছে। বিশৃঙ্খলা, অনৈতিকতা ও অরাজকতার সূত্রপাত যাতে না হয়, সে জন্য শুরু থেকেই এসব দরজা বন্ধ করে দিয়েছে ইসলাম। আর এসব ইসলামী জীবনযাপনের মধ্যেই আছে মুসলমানের জন্য সমূহ কল্যাণ।

ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিষ্টাচার হলো, একজনকে একা বসিয়ে বাকিরা আলাদা বসে কানে কানে কথা বলা উচিত নয়।

এর কারণে তৃতীয় ব্যক্তি নিজেকে অবহেলিত মনে করতে পারে। বা এভাবে অন্যদের আলাপে তার অন্তর ব্যথিত হতে পারে। সেই তৃতীয় ব্যক্তি তাদের ব্যাপারে নানা ধারণা করে ভবিষ্যতে তাদের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে পারে, এর ওপর ভিত্তি করে তাদের মধ্যে ঘৃণা ও ক্রোধ ধীরে ধীরে বাড়বে; আর একসময় সেই ক্ষোভ বিস্ফোরিত হতে পারে। এ জন্য রাসুল (সা.) কেউ যেন এমনটা না করে সে ব্যাপারে সতর্ক করে গেছেন। আর এটাকে হালকা ও সাধারণ মনে করারও অবকাশ নেই। আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন তোমরা তিনজন হবে, তখন দুজন আর একজনকে বাদ দিয়ে দুজনে চুপিচুপি কথা বলবে না, যে পর্যন্ত না অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মিশে যাও—এ কারণে যে তাহলে তাকে দুর্ভাবনায় ফেলে দেবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫৫৮৯)

অন্য বর্ণনায় এসেছে, কেননা এটা তাকে চিন্তিত করে। (জামে তিরমিজি, হাদিস : ২৮২৫)

সাহাবায়ে কেরাম রাসুলের এই আদেশ যেন অমান্যকারী না হন, সে জন্য কী পন্থা অবলম্বন করেছেন তার বর্ণনা এসেছে এই হাদিসে। আবদুল্লাহ ইবনে দিনার (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ও আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) খালিদ ইবনে উকবা (রা.)-এর সেই ঘরের কাছে ছিলাম, যা বাজারে অবস্থিত ছিল। ইত্যবসরে এক ব্যক্তি এসে তাঁর সঙ্গে কানে কানে কিছু কথা বলতে ইচ্ছা করল। আবদুল্লাহ (ইবনে ওমর)-এর সঙ্গে আমি ও ওই ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ ছিল না। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) অন্য এক ব্যক্তিকে ডেকে নিলেন। এখন আমরা চারজন হলাম এবং তিনি আমাকে ও সেই ব্যক্তিকে একটু সরে যেতে বললেন, যাকে ডেকে নিয়েছিলেন এবং বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট শুনেছি, তিনি বলেছেন, দুজন একজনকে একা ছেড়ে কানে কানে কথা বলবে না (এতে তৃতীয় ব্যক্তি দুঃখিত হয়)। (মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হাদিস : ১৭৯৭)

পরস্পর দূরত্ব ও মনোমালিন্য ঘোচাতে এবং নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন ও সামাজিক বন্ধন অটুট রাখতে রাসুল (সা.) এই ছোট বিষয়গুলো (যা অনেকের দৃষ্টিতে সাধারণ মনে হতে পারে) আমাদের বলে গেছেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের রাসুল (সা.)-এর আদর্শ মোতাবেক চলার তাওফিক দান করুন।

-এসআর


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ