সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণেই প্রধান শহরগুলো ডুবছে: পীর সাহেব চরমোনাই উচ্চারণ ও উপস্থাপনা কোর্সে ১০০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী পাবেন বিশেষ স্কলারশিপ মসজিদে নববিতে বিশেষ দারস দেবেন শায়খ আস-সুদাইস বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের খুলনা বিভাগীয় কওমি মাদরাসা পরিষদের নেতৃত্বে মাওলানা মুশতাক ও নাসীরুল্লাহ বন্যার পানিতে ডুবে পটিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীর মৃত্যু মডেল মসজিদ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ বাংলাদেশি হাজিদের খরচ কমাতে সৌদি আরবের সহযোগিতা কামনা জলাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে ছুটি বাড়ল জামেয়া দারুল মাআরিফের ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩২৭

দীনের খাদেমগণ ও তাঁদের পোষাক কেমন হবে: হারদুঈ হযরত রহ়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুযযাম্মিল হক উমায়ের।।

মুহিউস সুন্নাহ হজরত মাওলানা আবরারুল হক হক্কী রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা বলেন-সাধারণত দ্বীনের খাদেমগণ অভিযোগ করে থাকেন- সাধারণ লোক তাঁদেরকে সম্মান করে না৷ তাঁদেরকে মুল্যায়ন করেনা৷

এই অভিযোগের উত্তর প্রসঙ্গে হযরত বলেন-হে ভায়েরা! এর কারণ তো হলো নিজেদের চলাফেরা, চাল- চলন, পোশাক-আশাক যখন সাধারণ লোকদের মত বানিয়ে নিবেন তখন আপনাদের সাথেও সাধারণ লোকদের সাথে যে ব্যবহার করা হয় সেই ব্যবহারই করা হবে৷

হযরত বলেন-একজন কনস্টেবল এবং সুপারেন্ট যখন সে তার নিজ পোষাকে থাকে তখন তার সাথে ব্যবহারও সেই রকম করা হয়৷

হযরত বলেন-একজন পুলিশ যদি সাধারণ পোশাকে পানের দোকানে যায় তাহলে জানা কথা যে তার সাথে কোন বিশেষ ব্যবহার করা হবে না বরং অন্যান্য লোকদের মত তাকেও পান নেয়ার জন্যে লাইনে দাঁড়াতে হবে৷ যখন তার সিরিয়াল আসবে তখনি সে পান পাবে৷ কিন্তু সে যদি নিজ পুলিশের পোশাকে যেতো তাহলে জানা কথায় যে তার সাথে বিশেষ ব্যবহার করা হতো৷

হযরত বলেন-একবারের ঘটনা৷ শহরের অল্প কিছু দূরে একটি মজলিস৷ ঐ মজলিসে যাওয়ার জন্যে এখানে একজন ওয়ায়েজ আসলেন৷ সেই বক্তার সাথে একজন মাস্টারকে পাঠানো হলো৷ বক্তা ছিলো সাধারণ পোশাক পরিহিত৷ অন্যদিকে মাস্টার সাহেব ছিলেন বুযুর্গদের পোশাক পরিহিত৷ এই বুযুর্গদের পোশাকের ক্রিয়া ওখানে এই হয়েছে যে- সেখানে পৌঁছার পর লোকেরা মাস্টার সাহেবকে মাওলানা সাহেব মনে করে সালাম মুসাফাহা শুরু করে দিলো৷ এদিকে প্রকৃত বক্তা যে তাকে লোকেরা সাধারণ লোক মনে করে কিছুই করলো না৷

তাহলে এখানে সমস্যাটি কী? সমস্যাটি হলো- বক্তা সাধারণ পোশাকে ছিলো৷ এজন্যে তার সাথে সাধারণ লোকের ব্যবহার করা হয়েছে৷

(আর মাস্টার সাহেব বুযুর্গদের পোষাকে ছিলেন তাই তার সাথে বুযুর্গদের ব্যবহার করা হয়েছে৷ বিষয়টি এই হাদীসের বাস্তব চিত্র তুলে ধরলো- من تشبه بقوم فهو منهم যে যাদের সাথে সাদৃশ গ্রহণ করবে সে তাদের দলভুক্ত[১]৷ ব্যবহার তাদের মতোই পাবে৷ -অনুবাদক)

হযরত বলেন-একবার যখন আমার (হযরতওয়ালা হারদুঈ রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা) বাগদাদ যাওয়া পড়ে৷ তখন আমার ভাই ডাক্তার মাহমূদ শাহ রাহিমাহুল্লাহু তাআলা সেখানের একজন ভালো আলেম এবং ক্বারী সাহেবের সাথে সাক্ষাত করানোর জন্যে নিয়ে গেলেন৷ ভাইজান আমার পরিচয় দেয়া শুরু করলেন৷ তখন ক্বারী সাহেব বললেন- পরিচয় দেয়ার কোন প্রয়োজন নেই৷ কারণ, তাঁর (হযরতওয়ালার) চাল-চলন, পোশাক-আশাক, বেশভূষাই তাঁর পরিচয় দিয়েছে সে কে৷

হযরত বলেন-আজকাল দ্বীনের খাদেমগণ আর মাদরাসার ছাত্রদের পরিচয় দিতে হয়- অমুক এই মাদরাসার ছাত্র৷ অমুক ঐ মাদরাসার শায়খুত তাফসীর৷ অমুক ঐ মাদরাসার শায়খুল হাদীস৷

হযরত বলেন- এই পরিচয় দেয়ার নিয়ম কেন আসলো?

কারণ একটিই৷ সেটি হলো- সালিহীনদের(সৎলোক, বুযুর্গলোক) চাল-চলন, পোশাক-আশাক, বেশভূষা ছেড়ে দেয়া হয়েছে৷ তাহলে তো একথা সুস্পষ্ট যে- সাধারণ লোকদের থেকে আমাদের সাথে ব্যবহার ওই রকমই আসবে৷

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ