সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দেশে ফিরেছেন মালয়েশিয়ায় কুরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হাফেজ হিরা ইউপি নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে ইসির বৈঠক ‘নারী-শিশুর সহিংসতা ও যৌন হয়রানিতে 'জিরো টলারেন্স' কঠোরভাবে বাস্তবায়নের বিকল্প নেই’ আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক যা চাচ্ছে, নতুন সরকারও তাই চাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে ইউনিট প্রতি সাশ্রয় হবে ৫-৬ টাকা ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু আজ, প্রচারণার নির্দেশ আজও রিয়াদগামী ২ ফ্লাইট বাতিল, ৩ দিনে মোট ৯টি সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে ফের হামলা: নিহত ১, আহত ১১ স্ত্রীর মৃত্যুর সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর নামাজরত অবস্থায় প্রাণ হারালেন স্বামী সৌদি বিমানবন্দরে হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির ১৩ জনই ওমরাহযাত্রী

জুমার নামাজের আজানের পর যেসব কাজ করা যাবে না

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: জুমার দিনের মর্যাদা ও সম্মান সপ্তাহের অন্য দিনের চেয়ে বেশি। এই দিনকে আল্লাহ তায়ালা সব দিনের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।

জুমার গুরুত্ব আল্লাহ তায়ালার কাছে এতো বেশি যে, কোরআনে ‘জুমা’ নামে একটি স্বতন্ত্র সূরা নাজিল করা হয়েছে। এই দিনের ফজিলত সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থগুলোতে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

বিখ্যাত সাহাবি আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. বলেন, সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। রাসুল সা. একটি হাদিসে বলেছেন, মুমিনের জন্য জুমার দিন হলো সাপ্তাহিক ঈদের দিন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বর ১০৯৮)।

জুমার নামাজ প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ ও স্থায়ী মুসলমানের জন্য যথা সময়ে আদায় করা ফরজ। এদের জন্য জুমার নামাজ পড়া ফরজ এবং জুমার নামাজের আজানের পর নামাজের প্রস্তুতি ছাড়া অন্য যে কোনো কাজ করা হারাম বা নিষিদ্ধ; এ বিষয়ের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত এসেছে কোরআনে।

বর্ণিত হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ! জুমার দিন যখন নামাজের জন্য আজান দেয়া হয়; তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে দ্রুত বেরিয়ে পড় আর সব লেনদেন (বেচাকেনা) তখন বন্ধ করে দাও।’ (সুরা জুমআ: আয়াত ৯)

আমাদের দেশে জুমার দিন জুমার নামাজ উপলক্ষে দুইবার আজান দেওয়া হয়। একবার জুমার সময় শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগে আরেকটি জুমার খুতবার আগে। জুমার প্রথম আজানের পর অনেকেই খানাপিনা, গোসল, কাপড় ইস্ত্রি, কাপড় ধোয়া, কুরআন তেলাওয়াত ইত্যাদি কাজ করে থাকে। আলেমরা বলেন, জুমার আজানের পর এ সমস্ত কাজ করা ঠিক নয়।

বিশেষ করে জুমার দিন খুতবার আগ মুহুর্তে যেই দ্বিতীয় আজান দেওয়া হয় এরপর যে কোনো কাজ তথা লেনদেন (কেনাবেচা) সম্পূর্ণরূপে হারাম বা নিষিদ্ধ। এ সময় যারা লেনদেন বা বেচাকেনা করে তা অবৈধ ও বাতিল বলে গণ্য হবে।

তবে আলেমরা বলেন, জুমার প্রথম আজানের পর অন্য কোনো কাজে লিপ্ত না হয়ে মসজিদে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া এবং মসজিদের দিকে রওনা হওয়া জরুরি। এ সময় গল্পগুজব করা, কাপড় ধোয়া, কাপড় ইস্ত্রি করা, এমনকি ঘরে বসে কুরআন তিলাওয়াত করা অর্থাৎ জুমআর প্রস্তুতিমূলক কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজ করা মাকরূহে তাহরীমী।

অবশ্য নামাজের প্রস্তুতিমূলক কাজ যেমন-অজু, গোসল, কাপড় পরিধান ইত্যাদির সুযোগ রয়েছে। -(সহীহ বুখারী, হাদীস : ৮৭৮; ফাতহুল বারী ২/৪১৯; তাফসীরে কুরতুবী ১৮/৭০; আহকামুল কুরআন, থানভী ৪/৬৪; আলবাহরুর রায়েক ২/১৫৬; ফাতাওয়া উসমানী ১/৫৮০)

জুমার দিন জুমার খুতবা শুরু হওয়ার পর থেকে কোনও ধরনের কথা বলা নিষেধ এবং চুপ করে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা ওয়াজিব। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, “রাসুল (সা.) বলেছেন- জুমার দিন খুতবার সময় যদি তুমি তোমার সঙ্গীকে ‘চুপ করো’ বলো সেটাও অনর্থক।” (বুখারি, হাদিস: ৮৯২; মুসলিম, হাদিস: ২০০৫)

হাদিস দ্বারা সুদৃঢ়ভাবে প্রমাণিত হয়, খুতবার সময় নিশ্চুপ হয়ে খুতবা শোনা ওয়াজিব ও কথাবার্তা বলা হারাম। অনুরূপ খুতবার সময় সুন্নত-নফল নামাজ পড়াও বৈধ নয়। এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘যখন ইমাম খুতবার জন্য বের হবেন, তখন নামাজ পড়বে না, কথাও বলবে না।’ (মেশকাত, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৪৩২)

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ