জাহিদুল ইসলাম
বন্ধুরা! ইতিপূর্বে তোমরা বড় বড় মনীষীদের, আকাবিরদের জীবনী জেনেছ, পড়েছ। নতুন করে একজন মনিষীর, আকাবিরের জীবনী শোনাবো। যিনি হলেন মারহুম মাগফুর হযরত মাওলানা মিছবাহুজ্জামান সূতারপুরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি।
হযরত মাওলানা মিছবাহুজ্জামান (সুতারপুরী হুজুর রহমাতুল্লাহি আলাইহি) নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া থানার সুতারপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
তার জন্মগ্রহণের নির্দিষ্ট দিন এবং সময় জানা যায়নি। শুধু এতটুকু জানা যায় যে, বাংলা ১৩২৬ সনে আশ্বিন মাসে এক প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড় হয়েছিল। সেই ঘূর্ণিঝড়ের ১২ দিন পূর্বে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম জনাব ইজ্জত আলী, মাতার নাম আমিনা। তিনি তার পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন। হযরতের জন্য গ্রহণের ৫/৭ বছর পর তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন। পিতার ইন্তেকালের পর শৈশবকাল মাতা এবং বড় ভাইদের তত্ত্বাবধানে অতিবাহিত হয়।
শিক্ষা দীক্ষা: তিনি শুনই মাদ্রাসায় প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করেন। সেখানে কায়দা, আমপাড়া পড়েন। অতঃপর তিনি তার গ্রামের পার্শ্ববর্তী গ্রাম রূপচন্দ্রপুর মক্তব খানায় চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন।
অতঃপর তাঁর শিক্ষা জীবনের মুরুব্বী কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানাধীন চাঁনপুর নিবাসী হযরত মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক সাহেব রহমাতুল্লাহ আলাইহি এর পরামর্শে এবং তত্ত্বাবধানে কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল থানার সিংদা গ্রামের মাদ্রাসায় জনাব মাওলানা ইসমাঈল রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর নিকট কাফিয়া, কুদুরী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন।
সেকালে আমাদের দেশে কওমি মাদ্রাসার সংখ্যা খুবই কম ছিল। বিশেষ করে উঁচু পর্যায়ের ক্বওমি মাদ্রাসা একেবারেই বিরল ছিল। তাই তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক সাহেবের আদেশে কিশোরগঞ্জের বিখ্যাত হযরত নগর আলীয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন এবং সেখানে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করে সুনামের সাথে লেখাপড়া সমাপ্ত করেন। সে যুগে এই মাদ্রাসার শিক্ষার গুণগতমান খুবই উন্নত ছিল। স্বনামধন্য কয়েকজন শিক্ষক ও বুজুর্গ সেখানে পাঠদান করতেন।
তন্মধ্যে মুজাহিদে মিল্লাত হযরত মাওলানা আতহার রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর প্রধান খলিফা হযরত মাওলানা আহমদ আলী খাঁন সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত হাফেজ্জী হুজুর রাহমাতুল্লাহ আলাইহি এর অন্যতম খলিফা হযরত মাওলানা ইব্রাহিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উল্লেখযোগ্য।
হযবতনগর ম