আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: রহমত, মাগফিরাত ও মুক্তির মাস রমজান। এ মাসের পুরোটা জুড়েই আল্লাহ তাআলার রহমত-বরকত ও ক্ষমার বারিধারা অবিরাম বর্ষিত হতে থাকে। রমজানের দ্বিতীয় দশক সুখ-দুঃখের মিশি্রত অনুভবের এক সন্ধিক্ষণ। এ দশক একদিকে প্রথম দশক অতীত হয়ে যাওয়ার বিরহ বার্তা বহন করে, অপরদিকে সহস্র মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ কদরের রজনী নিকটবর্তী হওয়ার সুসংবাদ প্রদান করে। প্রথম দশকের বিয়োগ বেদনা নিয়ে দ্বিতীয় দশককে শতভাগ কাজে লাগানোর প্রাণান্তকর চেষ্টা করবে। গত হওয়া দিনগুলোর আমলের মুহাসাবা (পর্যালোচনা) করবে। ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য অনুতপ্ত হবে। পাশাপাশি শেষ দশকের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করবে।
দ্বিতীয় দশকের কিছু বিশেষ করণীয়
১. নেক আমলে জোর দেওয়া: সাধারণত দেখা যায়, রমজানের শুরুতে আমলের উদ্দীপনা যতটুকু ছিল দিনে দিনে তা হ্রাস পেতে থাকে। এমনটা উচিত নয়। রমজানের মতো ফজিলতপূর্ণ মাস চলে যাচ্ছে, এটা ভেবে দ্বিতীয় দশকে এসে একজন মুমিনের ইবাদতের পরিমাণ আরও বেড়ে যাওয়া উচিত।
২. বেশি বেশি ইস্তিগফার করা: কোনও কোনও বর্ণনায় বলা হয়েছে, রমজানের দ্বিতীয় দশক ক্ষমার। রমজানে নিজের পাপ ক্ষমা করাতে না পারার ভয়াবহতা সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, ‘একদা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে আরোহণ করে তিনবার বলেন, আমিন, আমিন, আমিন। জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি ইতোপূর্বে কখনও তো এরূপ করেননি? তিনি বললেন, জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আমাকে বললেন, ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক! যে পিতা-মাতা দুজনকে বা কোনও একজনকে জীবিত পাওয়ার পরও তাদের সেবা করে জান্নাত কামাতে পারলো না। আমি জিবরাঈলের এই দোয়ার উপর ‘আমিন’ বলেছি। অতঃপর তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক! যে রমজান পেলো অথচ নিজের গোনাহ মাফ করাতে পারলো না। আমি বলেছি ‘আমিন’। এরপর তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক! যার সামনে আমার নাম উচ্চারিত হলো অথচ সে আমার প্রতি দরূদ পড়লো না। আমি বলেছি ‘আমিন’।’ [আদাবুল মুফরাদ : ৬৫০]
৩. কোরআন তেলাওয়াত : হাদিসে আছে, কেয়ামতের দিন রোজা এবং কোরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। তাই এ মাসে কোরআনের সাথে একটি নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা চাই। বর্ণিত আছে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম রমজানের প্রতি রাতেই রাসুলের সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং পরস্পরে কোরআনের পাঠ আদান প্রদান করতেন।
৪. দান-সদকা করা : দান-সদকা রমজানের একটি বিশেষ সুন্নত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মাঝে সেরা দানবীর। রমজান মাসে তার দানের পরিমাণ এতই বেড়ে যেতো যে, তিনি মুক্ত বাতাসের চেয়েও বেশি উদারহস্তে দান করতেন। [তিরমিযি : ৬৬৪]
৫. কলব ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে গোনাহ থেকে হেফাজত করা: হাদিসে আছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলা এবং অসৎ কাজ করা পরিত্যাগ করেনি, রোজার নামে তার পানাহার পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোনও প্রয়োজন নেই। [বুখারি : ১৯০৩]
-একে